¦
পদ্মায় লঞ্চডুবি আরও ৮ মৃতদেহ উদ্ধার

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

পদ্মায় লঞ্চ এমভি মোস্তফার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় আরও ৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এদের মধ্যে দুজন শিশু, একজন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। এ নিয়ে লঞ্চডুবিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৭৯ জনে। রোববার পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি মোস্তফা লঞ্চ মাঝ পদ্মায় একটি সারবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে গেলে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
পাটুরিয়া নৌপুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গোলাম মোর্শেদ খাইরুল্লাহ জানান, বুধবার সকালে পদ্মায় নিখোঁজ যাত্রীদের অনুসন্ধানকালে হরিরামপুর উপজেলার পদ্মার বাল্লা, মালুচি, আন্ধারমানিক ও নবাবগঞ্জ জেলা থেকে এদের উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ঘিওর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার মো. জায়িদ হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শিবালয় উপজেলার এলাচিপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন, একই উপজেলার ছোট বোয়ালি গ্রামের সঞ্জিব সূত্রধর, দক্ষিণ তেওতা গ্রামের আবুল হাসেম (হাসু), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামের ইমন মোল্লা ও কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার যাদবপুর গ্রামের শিলন শেখের স্ত্রী লিপি আক্তার। সবাইকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া নবাবগঞ্জ এলাকার পদ্মা নদীতে উদ্ধার হওয়া মেয়েশিশুটি এখনও পাটুরিয়া আনা হয়নি।
এমিলির কান্না থামছে না : ফরিদপুরের নগরকান্দা গ্রামের ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী মো. ইউনুস আলী পেটের তাগিদে পরিবার-পরিজন ছেড়ে থাকতেন মানিকগঞ্জের সিংগাইরের মানিকনগর এলাকায়। দূরে থাকলেও প্রায় প্রতিদিনই মোবাইলে স্ত্রী সবিরনসহ পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা হতো। যে দিন লঞ্চটি পদ্মায় ডুবেছে সেদিন সকালেও ছেলে রায়হানের সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু এরপর ৪ দিন হয়ে গেল ইউনুস আলীর কোনো হদিস নেই। যেদিন ইউনুস আলীর বাড়ি ফেরার কথা ছিল সেদিনই পদ্মায় মর্মান্তিক লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ইউনুস আলীর খোঁজে স্ত্রী সবিরনের সঙ্গে এসেছে মেয়ে এমিলি ও ছেলে রায়হান। কিন্তু মেয়ে এমিলির বাঁধভাঙা কান্নায় পদ্মা পাড়ের এলাকা যেন ভারি হয়ে ওঠে। বাবার শোকে কাতর এমিলি জানায়, প্রায়ই বাবা তার খোঁজ নিতেন। আর কোনদিনও বাবার ফোন পাবে না। বলবে না মা তুই কেমন আছিস। এমিলির মতো আরও অনেক স্বজনের বুকফাটা আর্তনাদ আর চোখের জল যেন নদীর স্রোতের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। পদ্মায় এখন শুধু লাশের গন্ধ।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close