¦
খুলনায় বিদ্যুতের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হচ্ছে

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০১৫

খুলনার পাওয়ার হাউস হিসেবে পরিচিত গোয়ালপাড়ায় থাকা বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান বার্জ মাউন্টেড, টিজি-১৪, জিটি-৩৫ এবং ডিজেল চালিত ১৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র যথাযথ সংস্কার না হওয়ার কারণে স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করা হয়। এখানে ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট দুটি ইউনিটই ছিল ভরসাস্থল। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলায় তাও আজ ধ্বংসের পথে। ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির ওভারহোলিং না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ৩১ বছরে এটি মাত্র ৪ বার ওভারহোলিং হয়েছে। আর ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ওভারহোলিং হয় ৫ বার- যা গত দুবছর ধরে বন্ধ রয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী নর্থ ওয়েস্টার্নের দেড়শ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্টটি দুবছরের মাথায় ওভারহোলিং করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। পরিকল্পনার অভাবে এভাবে সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হচ্ছে। আর সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্ম অভিজ্ঞতা নিয়েই সক্রিয় থেকে লাভবান হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীনতায় খুলনায় সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো একে একে ধ্বংস হচ্ছে। অথচ ওই সব কর্মকর্তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারকে চাপে রাখছে। ভোগান্তিতে রেখে জনগণের অর্থই শোষণ করে চলেছে। খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফার্নেস অয়েলনির্ভর এ দুটি কেন্দ্র ওভারহোলিং করে আবার চালুর দাবি প্রতিনিয়তই উপেক্ষীত হয়েছে। ৪০ বছরের পুরনো ধুয়া তুলে খুলনার ঐতিহ্যবাহী দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের চূড়ান্ত চক্রান্ত চলছে। ষড়যন্ত্র করে দুবছর আগেই ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়েছে। আর এবার ১১০ মেগাওয়াটকে ওভারহোলিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মৃত্যুঘণ্টা নিশ্চিত করা হল। জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে ১১ কোটি ২০ হাজার ইউএস ডলার ব্যয়ে স্কোডা এক্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলনায় ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ম্যানুয়াল অনুযায়ী ২৫ থেকে ২৭ হাজার ঘণ্টা চালানোর পর ওভারহোলিং করার কথা ছিল। শুরু থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত টানা ১ লাখ ৩১ হাজার ৮১০ ঘণ্টা চলে এ কেন্দ্রটি। এরপর ১৯৮৯ সালের ২২ জুন থেকে ১৯৯১ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত প্রথম দফা ওভারহোলিং হয়। ১৯৯৫ সালে মিনি ওভারহোলিং, ১৯৯৮ সালে আংশিক পুনর্বাসন এবং ২০০০ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত দ্বিতীয় ওভারহোলিং হয়। এরপর কেন্দ্রটি চলে ৫৪ হাজার ২১ ঘণ্টা। ২০১৪ সালের ৬ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রটি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। আর ১৯৭৩ সালের ২৫ মে স্থাপিত ৬০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটির নির্মাতা স্কোডা এক্সপোর্ট। এটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৭ কোটি ইউএস ডলার। এটিও ২৫ থেকে ২৭ হাজার ঘণ্টা চলার পর ওভারহোলিংয়ের কথা ছিল। কিন্তু ১ লাখ ৩০ হাজার ৮৫৩ ঘণ্টা চলার পর ১৯৭৭ সালে প্রথম দফায় ওভারহোলিং হয়। ১৯৮১ সালে দ্বিতীয় দফায়, ১৯৯৭ সালে পুনর্বাসন, ২০০৫ থেকে ২০০৬ এবং ২০০৭ থেকে ২০১০ সালে দুদফায় টারবাইন ওভারহোলিং হয়। ২০১০ সালের ৩০ মে এ কেন্দ্রে আগুন লাগার পর বিদেশী সহায়তায় এর সংস্কার করতে ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close