¦
উচ্চ প্রযুক্তির সক্ষমতায় র‌্যাব

সৈয়দ আতিক | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

শিগরিগরই র‌্যাবের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রযুক্তিগত সংকট কেটে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই তারা পাচ্ছে আরও উচ্চ প্রযুক্তির সক্ষমতা। পাশাপাশি র‌্যাবপ্রধানও পাচ্ছেন গ্রেড-১-এর মর্যাদা। ঢাকা সিটি নির্বাচনে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নির্বাচনমুখী সন্ত্রাসী দমনেও র‌্যাব অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের জনবল সংকট নিরসন, ঝুঁকি কমিয়ে আনা, চৌকস কর্মকর্তা ধরে রাখার ক্ষমতা, র‌্যাবে থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অর্জিত রাষ্ট্রীয় সম্মান পিপিএম-বিপিএম ব্যবহারের অনুমতি এবং অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। র‌্যাব সদস্যরা যাতে কোস্টাল এলাকাতেও ক্ষিপ্রগতিতে আভিযান এবং তৎপরতা চালাতে পারে সে জন্য সরঞ্জাম ও আরও উচ্চ প্রযুক্তি প্রদান করা হচ্ছে শিগগিরই।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় প্রধানমন্ত্রী সিটি নির্বাচনে কোনো নাশকতা ছাড়াই সম্পন্ন হওয়ায় আইনশৃংখলা বাহিনী কোন কোন ইউনিটে কী কী সমস্যা ও সংকট আছে তা জানতে চান। তখন অন্যান্য আলোচনার মধ্যে র‌্যাবের সংকট ও দাবিগুলোর কথা উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের।
এ বছর র‌্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দরবার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে র‌্যাব কর্মকর্তারা তাদের নানাবিধ সমস্যা, সংকট ও দাবি তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীও র‌্যাব কর্মকর্তাদের এসব সংকট নিরসনের আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওই সূত্রটি জানায়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনার পাশাপাশি র‌্যাবের সংকট ও দাবিগুলোকে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দেন। এ বাহিনীকে বিশ্বের সর্বাধুনিক উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন (হাইটেক) একটি বিশেষায়িত বাহিনীর রূপ দিতেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি মঙ্গলবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, খুব দ্রুতই আশা করছি র‌্যাবে নতুন প্রযুক্তি যোগ হবে এবং তাদের দাবিও পূরণ হবে। একইসঙ্গে এ বাহিনীর সব সংকট মোকাবেলায় আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করছি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশও দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, র‌্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যা যা করণীয়- সবকিছু যথাযথভাবে করতে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আগামীতে র‌্যাবকে বিশ্বমানের একটি বাহিনীতে পরিণত করতে যাচ্ছি।
র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে র‌্যাবের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু দাবি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ঝুঁকি কমাতে ও নিজেদের নিরাপত্তায় আয়কর শিথিল করে র‌্যাবের সদস্যস্যের ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান। পাশাপাশি র‌্যাবের জনবল সংকট মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছিল। ওইদিন দরবারের আলোচনায় স্থান পায় পিপিএম ও বিপিএম মর্যাদার ব্যবহার নিয়েও। র‌্যাবে থাকা অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিপিএম ও পিপিএম পেলে তা বাহিনীতে ফিরে যাওয়ার পর নামের শেষে এ মর্যাদা ব্যবহার করতে পারেন না। এখন থেকে যাতে এ পদবি ব্যবহার করতে পারেন সদস্যরা সে বিষয়ে জটিলতাও কেটে যাচ্ছে। নামের শেষে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অর্জিত রাষ্ট্রীয় পদবি ব্যবহার করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে দাবি উত্থাপন করেছিলেন তাও বাস্তবায়ন হচ্ছে। পদবি ব্যবহারের পাশাপাশি পাবেন মাসিক ঝুঁকি ভাতাও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাবের মহাপরিচালকের পদটি গ্রেড-১-এ উন্নীত করার যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সেটিও আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। র‌্যাবপ্রধান তার ক্ষমতা বলে এখন থেকে ভালো চৌকস কর্মকর্তা বাহিনীতে ধরে রাখতে পারবেন। মেয়াদ শেষ হলে দক্ষ, মেধাবী ও চৌকস সদস্যরা বাহিনী ছেড়ে যান। এখন চাইলে তাদের রাখা যাবে। এ বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে সরকারের কাছে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স উইং শুরু থেকেই সাফল্যের সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঘটনা ঘটার পূর্বে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন ও কখনও কখনও অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরে ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গোপনে ও সুকৌশলে রহস্য উন্মোচন করে থাকে।
র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, দ্রুত, গোপনীয় ও কার্যকরী যোগাযোগ এবং এমআইএস সেবা প্রদানের লক্ষ্যে র‌্যাব সদরদফতরে কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমআইএস উইংয়ের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গরূপে শুরু হয়। পূর্বে অপারেশনস উইংয়ের একটি বর্ধিত শাখা হিসেবে এর কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কমিউনিকেশন অ্যান্ড এমআইএস উইংয়ে আরও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন হচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, র‌্যাবের সবগুলো উইং সরকার ঢেলে সাজাতে পরিকল্পনা করছে। আর এ জন্য র‌্যাবের পক্ষে একটি পরিকল্পনা ছক প্রদান করা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এলিট ফোর্স র‌্যাব অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসমৃদ্ধ স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বাহিনীতে পরিণত হবে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close