¦
রাজশাহীর বিতর্কিত ওসিকেই দেয়া হচ্ছে এক নম্বর থানায়

রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

রাজশাহীর তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গ্রেফতার বাণিজ্যে অভিযুক্ত বহুল বিতর্কিত বোয়ালিয়া থানার সাবেক ওসি আলমগীরকে জেলার প্রধান থানা গোদাগাড়ীতে পোস্টিং দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনা জানাজানির পর সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গোদাগাড়ীর রাজনৈতিক মহলেও এতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ওসি আলমগীরকে সোমবার জেলায় বদলি করা হয়েছে। তাকে গোদাগাড়ী থানার ওসি হিসেবে বদলির সুপারিশ রয়েছে। দুএকদিনের মধ্যেই তাকে সেখানে বদলি করা হবে।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) এলাকার সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বিতর্কিত এ পুলিশ কর্মকর্তাকে তার থানায় পোস্টিং দেয়ার খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এসব কী হচ্ছে? যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ সে গোদাগাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ থানা চালাবে কীভাবে? তিনি এ ব্যাপারে এসপিকে তার অভিমত জানিয়েছেন। জানা গেছে, ২৭ এপ্রিল আরএমপির বোয়ালিয়া থানা থেকে ওসি আলমগীরকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করে পুলিশ সদর দফতর। সোমবার বোয়ালিয়া থানা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির অফিসে যোগদান করেন। ওইদিন তাকে জেলায় বদলি করেন রেঞ্জ ডিআইজি ইকবাল বাহার। বিষয়টি প্রথমদিকে গোপন রাখা হয়।
জেলা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সোমবার জেলায় যোগদানের পর থেকে ওসি আলমগীরকে গোদাগাড়ীতে দেয়ার জন্য ডিআইজি অব্যাহতভাবে চাপ দিচ্ছে এসপিকে। জেলা এসপি বিতর্কিত এ ওসিকে গোদাগাড়ীর মতো গুরুত্বপূর্ণ থানায় পোস্টিং দিতে না চাইলেও ডিআইজির চাপে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে ওসি আলমগীরকে বোয়ালিয়া থানা থেকে সরানোর আগেই ডিআইজির সুপারিশে পুলিশ সদর দফতর তাকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করে।
বিতর্কিত এ ওসিকে গোদাগাড়ীতে পোস্টিং দেয়ার খবরে সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহীর একজন সিনিয়র সাংবাদিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যার শাস্তি হওয়ার কথা তাকেই পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর কবীর বলেন, তাকে গোদাগাড়ীতে দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সুপারিশ রয়েছে। তিনি সে আদেশ কার্যকর করতে বাধ্য।
ওসি আলমগীরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে ভালো থানায় পোস্টিংয়ের খবর বিস্ময় প্রকাশ করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, অভিযোগ প্রমাণের পরও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক না নেয়া রহস্যজনক।
রাজশাহীর সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ অভিযোগে বলেন, ওসি আলমগীর বোয়ালিয়া থানায় গত তিন মাস ১৫ দিন দায়িত্ব পালনকালে শুধু গ্রেফতার বাণিজ্য করেই কোটি টাকা অবৈধভাবে কামাই করেন। এছাড়া মাদক ও নগরীর হোটেলগুলো থেকে মাসে মাসে ২০ লাখ টাকা করে মাসোহারা তুলেছেন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close