¦
চট্টগ্রামে হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি

লোকমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে যে হতাশা বিরাজ করছে তা কাটিয়ে উঠতে চায় বিএনপি। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি করে তৃণমূলে আরও গোছাতে চায় দলটি। মহানগর ও জেলা কমিটিও পূর্ণাঙ্গ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। যাতে করে আগামী কর্মসূচিগুলোতে তৃণমূলের সম্পৃক্ততা থাকে। যদিও এ ক্ষেত্রে মামলা ও পুলিশি হয়রানি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে পুলিশি তল্লাশিতে ঘর ছেড়ে যাওয়া নেতাকর্মীরা এখনও ফেরেননি। আÍগোপনে থাকা অনেক নেতাকর্মী পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে পারছেন না মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পুলিশ অবস্থান নিশ্চিত করবে এ ভয়ে। তবে ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে আওয়ামী লীগ আরও বেশি সমালোচিত হয়েছে এবং নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি সাধারণ মানুষের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়েছে বলেই মনে করছেন নেতাকর্মীরা। সূত্রমতে, সবার আগে দলকে চাঙ্গা করতে বিএনপি সবার আগে গ্রেফতার ও মামলার শিকার নেতাকর্মীদের জামিনে বের করে আনতে চায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে কয়েক মাস টানা এবং তীব্র আন্দোলন করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন হয়েছে এবং যথারীতি বিনা নির্বাচনে ১৫৩ সিট নেয়াসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদীয় আসন নিয়ে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থেকে গেছে। বিপরীতে প্রশাসনিক চাপ এবং রাজনৈতিক মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বিএনপির নেতাদেরই। এ অবস্থায় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করেও ফল পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামসহ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলের জনপ্রিয়তা যাচাই করার মানসে বিএনপি অংশ নেয়। ২৮ এপ্রিলের এ নির্বাচন আরও বেশি অর্থাৎ ৫ জানুয়ারির চেয়েও খারাপ হয়। কেন্দ্র দখলের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নেয়ার আভাস পেয়ে বিএনপি ভোট গ্রহণ শুরুর ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন বর্জন করে। ফলত সিটি নির্বাচনেও বিএনপি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বলে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেমে আসে হাতাশা। তাই দলটির নীতিনির্ধারণী মহল সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন করে দল গোছানোর। পাশাপাশি দলের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তারা জামিন নেয়ারও চেষ্টা করবেন। যাতে পরবর্তী কর্মসূচি এলেই মাঠে নামতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগর বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা জানান, আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য নগর বিএনপির কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা উচিত। অন্যথায় কমিটির বাইরে থাকা নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে পিছপা হবেন। চসিক নির্বাচনেও এমনটি হয়েছিল। এমন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কমিটিগুলো ঢেলে সাজানোর।
জানা গেছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নগর কমিটি ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি ও ডা. শাহাদাত হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া শামসুল আলম, দস্তগীর চৌধুরী ও আবু সুফিয়ানকে ওই কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছিল। এর মধ্যে দস্তগীর চৌধুরী মারা গেলে চার সদস্য দিয়েই চলে আসছে নগর বিএনপির কার্যক্রম। তবে চার বছর ধরে মহানগরী বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে হতাশা জানিয়েছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। একইভাবে ২০১৩ সালের ২১ জুলাই নগর ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে গাজী সিরাজকে সভাপতি এবং বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক ও এম রাশেদ খানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয়নি নগর ছাত্রদল। এর মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তিনজনই তিনটি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব উল আহসান নির্দেশ দিয়েছেন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অপূর্ণ কমিটি এবং দ্বিধাবিভক্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম আন্দোলন-সংগ্রাম ও সিটি নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমীর খসরুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ওয়ার্ড ও থানা সভাপতি ও সম্পাদক সক্রিয় থাকলেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন ডা. শাহাদাতের অনুসারী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান শামীম জানান, কেন্দ্রের লক্ষ্য দল গোছানো। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হবে। অঙ্গসংগঠনসমূহও ঢেলে সাজানো হবে। আশপাশের জেলাগুলোতেও বিভক্তি নিরসনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে সিটি নির্বাচনের আগে পুলিশি অভিযানে ঘরছাড়া হওয়া বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা এখনও আতংকে আছেন। পুলিশি অভিযান অব্যাহত থাকায় ঘরে ফিরতে পারছেন না তারা। যেসব নেতা গ্রেফতার হতে পারেন বলে মনে করছেন তারা পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন। তাদের ধারণা, নিজস্ব নম্বর ছাড়াও পরিবারের সব সদস্যের নম্বর মনিটরিং করা হচ্ছে। এমনকি ড্রাইভার ও বাড়ির কেয়ারটেকারের মোবাইল ফোন নম্বরও ট্র্যাক করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close