¦
মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন হলে খাদ্যে ভেজাল রোধ সম্ভব

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৫

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ভেজাল খাদ্য ব্যবসায়ীদের মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তি হওয়া উচিত। মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন হলে খাদ্যে ভেজাল রোধ করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসের উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার : সুস্থ জীবনের অঙ্গীকার স্লোগানে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন আয়োজেন দিবসটি পালন করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষকে সুস্থ জীবন ও নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে সরকারের। সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে এক্ষেত্রে কাজ করছে। তিনি বলেন, খাদ্যে ভেজালের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা ব্যাপক। জনগণকে এ লক্ষ্যে সচেতন করে তোলাই প্রাথমিক দায়িত্ব। জনগণ যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তাহলেই খাবারে ভেজাল মেশানো বন্ধ করা সম্ভব হবে। জনসচেতনতা বাড়ালে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ভেজাল খাবার বলে কিছুই থাকবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খাদ্য পরিদর্শকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তাদের মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের বলে দেয়া হয়েছে, যারা খাদ্যে ভেজাল মেশায় তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেয়ার জন্য। তারা বেতন-ভাতা নিবে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে না তা হতে পারে না। ভেজালের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে না পারলে চাকরি করার দরকার নাই।
স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মন্জুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. দীন মো. নূরুল হক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক নূর হোসেন তালুকদার, বিএমএ সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান, বিএমএ মহাসচিব ডা. এম ইকবাল আর্সলান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি এন পারানিথারান, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডেভিড ডব্লিউ ডোনার্ট প্রমুখ।
সুপ্রর মানববন্ধন : স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের সিংহভাগ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যয় করা, মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করাসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের যথাযথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে। সুপ্র আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান। ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৫ এবং নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এর যথাযথ বাস্তবায়নের দাবিও জানান বক্তারা। স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সংগঠন সুপ্রর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে।
সুপ্রর সহযোগী সমন্বয়কারী মো. আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সুপ্রর সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম ও সাকেরা নাহার। উপস্থিত ছিলেন সুপ্রর সহযোগী সমন্বয়কারী এনামুল হক ইমরান, দিল আফরোজ দ্যুতি ও মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ইউনাইটেড হসপিটলের বিভিন্ন কার্যক্রম : বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ইউনাইটেড হসপিটাল রেডিওতে স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক প্রচারণা, সপ্তাহব্যাপী বিশেষ হেলথ স্ক্রিনিং প্যাকেজ, দিনব্যাপী ফ্রি স্বাস্থ্য পরামর্শ ও স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক বুথ কার্যক্রম হাতে নেয়। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান হসপিটাল লবিতে স্বাস্থ্য সচেতনতাবিষয়ক বুথটি উদ্বোধন করেন।
স্বাস্থ্য দিবস নিয়ে যুগান্তর ব্যুরোর পাঠানো খবর-
বরিশাল : সকাল ৯টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করে বরিশাল সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশন। পরে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. এটিএম মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আবদুল ওহাব, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বাসুদেব কুমার দাস, ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, আনোয়ার জাহিদ প্রমুখ।
বগুড়া : সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে শহরে শোভাযাত্রা বের করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শফিকুর রেজা বিশ্বাস প্রধান অতিথি ছিলেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আফজাল হোসেন তরফদার, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের উপপরিচালক ওয়াজিউল ইসলাম, বগুড়া পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান প্রমুখ।
খুলনা : সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বেলুন উড়িয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসের উদ্বোধন করেন। এরপর শোভাযাত্রা বের হয়। পরে নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মো. মোস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. ইয়াছিন আলী সরদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. এম মোর্শেদ আহমেদ।
সিলেট : স্বাস্থ্য বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের যৌথ উদ্যোগে সকালে সিলেটের সিভিল সার্জনের অফিস প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে সিভিল সার্জন হলরুমে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরে আলম শামীমের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার ডা. রাহিলের পরিচালনায় আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালক ডা. হরিপদ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডা. শেখ এমদাদুল হক, কর্মকর্তা সুজন বণিক, ইউনিসেফের ডা. সাদি, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. চিরনজিত দাস।
ফরিদপুর : নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সভাকক্ষে দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এবং ব্র্যাকের সহযোগিতায় আলোচনা সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তরুণ মণ্ডল। এর আগে শোভাযাত্রা এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ৩৫ কমিউনিটি ক্লিনিকের মালিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close