¦
চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড সাত বছর ঝুলে আছে

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৫

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুরুই করতে পারেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সাড়ে ৮শ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম নগরীর সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাদের ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের কবল থেকে রক্ষায় এবং যানজটমুক্ত নগরী গড়তে এ প্রকল্পটি হাতে নেয় সিডিএ। প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৮শ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। অর্থ সংকট এবং ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এখন পর্যন্ত শুরুই করা যায়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ঠিকাদার। তবে চলতি বছরে কাজ শুরুর আশা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৬৯৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ সরকার, জাইকা দেবে ৭১৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বাকি ৮২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা দেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা ও অর্থ সংকটের কারণে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ঝুলে আছে এ প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের যানজট যেমন কমবে তেমনি জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পাবে নগরীর সমুদ্র উপকূলের বাসিন্দাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় এরই মধ্যে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে পতেঙ্গা উপকূলে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি ওই সময়ে প্রচুর সম্পদেরও ক্ষতি হয়েছিল। এরপর নগরীর উপকূলীয় বাসিন্দাদের বন্যা ও সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে রক্ষার্থে বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেঁষে মাটি দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে একটি বেড়িবাঁধ। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে বেড়িবাঁধটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। যদি ১৯৯১ সালের ন্যায় পুনরায় কোনো ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানে তাহলে চট্টগ্রামের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। মূলত চট্টগ্রাম শহরকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা এবং নগরীতে যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পটি হাতে নেয় সিডিএ। সিডিএ গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে আউটার রিং রোড প্রকল্পটি সবচেয়ে বৃহৎ ও ব্যয়বহুল। এ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ব্যয় ধরা হয় ৫৭৬ কোটি টাকা। জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখাকে ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প কর্মকর্তা হাসান বিন শামস যুগান্তরকে বলেন, এখন যেহেতু বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে যার কারণে বর্ষার পরই কাজ শুরু হবে। এরই মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি নিয়ে আসার কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close