¦
সাফারি পার্কের বাঘশাবকদের নাম শ্যামল সজল শেফালি

জহিরুল ইসলাম, চকরিয়া থেকে | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

মা বাঘের নাম জ্যোতি। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলের কোনো এক ঝোপ-ঝাড়ের নরম কাদামাটিতে। আর তার তিন শাবকের জন্ম হল ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ইট-সুরকি সিমেন্টের পাকা মেঝেতে। বাচ্চাদের আদর দিয়ে বারে বারে বাইরে উঁকি দিচ্ছে উদ্বিগ্ন জ্যোতি। নবজাতক রক্ষায় চারিদিকে প্রখর নজর, বিচক্ষণ ও ক্ষিপ্র নতুন মা। কাউকে কাছে যেতে দেখলে হুংকার ছেড়ে তেড়ে যাচ্ছে। এভাবেই কাটাচ্ছে জ্যোতি ও তার তিন বাচ্চা। এদের মধ্যে দুটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী শাবক। শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক ড. তপন কান্তি দে এই তিনটি বাঘ শাবকের নাম রেখেছেন শ্যামল, সজল ও শেফালি। পরের এ প্রজন্ম সাফারি পার্কের বিশেষভাবে তৈরি প্রাকৃতিক পরিবেশে কিভাবে মানিয়ে নিতে পারছে বন্যপ্রাণী গবেষকদের তাই দেখার বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বনসংরক্ষক ড. তপন কান্তি দে বলেন, সুন্দর বনের বাঘ সাফারি পার্কে বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঘটনা ঐতিহাসিক ও বিরল ঘটনা। তিনি এটিকে বাঘের দ্বিতীয় প্রজন্ম বলে উল্লেখ করেছেন। ওই বাচ্চা তিনটিকে যদি সুস্থ-সবলভাবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে সুন্দরবনের বাঘের বংশবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে সুন্দরবন থেকে চুরি করে পাচারের সময় দেড় মাস বয়সের তিনটি বাঘের বাচ্চাকে আমিসহ গিয়ে উদ্ধার করেছি। তাদের প্রথমে মিরপুর জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ৪ মাস বয়স পর্যন্ত দুধ খাইয়ে লালন-পালন করা হয়েছে। তারপর সাড়ে ৫ মাস বয়সে এদের নিয়ে যাওয়া হয় চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে। তাদের নাম রাখা হয় জয়, জুঁই ও জ্যোতি। সাফারি পার্কের বাঘের নির্দিষ্ট বেষ্টনীতে খোলামেলা ও কিছুটা হলেও বন্য পরিবেশে তারা বেড়ে উঠেছে।
আড়াই বছর বয়সে জুঁইকে জাপান পাঠানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার চিড়িয়াখানায়। সেই থেকে জয় ও জ্যোতি এক সঙ্গেই থাকতে শুরু করে। ৩ বছর বয়সেই গর্ভবতী জ্যোতি ১০৫ দিন পর মঙ্গলবার বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে দুটি পুরুষ ও সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে একটি স্ত্রী শাবক জন্ম দেয়। সাফারি পার্কের সহকারী ভেটেরনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শ্যামল, সজল ও শেফালিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনটি বাচ্চার মধ্যে শ্যামল, সজল সুস্থ রয়েছে, শেফালি অপেক্ষকৃত দুর্বল। তারা মায়ের দুধ পান করছে। মাকে দেয়া হচ্ছে খরগোশ, মুরগি, শূকর, গরুর মাংস, কলিজা ও মাথার মগজ। সাফারি পার্কের রেঞ্জার নুরুল হুদা জানান, কোনো লোক দেখলেই হিংস্র হয়ে উঠছে জ্যোতি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জ্যোতিকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখানে লোকজনের যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। জ্যোতির কাছে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। জ্যোতিকে মাঝেমধ্যে বেষ্টনীর ভেতরের জঙ্গল থেকে খানিক সময় ঘুরে আসতেও দেখা যাচ্ছে। বাচ্চা দেয়ার পর খাবার নিচ্ছে কম।
সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিচর্যাকারী দিদারুল আলম জানান, জয়, জুঁই ও জ্যোতিকে আমি সাড়ে ৫ মাস বয়স থেকে লালন-পালন করেছি। তারা আমার নিজের সন্তানের মতো ছিল। তাদের সঙ্গে অনেক আদর, স্মৃতি ও ভালোবাসা জড়িয়ে রয়েছে। এখন জ্যোতি বাচ্চা দিয়েছে। জুঁইকে জাপানের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়ার পর জয় ও জ্যোতির সঙ্গেও আমার আর দেখা হয়নি। হয় তো এখন আমাকে ভুলতে বসেছে। জ্যোতির বাচ্চাদের সে-ই লালন-পালন করবে। জ্যোতি বাচ্চা দেয়ার পর আমি প্রতিনিয়ত সেখানে যাওয়া-আসা করছি। জ্যোতির বাচ্চারা আমাকে কিভাবে নেবে বা চিনবে কিনা জানি না।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close