¦
রাসিকের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হতে দুই কাউন্সিলরের লড়াই

জিয়াউল গনি সেলিম, রাজশাহী | প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৫

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হতে প্যানেল সদস্যদের মধ্যে লড়াই চলছে। মঙ্গলবার দিনভর নগরীতে গুঞ্জন ছিল ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ে ঘোরাঘুরি করে অনেকটা নিশ্চিত হয়েই রাজশাহী ফিরেছিলেন তিনি। নিজেও প্রচার করেছিলেন দায়িত্ব পাওয়ার কথা। কিন্তু প্যানেল মেয়র-৩ নুরুন নাহার বেগম এদিন নাটকীয়ভাবে নগর ভবনে হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণে আগ্রহের কথা জানান। তিনি মন্ত্রণালয়ে জরুরি ফ্যাক্সও পাঠিয়েছেন। তবে, কে হচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র, কামরুজ্জামান নাকি নাহার- এই প্রশ্নে দিনভর নগর ভবনে দুপক্ষের সমর্থকদের মাঝে ছিল উত্তেজনা।
পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় সিটি মেয়র বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে ৭ মে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক তোড়জোড়।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১২ ধারা অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হলে ওই আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র তার দায়িত্ব পালনকারী জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়র প্যানেলের একজন সদস্যের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। কিন্তু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আনোয়ারুল আমিন আজব ও প্যানেল মেয়র-২ নুরুজ্জামান টিটো দুজনই পুলিশ সদস্য সিদ্ধার্থ হত্যার মামলার আসামি। এর মধ্যে আজব রয়েছেন কারাগারে। আর টিটো চার মাস ধরে আত্মগোপনে। সে হিসেবে নুরুন নাহার বেগমের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। নগর ভবনে বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকার সমর্থক কর্মকর্তারা বিএনপি নেত্রী নুরুন নাহারকে দায়িত্ব না নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়র হলে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে- এমন আশংকায় ছিলেন তিনি নিজেও। এই পরিস্থিতিতে তিনদিন আগে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যান নুরুন নাহার। কিন্তু মঙ্গলবার নাটকীয়ভাবে নগর ভবনে হাজির হন নাহার। তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নিতে আগ্রহের কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জরুরি ফ্যাক্সও পাঠিয়েছেন। এরপর নগর ভবনে অনেকটা নড়েচড়ে বসেন বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্যানেল মেয়র-৩ নুরুন নাহার বেগম যুগান্তরকে জানান, আইন অনুযায়ী তিনিই ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার কথা। এজন্য তিনি সম্মতি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফ্যাক্সও পাঠিয়েছেন। কিন্তু সরকার সমর্থক একটি মহল তাকে বাদ দিয়ে অপর একজন সাধারণ কাউন্সিলরকে দায়িত্ব পেতে তদবির করে যাচ্ছে। নুরুন নাহার উধাওয়ের খবরে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব নিতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন ৫নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগপন্থী কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু। তিনি দলীয় পরিচয়ে দফায় দফায় মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদবির করেন। ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে গেছেন- এমন প্রচারও চালান তিনি। কামরুজ্জামান কামরু সমর্থকরা ব্যাপকভাবে প্রচার করেন যে, মঙ্গলবার সকালে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এর আগে কামরুজ্জামান কামরু যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আমি কোনো চিঠি পাইনি। হয়তো শিগগিরই পেয়ে যাব। অপেক্ষায় আছি।
এদিকে হঠাৎ করেই নাহার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হওয়ায় মঙ্গলবার আত্মগোপনে থাকা বিএনপিপন্থী কাউন্সিলররাও নগর ভবনে জড়ো হন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close