¦
ভারতীয় চাল আমদানিতে শুল্কারোপ : উত্তরাঞ্চলে বাড়ছে ধানের দাম

আনু মোস্তফা, রাজশাহী থেকে | প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৫

ভারতীয় চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের তিন দিনের মাথায় উত্তরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের দাম বেড়েছে মণে ১শ থেকে দেড়শ টাকা করে। বোরোর ভরা মৌসুমে ধানের দাম পড়তির দিকে ছিল দুই সপ্তাহ ধরে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের ধানচাষীরা চাল আমদানির ওপর সরকারের শুল্কারোপকে দেখছে তাদের সৌভাগ্যের চিহ্ন হিসেবে। অনেক চাষী বলেছেন, ভারত থেকে চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করা হলে তারা যথার্থই লাভবান হবেন। এতে ধান চাষেও মনোযোগী হবেন তারা। ফলে দেশে ধানের উৎপাদন আরও বাড়বে।
সোম ও মঙ্গলবার উত্তরাঞ্চলের ধানপ্রধান এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নওগাঁর কয়েকটি হাট ঘুরে নতুন ওঠা ধানের বাড়তি দাম লক্ষ্য করা গেছে। এদিকে বগুড়া ও রংপুরের ধানের মোকামগুলোতেও ধানের দাম বেড়েছে বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। দেশের অন্যতম চাল উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাব রাইসের স্বত্বাধিকারী আকবর হোসেন যুগান্তরকে জানিয়েছেন, চাল আমদানিতে শুল্ক বসানোর পর থেকেই উত্তরাঞ্চলের ধানের বড় বড় মোকামে ধানের দাম এক লাফে মণপ্রতি দেড়শ থেকে ২শ টাকা করে বেড়েছে।
এদিকে সোমবার উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ ধানের মোকাম নওগাঁর সাপাহারে গিয়ে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে যে ধান মণপ্রতি ৫২০ টাকা থেকে সাড়ে ৫শ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সপ্তাহের মাথায় সেই ধান এদিন বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি সাড়ে ৬শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকায়। পুরনো ধানের দাম মণপ্রতি
বেড়ে ৭৮০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে চিকন বা আতব ধানের দাম আগের চেয়ে কমেছে মণে দেড়শ থেকে ২শ টাকা করে। চিকন ধানের দাম মণে ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে নেমে ১ হাজার ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।
এদিকে সাপাহারের খঞ্জনপুরের ধানচাষী সাদিকুল ইসলাম বলেন, এবারে আমনের ভালো দাম পাওয়া যায়নি। তাই চলতি বোরো নিয়েও চাষীরা খুব শংকার মধ্যে ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ধানের দাম মণে দেড়-দুশ টাকা করে বেড়ে গেছে। এতে ধানচাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। ধানের দাম বাড়াতে সাদিকুলের মতো খুশি মহাদেবপুরের নওহাটার ধানচাষী আবদুর রাজ্জাক।
উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় তিন শতাধিক অটোরাইস মিলস রয়েছে। এসব মিলের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। আমন মৌসুমের শুরু থেকেই উত্তরের স্থলবন্দর সোনামসজিদ, হিলি, বাংলাবান্ধা, বুড়িমারী ও সাতক্ষীরার ভোমরা দিয়ে প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হয়েছে ভারত থেকে। ফলে উত্তরাঞ্চলের স্বয়ংক্রিয় চালকলগুলোতে উৎপাদনে কিছুটা ধীরগতি ছিল। কিন্তু সরকার সম্প্রতি ভারতীয় চাল আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্কারোপের পর থেকে মিলগুলোতে উৎপাদন বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সক্রিয় আরও ৩০ হাজার ছোট ও মাঝারি চালকলেও উৎপাদন হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহীর কাকনহাট ও নাটোরের সিংড়া ছাড়াও বগুড়ার নন্দীগ্রাম ধানের হাটেও দাম বাড়তির দিকে বলে ওই এলাকার একাধিক চাষী জানিয়েছেন।
অন্যদিকে দেশেই ধানের বিপুল উৎপাদনের পরও ভারত থেকে চাল আমদানি প্রসঙ্গে ঢাকার বাদামতলীর চালের মহাজন লিয়াকত আলী মাতব্বর যুগান্তরকে বলেন, ভারতীয় স্বর্ণা চালের কেজি ২২ টাকা। বিপরীতে একই জাতের দেশী চালের দাম ২৫ টাকা কেজি।
আমদানি খরচ বাদেও দেশী চালের সঙ্গে ভারতীয় চালের কেজিতে মূল্য পার্থক্য প্রায় দুই টাকা। বিআর-৩৬ জাতের চাল দেশের মিলগুলো থেকে কেজিপ্রতি ৩১ টাকা কিনতে হয়। কিন্তু একই মানের ভারতীয় চাল আমদানির পর কেজিতে দাম পড়ে ২৯ টাকা। শুল্কারোপের পর দেশের চালের বাজারে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে আগের দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে।
কিন্তু শুল্কারোপ হলেও ভোক্তাদের কম দামে চাল পাওয়ার কোনো আশা নেই। বরং খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজিতে চালের দাম বাড়িয়ে দেবে।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close