¦
দুর্দশায় চমেক বার্ন ইউনিটের রোগীরা

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

চলমান হরতাল-অবরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তদের হামলায় আহতরা চরম দুর্ভোগ ও দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসব মানুষ বিশেষ করে অর্থ সংকটে পড়েছেন। এ হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ও চিকিৎসা উপকরণ না থাকায় তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। মাত্র ২৬ বেডের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে শুক্রবার রোগী ভর্তি ছিল ৭০ জন। এর মধ্যে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন সাতজন। এরা হচ্ছেন- ট্রাক চালক তাজুল ইসলাম (৫০) ও আজিজুর রহমান (৪২), রাজমিস্ত্রী সাদ্দাম হোসেন (৩৬), রিকশা চালক ফজলুর রহমান (৫২), দিনমজুর ঝন্টু পাল (২৪), জলিলুর রহমান (২২) ও আনোয়ারুল ইসলাম (২০)। সাতজনের সবাই নিু আয়ের মানুষ। জীবিকার তাগিদে তারা অর্থ উপার্জনের উদ্দেশে বের হয়ে এখন মৃত্যুপথযাত্রী।
বার্ন ইউনিটে আহতদের দুর্দশা : বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ট্রাক চালক তাজুল ইসলামের স্ত্রী তাহেরা বেগম যুগান্তরকে জানান, হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ পাওয়া যায় না। দামি ওষুধগুলো বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। স্বামীর ক্ষত স্থানে ড্রেসিং করতে প্রতিবার ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগছে। স্বামীর উপার্জনে পরিবারের পাঁচজনের ভরণ-পোষণ চলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শরীরের ২৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। যেখানে একদিন কাজ না করলে পরদিন পরিবারের সদস্যদের না খেয়ে থাকার অবস্থা সেখানে ছোট ছোট তিন মেয়েকে নিয়ে কীভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছেন না তাহেরা বেগম।
১নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রিকশা চালক ফজলুর রহমান (৫২)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের ৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার ছেলে আমিনুর রহমান জানান, গত ১৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় আকবরশাহ থানার কর্নেলহাট এলাকায় পেট্রলবোমায় আহত হন বাবা। এখন পর্যন্ত তার অবস্থা শংকামুক্ত নয়।
অপর ট্রাকচালক আজিজুর রহমানের স্ত্রী শিল্পী আক্তার জানান, অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। স্বামীর উপার্জনের টাকা দিয়ে তার দুই মেয়ের লেখাপড়া চলে। এক টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার মতো আমাদের কেউ নেই।
রাজমিস্ত্রী সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী কুলসুম বেগম জানান, আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে চিকিৎসা খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আহত হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বড়ই কষ্টে আছি।
এছাড়া ঝন্টু পালের পুড়ে গেছে হাত, মুখ ও বুক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া জলিলুর রহমানের ১২ শতাংশ এবং আনোয়ারুল ইসলামের শরীরের ৯ শতাংশ পুড়ে গেছে।
২৬ বেডে ৭০ রোগী : মাত্র ২৬ বেডের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে শুক্রবার রোগী ভর্তি ছিল ৭০ জন। ডাক্তার, নার্স, আয়া, ওয়ার্ড বয় পর্যাপ্ত নেই।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হলেও তা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরো চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২ হাজার ২০০ রোগীর জন্য রয়েছে একটি মাত্র আইসিইউ ইউনিট।
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. মৃণালকান্তি দাশ যুগান্তরকে বলেন, একটি পরিপূর্ণ বার্ন ইউনিটে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা প্রয়োজন তা চমেকে নেই।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close