¦
সুন্দরবনে এবার ডুবল সার বোঝাই জাহাজ

বাগেরহাট ও শরণখোলা প্রতিনিধি | প্রকাশ : ০৬ মে ২০১৫

পূর্ব সুন্দরবনে আবারও একটি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে। জাহাজটি সার বোঝাই করে মংলা থেকে আশুগঞ্জ যাচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা এলাকার ভোলা নদীতে চরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্নেস অয়েলের চেয়েও সারে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশংকা বেশি রয়েছে। এর আগে চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ফার্নেস অয়েল বোঝাই একটি জাহাজ ডুবে সুন্দরবনে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, মংলা থেকে ৫০০ টন পটাশ সার (লাল সার) নিয়ে এমভি জাবালে নূর নামের একটি জাহাজ রোববার পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের মরা ভোলা এলাকার ভোলা নদী অতিক্রম করছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরে উঠে গেলে জাহাজটি আটকে যায়। মঙ্গলবার বিকালে জাহাজের তলা ফেটে পানি উঠে ধীরে ধীরে জাহাজটি ডুবে যায়।
এদিকে, বর্তমানে প্রজনন মৌসুম হওয়ায় মাছের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
বনবিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেসার্স আল এহসান শিপিং লাইন্সের এম-৬৯৪৩ নম্বরের এ জাহাজটি রোববার মংলার হারবাড়িয়া থেকে সার বোঝাই করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। জাহাজটি ছেড়ে আসার পর ওইদিন পথিমধ্যে শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা নদের বিমলের চর এলাকায় এলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জাহাজকে সাইড দিতে গিয়ে ওই জাহাজটি প্রথমে ডুবোচরে আটকা পড়ে। পরে ঢেউয়ের আঘাতে সেটি ফেটে ডুবে যায়।  
ইতিমধ্যে জাহাজটি উদ্ধারে মংলা থেকে এমবি নূসরাত-ই-হক ও এমবি তছির উদ্দিন নামের দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অতি গোপনে মালিক পক্ষ গলিত সার পানিতে ফেলে জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। সার বোঝাই জাহাজডুবির এলাকা ডলফিন ও শুশুকের বিচরণ ক্ষেত্র হওয়ায় সুন্দরবন আবারও বির্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর সরদার সরিফুল ইসলাম জানান, সার গলে পানির গুণগত মান ও জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সারবাহী জাহাজডুবির ঘটনাটি সুন্দরবন বিপর্যয়ের আরেকটি প্রধান কারণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ডুবে যাওয়া পটাশ (এমওপি) জাতীয় এ সারের বিষক্রিয়ায় গাছপালার চেয়ে জলজ প্রাণীর ক্ষতির আশংকা বেশি। জাহাজটি উদ্ধারে চেষ্টা চলছে বলে তাকে মালিক পক্ষ জানিয়েছে। তবে, গলিত সার পানিতে ফেলা হলে জাহাজটির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
খবর পেয়ে জাহাজের মালিক ঢাকার বাবুল হাওলাদার ওই জাহাজটি উদ্ধারের জন্য এমভি নুরুল হক ও এমভি সাদি নামে দুটি জাহাজ ঘটনাস্থলে পাঠায়।
নুরুল হক জাহাজের মাস্টার আ. মালেক মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় জানান, ঘটনাস্থলে বিশাল চর থাকায় ওই জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই তারা সেখান থেকে ফিরে যাবে বলে জানান। ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক বাবুল হাওলাদার জানান, জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন ও খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সুনীল কুমার কুণ্ডু আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ফার্নেস তেলবাহী ‘সাউদার্ন স্টার সেভেন’ নামের একটি জাহাজ ডুবে যায়।
এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে সুন্দরবন। এছাড়া পরপর আরও দুটি লঞ্চ ও জাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত হলে সুন্দরবন বিপর্যয়ে পড়ে।  
 

খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close