¦
মানবপাচার রোধে চট্টগ্রাম উপকূলে টহল জোরদার

আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবর খুঁড়ে পাওয়া দেহাবশেষ বিশ্লেষণ করে থাই ফরেনসিক দলের সদস্যরা ধারণা করছেন মৃতদেহগুলো বাংলাদেশী এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধিবাসীদের। তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাড়ি জমাতে গিয়ে ক্ষুধা ও রোগেভোগে মৃত্যুর শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে থাই জঙ্গলে পাচার হওয়া বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের মৃতদেহ পাওয়ার পর মানবপাচারের বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন রুট দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দালালরা নানা প্রলোভন দিয়ে নিরীহ ও দরিদ্র লোকজনকে জড়ো করে পাচার করছে, যার অধিকাংশই মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে পাঁচশর বেশি লোককে উদ্ধার করেছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ সময় পাচারকারী সিন্ডিকেটের প্রায় ৩০ জনের বেশি দালালকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া দালালদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলাও দায়ের করা হয়। তারপরও থামানো যাচ্ছে না মানবপাচার। এত মৃত্যু ও বিপদের মুখোমুখি হওয়ার পরও অবৈধভাবে সাগরপথে মানবপাচার কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গণকবরে বাংলাদেশী নাগরিকের কংকাল পাওয়ার খবরে প্রশাসন তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন রুটে। জোরদার করা হয়েছে টহল। গত শুক্রবার থাইল্যান্ডে ৩২ জন অভিবাসীর গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার পর মানবপাচারের বিষয়টি সামনে চলে আসে। সূত্র জানায়, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ সমুদ্র চ্যানেল ও চকরিয়ার বদরখালী, মগনামা, ফিশারিঘাট, উলুবনিয়াখালসহ জেলার তিনটি নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে ফিশিংবোটে করে মানবপাচার করছে কয়েকটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। অপরদিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা ও সীতাকুণ্ড উপকূল দিয়েও মানবপাচার হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া মানুষের তথ্যের ভিত্তিতে মানবপাচারের এ চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে মানবপাচারের রুট হচ্ছে টেকনাফ, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর। তবে বিভিন্ন অভিযানে মালয়েশিয়াগামী লোক উদ্ধার হয় তা মোট পাচারের সংখ্যার ৫ শতাংশেরও কম। সূত্র মতে, বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাচারের সময় লোকজনকে উদ্ধার ও দালালদের গ্রেফতার করে থাকে। কিন্তু মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পাচার বন্ধ হয় না।
সূত্র জানায়, ১ মে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অভিবাসীদের গণকবর আবিষ্কার এবং এর মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিকের কংকাল থাকার প্রমাণ মেলার পর থেকে চট্টগ্রামে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বঙ্গোপসাগর ও বিভিন্ন নদীর মোহনা ও চলাচলরত সন্দেহজনক নৌকা ও বোটে তল্লাশি জোরদার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পাচারকারী সিন্ডিকেটের ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেরও তাগাদা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দালালচক্র অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে ৯টি রুট ব্যবহার করে। তাদের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে পাচার হতে গিয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে ও সাগরে অনাহারে মারা পড়ছে মানুষ।
এছাড়া মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ কারাগারে আটক রয়েছে শত শত বাংলাদেশী। বছরের পর বছর ধরে তারা সেখানে জেল খাটছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সাগর ও নদী উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে থাইল্যান্ড ও ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে দেশে ফেরত আসা কয়েকজন বাংলাদেশীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কমান্ডার ফজলুল করিম যুগান্তরকে জানান, সাগর পথে মানবপাচার ঠেকাতে কোস্টগার্ড সব সময় সজাগ। যেসব পয়েন্ট দিয়ে মানবপাচারের তথ্য রয়েছে ওই সব পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টা টহল নিশ্চিত করা হয়েছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close