¦
এত্ত বড় শপিংমল পার্কজুড়ে বর্ণিল সাজে দেশী-বিদেশীরা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। এ উৎসবে বিশ্বখ্যাত দেশের বৃহত্তম শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্কে নানা ছন্দে আর বর্ণিল সাজে মেতে উঠেছিল হাজার হাজার মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শপিংমলে দলে দলে সমবেত হতে থাকে নানা বয়সী মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুপুরের দিকেই পার্ক উপচে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে মানুষ। বিকালের মধ্যে পার্কসহ আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল যথেষ্ট। বিনোদন পার্কসহ শপিংমলের ফ্যাশন হাউস, ফুডকর্নার, ফিউচার ওয়ার্ল্ড, কার্নিভাল, প্লেয়ার ক্লাব, ভোগ লাইফস্টাইল লাউঞ্জ হয়ে উঠেছিল উৎসবের শামিল। লাল-সাদা তাঁতের শাড়ি, মাথায়, খোঁপায় ফুলের মালা, হাতে রেশমি কাচের চুড়ি ছিল নারীদের সাজে। পুরুষের রঙিন পাঞ্জাবি। রংতুলি হাতে পার্কের বাইরে রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত আঁকিয়ের দল। অনেকের মাথায় ছিল নতুন গামছা। তীব্র রোদ পেরিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মলে ঢুকলেই যেন মহাপ্রশান্তি। হাতে হাতে প্লাস্টিকের বাঁশিতে পোঁ পোঁ আওয়াজ তুলছিল চারদিকে। যমুনা ফিউচার পার্ক পরিণত হয়েছিল আনন্দনগরে। যে আনন্দে শামিল হয়েছিল বিদেশীরাও।
সকাল থেকে শপিংমলটির ভেতর ফ্রি মেহেদি উৎসবের আয়োজন করে স্মার্ট একটিভ গোল্ড মেহেদি, শাহজাদী গোল্ড মেহেদি ও এলিট গোল্ড মেহেদি। দক্ষ আঁকিয়ের দল কাজ করছিল টানা। তাদের দিকে চিবুক, হাত কিংবা বাহু বাড়িয়ে দেয়া মাত্র রঙিন হয়ে উঠছিল নানা নকশায়। মেহেদি লাগাচ্ছিলেন বৃদ্ধারাও। মিরপুর থেকে আসা আমেনা খাতুন বলছিলেন, নাতনি শোভা ও তিশা বৈশাখে এ পার্কে (যমুনা ফিউচার পার্ক) নিয়ে এসেছে। বাইরে অনেক রোদ, ভেতরে আসতেই প্রাণটা জুড়িয়ে গেল। নাতনিদের সঙ্গে তিনিও স্বস্তিতে মেহেদি লাগালেন। শাহজাদী গোল্ড মেহেদির ম্যানেজার আলমগীর সিনহা জানান, বৈশাখী উপলক্ষে এ শপিংমলে ১২ এপ্রিল থেকেই ফ্রি মেহেদি লাগাচ্ছেন একটি নকশা আঁকিয়ের দক্ষ দল। তিনি জানালেন, পহেলা বৈশাখ সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত প্রায় ২ হাজার জনকে নানা ধরনের নকশায় মেহেদি পরানো হয়েছে। স্মার্ট একটিভ গোল্ড মেহেদির সমন্বয়কারী হাম্মাদ আমীন জানান, ৮-১০ জন আঁকিয়ের একটি দল টানা মেহেদি লাগাচ্ছেন, রাতে হিসাব করা হবে কতজনকে লাগিয়েছেন। তবে কোনো আঁকিয়ে বসে নেই, টানা কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক মানুষ আসছেন, যাদের হয়তো এক শতাংশকে মেহেদি লাগাতে পারছেন তারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, আনন্দ-উল্লাস যে রোদ-বৃষ্টি মানে না, তা বোঝা গেল পার্কটির সব কটি রাইডে চড়া দেখে। সকাল থেকেই প্রতিটি রাইডে চড়ে বেড়াচ্ছিল শিশু, তরুণ-তরুণী, মধ্য বয়সীরাও। রাইডের সংখ্যা বেশি থাকায় সব বয়সীই চড়তে পেরেছেন রাইডগুলোতে। পার্কটির ভেতরে প্রবেশের প্রধান গেট ও রাস্তাটি অনেক চড়া থাকায় শত শত লোক একসঙ্গে ঢুকছিল পার্কটিতে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় রাইডে চড়া স্বজনদের আনন্দ-উল্লাস দেখছিল সঙ্গে আসা অন্য স্বজনরাও। উপভোগ করছিল অন্যরাও। উত্তরা ১০ নম্বর থেকে আসা শিউলী চৌধুরী ৩ সন্তান নিয়ে এসেছেন। সন্তানদের জন্ম ইতালিতে। দুবছর ধরে বাংলাদেশেই থাকছেন। স্বামী ওখানে ব্যবসা করছেন। তিনি জানালেন, এ পার্কটি (যমুনা ফিউচার পার্ক) দেশের গর্ব, এখানে এসে প্রাণটা জুড়িয়ে গেল।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close