¦
খালার কাছে রাজনীতি শিখেছি : টিউলিপ

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে দু’দেশের পার্লামেন্টে একই পরিবারের সদস্য থাকার অনন্য ‘নজির’ তৈরি হল বলে মন্তব্য করেছেন তার মা শেখ রেহানা। আর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ী টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, এ মুহূর্তে খালাকে খুব মনে পড়ছে। আমি রাজনীতিই শিখেছি খালার কাছে। আমার নানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন আমার প্রেরণার প্রধান উৎস। তবে আমার মা, বাবা ও হাজবেন্ডও আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করেছেন। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ আমি ভোটারদের কাছে।
লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটাভুটি শেষে ১১৩৮ ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেন বাংলার মেয়ে টিউলিপ, যার মাতামহ স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর টিউলিপের খালা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী। জয়ের পর ভোট গণনা কেন্দ্রে শেখ রেহানা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলা ভাষাভাষী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার জীবনে আমার বাবা সংসদে ছিলেন। আমার বড় বোন বাংলাদেশের সংসদ নেতা এবং এখন আমার মেয়ে ব্রিটিশের সংসদ সদস্য। এর থেকে গর্ব আর কি হতে পারে।’
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মতো এ রকম দুই দেশের পার্লামেন্টে ‘একই বংশের’ প্রতিনিধি থাকার ‘নজির’ পৃথিবীতে খুব কমই আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিউলিপের মা হিসেবে পরিচয়ে নতুন করে ‘গর্বিত’ হয়েছেন উল্লেখ করে শেখ রেহানা বলেন, ‘আমি গর্বিত পিতার সন্তান, গর্বিত বোনের ছোট বোন আর এখন আমি টিউলিপের মা।’ টিউলিপ যেখানেই থাকুক, যাদের সঙ্গেই থাকুক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুযায়ী সবার জন্যই কাজ করে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে রেহানা বলেন, ‘তিনি বলতেন অসহায় মানুষের কাছে থাকবে, মানুষের সাহায্য করবে, নির্যাতিত-নিপীড়িতদের দেখবে এবং এই নিষ্ঠার সঙ্গে তুমি এগিয়ে যাবে। আমি রাজনীতির সঙ্গে নেই। কিন্তু রক্ত কথা বলে। অন্য দেশের একটি পার্লামেন্টের সদস্য হওয়া ‘চাট্টিখানি কথা নয়’ মন্তব্য করে এর পেছনে নানা বাধা ও চড়াই-উৎরাই থাকার কথাও বলেন শেখ রেহানা। একটা বাচ্চা মেয়ে... তার পেছনে যত ধরনের নোংরামি করার, অনেকে অনেক রকম চেষ্টা করেছে। তাতে কিছু আসে যায় না, আল্লাহর অসীম রহমত। এ ভোট যুক্তরাজ্যে হলেও বাংলাদেশের বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা ‘মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে’ টিউলিপের জয় ঠেকাতে চেয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তার বড় ভাই রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে যে একটা নোংরা পলিটিকস ঢোকানোর চেষ্টা চলছিল, এ জিনিসটা নিয়ে টিউলিপের অনেক ফাইট করতে হয়েছে। অবৈধভাবে ওর নামে লিফলেট দেয়া থেকে শুরু করে আমাদের এখানে বাঙালি কমিউনিটির যারা ওকে সাহায্য করেছে, তাদের হুমকি পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ‘বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা জয় ভণ্ডুল করতে চাইলে স্থনীয় ভোটাররা তাদের মিথ্যা প্রচারে ‘প্রভাবিত না হওয়ায়’ সবাইকে ধন্যবাদ জানান রাদওয়ান সিদ্দিক।
রাজনীতি শিখেছি খালার কাছে : টিউলিপ
বৃহস্পতিবার দিনভর ভোট শেষে স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসনের ভোট গণনা কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর বিজয়ী লেবার পার্টির প্রার্থী টিউলিপ উপস্থিত বাংলাভাষী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজকে সবচেয়ে মনে পড়ছে আমার খালাকে। কারণ উনিই আমাকে সবচেয়ে বেশি শিখিয়েছেন। রাজনীতি নিয়ে উনার কাছ থকেই সব শিখলাম। সোশ্যাল জাস্টিসটা শিখলাম। শিখলাম কীভাবে ক্যাম্পেইন করতে হয়। মানুষের কাছে যেতে হয়। আজ খালাকেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে। ফোন করেছি, খালাকে বলেছি খুশির খবরটা। খালাও দোয়া দিয়েছেন।
সেই সঙ্গে মা শেখ রেহানাসহ পরিবারের সদস্যদের এবং স্বামী ক্রিস পার্সির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এ ব্রিটিশ-বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘আমকে এই সময় আমার মা-বাবা আনেক সাপোর্ট দিয়েছেন। পরিবার আর হাজবেন্ডের সাপোর্ট ছাড়া কিন্তু লড়া যায় না। এ আসনে ১১৩৮ ভোটে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন বাংলার মেয়ে টিউলিপ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনায় অনেক আগে থেকেই ব্রিটিশ গণমাধ্যমের মনোযোগ ছিল এ আসন। আর সঙ্গে ছিল টিউলিপের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিশাল প্রত্যাশা। জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ৩২ বছর বয়সী টিউলিপ বলেন, আসলে আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। দু’বছর ধরে ক্যাম্পেইন করছি। আমি আমার নিজের এলাকায় এমপি হয়েছি। আমি আমার নিজের এমপি। এখনও আবাক লাগছে। মানুষের দোয়ায়, মানুষের সাহায্য আজ এ জয় এনে দিয়েছে।
তবে নির্বাচনের পুরো ফল না দেখে লেবার পার্টির পরাজয় নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ও অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপ। তিনি বলেন, জাতিগত পরিচয় দেখে নয়, সবাইকে নিয়ে সবার জন্য কাজ করতে চান তিনি।
টিউলিপ বলেন, আমরা ব্রিটিশ বাঙালি। আমরা সবাই সবাইকে সাপোর্ট করি। খবরে দেখলাম রুশনারা আপাও জিতেছেন। আমার খুব ভালো লেগেছে। রূপা আপাও জিতেছেন। এখন আমারা তিনজন বাঙালি মেয়ে পার্লামেন্টে থাকব। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি তবে অনেক কিছু করা যাবে আমাদের কমিউনিটির জন্য।
‘মারামারি কাটাকাটি আর নেগেটিভ ক্যাম্পেইন’ চালিয়ে গেলে প্রবাস জীবনে বাঙালি কমিউনিটি আরও পিছিয়ে পড়বে বলেও টিউলিপ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমার খুব দুঃখ লেগেছে যখন দেখলাম মানুষ আমাকে নিয়ে নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করা হচ্ছে। আমার পরিবার নিয়ে অনেক মিথ্যা কথাও বলেছেন তারা। আর ওদের লিফলেট নিয়ে তো পুলিশ রিপোর্টও হয়েছে। যতই নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করুক মানুষ ভোট দেয় পলিসি এবং ক্যারেক্টার দেখে। ভবিষ্যতের নির্বাচনে এ বিষয়গুলো সবাই মাথায় রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন টিউলিপ।
পাঁচ বছর আগে প্রথম ব্রিটিশ বাংলাদেশী হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যান সিলেটের মেয়ে রুশনারা আলী। এবারও তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া লন্ডনের আরেকটি আসন থেকে এবার জয়ী হয়েছেন রূপা হক। তারা তিনজনই লেবার পার্টি হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।
 

খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close