¦
আগারগাঁওয়ে বস্তিতে ভয়াবহ আগুন শিশুর মৃত্যু

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে একটি বস্তিতে আগুন লেগে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার শরীর পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। আগুনে কমপক্ষে একশটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র বের করারও সুযোগ পাননি বস্তিবাসীরা। সর্বনাশা আগুন তাদের নিঃস্ব করেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বুধবার এ ভয়াবহ আগুন লাগে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বস্তিবাসীরা জানিয়েছেন, আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশে সহিদের টেক বস্তিতে অন্তত একশ ঘর ছিল। ঘরগুলো টিন ও কাঠের তৈরি। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বস্তির দক্ষিণপাশে ধোঁয়া উঠতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বস্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। আতংক ছড়িয়ে পড়ে বস্তি ও এর আশপাশ এলাকায়। প্রাণে বাঁচতে তারা ঘরে মালামাল রেখে বাইরে বের হয়ে আসেন। অনেকে ঘরের আংশিক জিনিসপত্র বের করতে পারলেও অধিকাংশ ঘরের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ছয় বছরের শিশু সজিব শেখ ঘরে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সে আগুনে পুড়ে মারা যায়। সেসময় ঘরে কেউ ছিল না। এছাড়া বস্তির অধিকাংশ মানুষ সেসময় কর্মস্থলে ছিলেন। আগুনের খবর শুনে অনেকে ছুটে আসেন শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে। কিন্তু তার আগেই সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী হালিমা জানান, সজিবের নানী আনোয়ারা সজিবকে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রেখে বাইরে ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে তিনি ছুটে এসে দেখেন ঘর জ্বলছে। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। খুঁজতে থাকেন নাতিকে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সজিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অনেক আগেই আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান ডাক্তার। দুপুর দেড়টার দিকে সজিবের বাবা তুহিন শেখ হাসপাতালে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। তিনি জানান, স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে বস্তিতে থাকেন তিনি। বুধবার তার স্ত্রী আসমা কিডনিজনিত রোগের চিকিৎসার জন্য মিরপুরে একটি হাসপাতালে যান। তার বড় ছেলে ও মেয়ে বাসায় ছিল না। ফলে সজিবকে নানী আনোয়ারা কাছে রেখে যায় তার মা। আনোয়ারা সজিবকে ঘুম পাড়িয়ে বাইরে যান।
এ সময় সে আগুনে পুড়ে মারা যায়। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সজিবের পরিবারের সদস্যদের হাতে ২০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত সজিবের মায়ের চিকিৎসার জন্য আরও পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বস্তির সব ঘর পুড়ে টিনগুলো কালো হয়ে মাটিতে পড়ে আছে। নিজের ঘর চেনার উপায় নেই কারোর। সবাই আহাজারি করছেন। গৃহিণী শামীমা বলেন, আমার সব পুড়ে গেছে। এখন কোথায় গিয়ে উঠব। সেলিনা বলেন, ঘরভর্তি জিনিস সর্বনাশা আগুনে পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া এখন আর কিছুই নেই। ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক এবিএম নুরুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রান্নার চুলা থেকে এই আগুনের শুরু বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close