¦
দখলমুক্ত করতে হবে নদী : নৌমন্ত্রী

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৫

সুন্দরবনের বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে সীমিত পরিসরে নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। এ চ্যানেলে ৬ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত ২৬১টি নৌযান চলাচল করে। জুনে এ চ্যানেলটি পুরোপুরি খুলে দেয়া সম্ভব হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এসব তথ্য জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নদী দখলের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কৌশলে নদীর তীরে মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে আশপাশের জমি দখল করা হচ্ছে। সরকারের একার পক্ষে তা রোধ করা সম্ভব নয়। কঠোর আইন প্রণয়ন ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দখল দুষণের বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলাম। এতে কিছু সফলতাও পেয়েছিলাম। সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে যেভাবে বর্জ্য ফেলা হতো ক্রমান্বয়ে তা কমে এসেছে। ফল ব্যবসায়ী ও মিডফোর্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগের মতো এখন আর নদীতে বর্জ্য ফেলে না। কিন্তু নানা কারণে ওই আন্দোলন আর হয়নি। আবার আন্দোলন শুরু করতে হবে।
নৌযান দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে নৌমন্ত্রী বলেন, সার্ভেয়ারদের সংখ্যা বাড়িয়ে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অগ্রানোগ্রাম সংশোধন করা হচ্ছে। মাত্র চারজন সার্ভেয়ার থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না।
মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল চালুর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ নৌপথটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর নাব্য দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখতে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ড্রেজিং করা হচ্ছে। চ্যানেলটির ৩১ কিলোমিটারের মধ্যে ২২ কিলোমিটার খনন করা হবে। এ পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা।
চ্যানেলের নাব্য ধরে রাখতে অব্যাহত ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীর বাঁধ খুলে দিতে হবে মন্তব্য করে নৌমন্ত্রী বলেন, চ্যানেলটির সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছোট খালগুলো জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বড় খালগুলো খনন করা হচ্ছে। খালগুলো আরও প্রশস্ত ও গভীর করা হবে।
চ্যানেলের নাব্য ধরে রাখতে ৬টি করণীয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। সেগুলো হচ্ছে- চ্যানেলের ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হলে অব্যাহতভাবে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং চালিয়ে যাওয়া, বগুরা খালের পাশে প্রায় ২ কিলোমিটার অস্বাভাবিক হারে পলি জমা রোধ করার লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে ওই স্থান সংলগ্ন টাইডাল বেসিন করা, পাউবোর ফয়লা হাটের স্লুইস গেট জরুরিভিত্তিতে অবমুক্ত করা, মূল চ্যানেলে যে গভীরতায় খনন হচ্ছে তার চেয়ে বেশি গভীরতায় চ্যানেল সংলগ্ন বগুরা খাল, দাউদখালী নদী, বিসনা নদীসহ মৃত নদীগুলো খনন করা, চ্যানেল সংলগ্ন চিংড়ি ঘেরগুলোর মুখ খুলে দেয়া এবং চ্যানেলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত প্রায় ৩২টি খাল খনন করা।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close