¦
বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬২ ছিটমহলে আনন্দের বন্যা

আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম থেকে | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

আসামকে রেখেই স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। নানা জটিলতা ও জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার ভারতের মন্ত্রিসভায় স্থলসীমান্ত চুক্তি (সংবিধান সংশোধন) বিলটি অনুমোদন করা হয়। বুধবার তা রাজ্যসভায় পেশ করার কথা রয়েছে। সেখানে পাস হলে তোলা হবে লোকসভায়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বিলটি অনুমোদনের সংবাদ শুনে বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২টি ছিটমহলের মানুষ আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন। তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে তাদের দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দি-জীবনের অবসান ঘটবে। নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি উন্নত আধুনিক জীবনের সুযোগ পাবেন তারা। মিলবে রাষ্ট্রীয় পরিচয়। বংশ পরম্পরায় এমন স্বপ্নই দেখে আসছেন ছিটমহলবাসী।
মঙ্গলবার বিকালে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বাড়ির আঙিনা, টংঘর, বাজার, ক্ষেত-খামার, পথে-ঘাটে মানুষ সীমান্ত চুক্তি বিলটি অনুমোদনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের মধ্যে অনেককে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তারা কাজকর্ম ফেলে আনন্দে মেতে ওঠেন। আনন্দে একে অন্যকে আলিঙ্গন করেন। বিলানো হয় মিষ্টি। ছিটমহলের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, এবার আমরা খাঁচার বন্দি-জীবন থেকে মুক্তি পাব। আমাদের আনন্দ প্রকাশের কোনো ভাষা নেই। আনন্দাশ্র“ চোখে কৃষক সুরত আলী বলেন, আমরা অতি তাড়াতাড়ি বাংলাদেশের নাগরিক হতে যাচ্ছি, এর চেয়ে ভালো খবর আর কী হতে পারে। স্কুলছাত্রী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, এখন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকতে পারব। বুক উঁচু করে পরিচয় দিতে পারব। মিথ্যে পরিচয় দিয়ে স্কুল-কলেজ বা হাসপাতালে যেতে হবে না। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিমিয় সমন্বয় কমিটি ভারত ইউনিটের সহসাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত জানান, বিলটিতে আসাম রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা তা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। কারণ আসাম বিজিপির পক্ষ থেকে সীমান্ত চুক্তি থেকে আসামের ছিটমহলগুলো বাদ দেয়ার চাপ দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। সীমান্ত চুক্তি থেকে আসামকে বাদ দেয়া হলে কংগ্রেস বিলে সমর্থন দেবে না বলে হুশিয়ার করে দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে বিজিবির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহার বাসভবনে জরুরি বৈঠক বসে। সেখানে আসাম বিজিবির সভাপতি সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যসহ দলের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আসামকে রেখেই বিলটি পাসের সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, বিলটি পাসের ব্যাপারে ছিটমহলবাসীর আর কোনো সংশয় নেই। তবে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে ছিটমহলবাসী আবারও আন্দোলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর নজর কাড়বে।
ছিটমহলের অবস্থান : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার অভ্যন্তরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ১৮টি এবং লালমনিরহাট জেলায় ৩৩টিসহ মোট ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর। এতে বাংলাদেশের লোকসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ভারতের কুচবিহার জেলার অধীনে ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। যার আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। এসব ছিটমহলে ভারতের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার। ১৯৭৪ সালে মুজিব ও ইন্দিরার মধ্যে যে ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাতে এসব ছিটমহল বিনিময় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ডিমলায় বাঁধভাঙা আনন্দ : ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, ভারতের মন্ত্রিসভায় স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হওয়ায় ডিমলায় বাঁধভাঙা আনন্দ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর মধ্যে এ সময় মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ছিটমহলবাসী এখন দ্রুত বিনিময় চুক্তি বাস্তবায়ন চান।বড়খানকিবাড়ি খারিজার বাসিন্দা যদুনাথ চন্দ্র রায় বলেন, ৬৮ বছরের বন্দিদশা থেকে আমরা মুক্তি পেতে যাচ্ছি। আমাদের রাষ্ট্রীয় কোনো পরিচয় নেই। আমরা জমি বিক্রি করতে পারি না, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য স্কুলে ভর্তি করতে পারি না। আশা করি, এবার এ অবস্থার অবসান হবে। তালুক বড়খানকি খারিজার মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের সন্তানদের আর গোপন ঠিকানায় স্কুলে ভর্তি করতে হবে না।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close