¦
বানারীপাড়ায় দুর্বৃত্তের এসিডে ঝলসে গেছে দুবোনের শরীর

বানারীপাড়া প্রতিনিধি | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

বানারীপাড়ায় রাতের আঁধারে ঘুমন্ত শিশু শিক্ষার্থী সুমাইয়া আকতার ইতি ও তার বোন ঝুমুর খানম এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। এসিডে দুবোনের পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঝলসে ক্ষতর সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরোৎদ্দার গ্রামে রিকশাচালক আবদুল জলিল খানের বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতেই কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আকতার ইতি ও তার মেঝ বোন স্বামী পরিত্যক্তা ঝুমুর খানমকে গুরুতর আহত অবস্থায় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরের দিন বুধবার দুপুরে ওই দুবোনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে তাদের চিকিৎসা খরচ ও আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য এনজিও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে চাখার শাখার মাঠকর্মী রিনা খাতুন ও তানিয়া খানমকে নিয়োজিত করা হয়েছে। খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান ঘটাস্থলে পৌঁছামাত্র স্থানীয় হেমায়েত বালী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। তাকে ধরতে গিয়ে আহত এএসআই বেল্লাল হোসেনকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বুধবার দুপুরে স্কুল শিক্ষার্থীর মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে স্থানীয় নেজারত বালীর ছেলে হেমায়েত বালীকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। ওসি জিয়াউল আহসান ওই মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত ইন্সেপেক্টর (ওসি) ইকবাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়ে ওসি জিয়াউল আহসান বলেন, এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
চিকিৎসাধীন ঝুমুর খানম জানায়, মঙ্গলবার রাতে সে ও তার ছোট বোন সুমাইয়া আকতার খাবার খেয়ে তাদের ঘরে খাটে ঘুমিয়েছিল। ওই রাতে তাদের শয়নকক্ষের বিছানার পাশের জানালা দিয়ে সন্ত্রাসীরা তার ও তার ছোট বোনের ওপর এসিড ছুড়ে মারে। ঝুমুর জানায়, হেমায়েত বালীর সঙ্গে বড় বোন মরিয়ম খানম ও তার বোনজামাই বাহরাইন প্রবাসী মহিবুল সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। হেমায়েত ওই বিরোধের জের ধরে বিভিন্ন সময় তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ৪/৫ দিন আগে তার সঙ্গে কথা আছে বলে বাড়িসংলগ্ম মসজিদের পাশে তাকে ডেকে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ঝুমুর তার কথা শুনতে রাজি না হওয়ায় ও তার বড় বোন-জামাইর সঙ্গে পূর্ব বিরোধের জের ধরে হেমায়েত তাদের ওপর এসিড ছুড়ে মেরেছে বলে জানায়। এতে তার ও তার ছোট বোন কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আকতার ইতির পিঠে ও শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। ঝুমুরের মা সাফিয়া বেগম জানায়, তার মেয়েকে হেমায়েত বালী প্রায়ই আপত্তিকর কথাবার্তা বলত। সে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার মেয়েদের ওপর এসিড ছুড়ে মারতে পারে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে বানারীপাড়ায় শিশু শিক্ষার্থী সুমাইয়া আকতার ও ঝুমুর খানমের ওপর এসিড ছুড়ে মারার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দার পাশাপাশি এনজিও কর্মী ও মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close