¦
কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শুক্রবার আয়োজিত এক কর্মশালায় বক্তারা বলেছেন, দেশের কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে শিক্ষার মানে ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকারি এ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন না করলে কিছুতেই কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।
কলেজ শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। অনুষ্ঠানে তিনি কর্মশালায় বক্তাদের বক্তব্যের পুরোপুরি একমত পোষণ করেননি। তিনি বলেন, আমরা এ তিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা সব সময় করে থাকি।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই ভিসি অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী, অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ, পিএসসির সদস্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীর, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক শাহাদত হোসেন, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. মুনতাসীর মামুন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসাইন, বিসিএস শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন বেগম, সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান, অধ্যাপক ওয়াহিদুজ্জামান, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর, ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হোসনে আরা, অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এক সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও কেলেংকারির ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা তা দূর করেছি। তিনি বলেন, আমরা বাস্তবজীবনের সঙ্গে শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছি। এটা না করলে সেই শিক্ষা কাজে লাগবে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে এদিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেনের অভিযোগ ছিল। সেখানে শিক্ষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও বৈষম্য হচ্ছিল। মূলত এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সেখানের পরিচালনা কমিটির কারণে। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে এজন্য আমরা এনটিআরসিকে এসব বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছি।
কর্মশালায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, মাউশি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। শিক্ষকরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নয়। মাউশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ নির্দেশনা মানে না। ৪ হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। ৩ হাজার প্রেষণে এবং ৫শ ওএসডি আছেন। ঢাকার কলেজগুলোতে পদে বেশি পদায়ন আছে, কিন্তু মফস্বলের কলেজগুলো খালি। এটা গেল সরকারি কলেজের দশা। বেসরকারি কলেজে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। দলীয়করণ হোক কিন্তু ন্যূনতম যোগ্যতা বজায় রাখতে হবে। কিন্তু তা করা হয় না। এখানেই শেষ নয়, কলেজ শিক্ষকদের অনেকে পাঠদান প্রস্তুতি নেন না। কী পড়াবেন তা তারা জানেন না। তাই এসব সমস্যার সমাধান না করে যত চেষ্টাই করা হোক শিক্ষার মানের কোনো উন্নতি হবে না। অধ্যাপক মমিন চৌধুরী বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই নিয়ম মেনে চালানো হয়নি এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। তা করা হলে আজ বিশ্ববিদ্যালয়টির এ অবস্থা হতো না।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close