¦
লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশংকা

মামুন আব্দুল্লাহ | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

উন্নয়নে দাতাদের প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে দাতাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২৪৭ কোটি ডলার- যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। অথচ বছর শেষে প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিশ্রুতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বছরের শুরু থেকেই তৎপরতা বাড়িয়েছে ইআরডি। আলোচ্য সময় পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি আদায়ের হার কম মনে হলেও আগামী মাস নাগাদ দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও জাপানভিত্তিক সংস্থা জাইকার কাছ থেকে বড় অংকের প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে। এতে প্রতিশ্রুতি আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা তা পুরোপুরি না হলেও কাছাকাছি পৌঁছা সম্ভব হবে।
ইআরডি থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের (জুলাই-মার্চ) ৯ মাসে দাতা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২৪৭ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের পরিমাণ ২১৩ কোটি আর অনুদান ৩৪ কোটি ডলার। গত বছর একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৯০ কোটি ৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। কেননা গত অর্থবছরে দাতাদের প্রতিশ্র“তি আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০০ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে এর চেয়েও বেশি অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করছে ইআরডি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে আগামী মাস নাগাদ প্রায় তিনটি প্রকল্পে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। মঙ্গলবার নতুন জীবন প্রকল্পে ২০ কোটি ডলার সহায়তা দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি।
তিনি বলেন, খুব শিগগিরই জাপানের সঙ্গে বড় অংকের একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। এতে বছর শেষে প্রতিশ্রুতি আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা তা পূরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ইআরডি সূত্র জানায়, আলোচ্য সময়ে প্রতিশ্রুতি কমলেও অর্থ ছাড়ের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত সর্বমোট ২১৮ কোটি ৮ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে ১৭৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এবং ৩৮ কোটি ১১ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে অনুদান সহায়তা হিসেবে। গত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ২১৭ কোটি ১৪ লাখ ডলারের বৈদেশিক সহায়তা ছাড় হয়েছিল।
জানা গেছে, উল্লিখিত সময়ে ছাড় বাড়লেও দাতাদের কাছে পুঞ্জীভূত পাওনা থেকে অর্থ পরিশোধের পরিমাণ এবার কিছুটা কমেছে। বিগত অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে সুদ ও আসল মিলে দাতাদের অনুকূলে মোট ৯৮ কোটি ৭৫ লাখ ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৮৬ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে আসল হিসাবে ৭১ কোটি ৬০ লাখ এবং সুদ হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছে ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।
জানা গেছে, অর্থবছরের দশ মাস পর্যন্ত দাতাদের পাওনা পরিশোধের পর বৈদেশিক ঋণের স্থিতি গত অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে। এ সময়ে বৈদেশিক সহায়তার স্থিতি দাঁড়িয়েছে মোট ১৬১ কোটি ৬১ লাখ ডলার। আলোচ্য সময় পর্যন্ত দাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৪ কোটি ৩১ লাখ ডলার ছাড় করেছে জাপান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ছাড় করেছে ১৫ কোটি ৪৮ লাখ ডলার।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ডিএফআইডি অনুদান হিসেবে ছাড় করেছে ৮ কোটি ৩ লাখ এবং ভারত ছাড় করেছে ৪ কোটি ২ লাখ ডলার। সম্প্রতি প্রকাশিত ইআরডির এক প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বে সহজ শর্তে ঋণের সুবিধা সংকোচিত হয়ে আসছে। এজন্য অদূর ভবিষ্যতে উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি কমে সহজ শর্তের ঋণ সুবিধা ধেকে বঞ্চিত হতে পারে বাংলাদেশ। তবে দাতাদের প্রতিশ্র“তি ১৯.৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাইপলাইনে পড়ে আছে। এ অর্থ ছাড় করাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিবি) বাস্তবায়নের গতিও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close