¦
থমকে আছে বেদখল জমি উদ্ধার প্রক্রিয়া

শেখ আবু হাসান, খুলনা থেকে | প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

খুলনা রেলওয়ের বেদখল হয়ে যাওয়া জমি উদ্ধারের উদ্যোগ থমকে গেছে। রেল কর্তৃপক্ষের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ছোট-বড়, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানঘর, বস্তি, ঝুপড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও স্কুল। দিনে দিনে রেলওয়ের নিজস্ব কাজে (অপারেশনাল) জমির পরিমাণ কমে আসছে। এছাড়া রেলস্টেশনের প্রবেশ করা রাস্তাটিও অঘোষিত ট্রাক টার্মিনালের কারণে সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে যাত্রী সাধারণকে স্টেশনে আসতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খুলনা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকার একাংশ, হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন, মশিউর রহমান মার্কেট, সোহরাওয়ার্দী মার্কেট, সাইকেল মার্কেট, ডাকবাংলো সুপার মার্কেট, নিক্সন মার্কেট, দরবেশ মার্কেট, জব্বার বিপণী, ভাসানী মার্কেট, ১ নম্বর লঞ্চঘাট এলাকার রেলওয়ে কর্মচারী মার্কেট, শেরে-বাংলা মার্কেট, কেডিএ নিউমার্কেটের সামনে সুপার মার্কেট ও স্টেশন রোড মার্কেট এই বিশাল এলাকা নিয়ে খুলনা রেলওয়ের সম্পত্তি।শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেলওয়ে স্টেশনের পাশে এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যালয়ের কাছে রেলওয়ের প্রায় ছয় একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে অসংখ্য বস্তি, ছোট ছোট দোকান, বাঁশ, বেড়া, হোগলা ও গোলপাতা বিক্রির ঘর।
রেলওয়ের ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট এলাকার এরশাদ আলী বিদ্যালয়ের পেছনে প্রায় ৯ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে প্রায় ৮০০ বস্তি ঘর। রেলওয়ের ৬ নম্বর ঘাট এলাকায় চার একর জমিতে বালু ও কয়লার ব্যবসা চলছে। নগরীর জোড়াগেট এলাকার পেছনে দুই একর জমিতে গড়ে উঠেছে দোকানঘর ও বস্তি। এছাড়া খুলনা রেলওয়ের সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অফিসের সামনে প্রায় এক একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঝুপড়িঘর। নিক্সন মার্কেটের পশ্চিম পাশের মানিক শপিং কমপ্লেক্সের আওতায় ১৫৪টি দোকানের মধ্যে ১৫টি অবৈধভাবে বর্ধিত জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে।
স্টেশন রোড এলাকার ব্যবসায়ী মাহবুবুল আলম যুগান্তরকে বলেন, দখলদাররা স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে এসব স্থানে স্থাপনা গড়ে তুলেছেন। ওই রাজনীতিবিদদের সঙ্গে রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব রেলের জমি দখল করা হয়। সরকার বদল হলে কেবল হাত বদল হয়। রাজনীতিবিদদের কারণে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলেও সফল হতে পারেনি। অভিযোগ বেশি হলে রেল কর্তৃপক্ষ মাঝে মাঝে নামকায়াস্তে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করেন বটে, কিন্তু তাতে অবৈধ দখলদারদের কোনো অসুবিধা হয় না। তারা বহাল তবিয়াতে রয়ে যায়। একই ধরনের কথা বলেন স্টেশন রোডের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল আলম প্রমুখ।
খুলনা রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের (কাচারী) কানুনগো আকমল হোসেন বলেন, রেলওয়ের জমির ওপর অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে কয়লা ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে লোকবলের অভাবে উচ্ছেদ অভিযান সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না। তিনি জানান, খুলনা রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ১৯৫ একর। এর মধ্যে রেলওয়ের নিজস্ব কাজে (অপারেশনাল) ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪০ একর। বাণিজ্যিক কাজে ১০ একর, কৃষি কাজে ৯ একর, মৎস্য চাষে ১৩ একর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে আড়াই একর জমি। এসব জমির মধ্যে ২০ থেকে ২২ একর জমি অবৈধ দখলদারদের দখলে রয়েছে। দখলদাররা এসব জমির ওপর মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, স্কুল, বস্তি ও দোকানঘর (মার্কেট) বানিয়েছে। এছাড়া খুলনা থেকে নওয়াপাড়া, রূপসা থেকে বাগেরহাট এবং রূপসা থেকে মংলা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা খুলনা কাচারীর অধীন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close