¦
নেপালে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ৪২

যুগান্তর ডেস্ক | প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৫

আবারও ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল হিমালয়কন্যা নেপাল। এ ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ৪২ জন নিহত ও এক হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পে ভারতে ১৭ ও চীনে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এএফপি, এনডিটিভি ও সিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) মতে, নেপালে ছয় দফা ও ভারতে দুদফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে নেপালে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। সবচেয়ে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল দেশটির কোদারি থেকে ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। কাঠমান্ডু থেকে ৭৬ কিলোমিটার পূর্বে, মাউন্ট এভারেস্টের কাছে নামচিবাজারে। কেন্দ্রস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৯ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৩। একই উৎপত্তিস্থলে ৫ দশমিক ৬ তীব্রতার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়।
দুপুর ১টা ৩৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডে চীনে রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪ তীব্রতার ভূমিকম্প অনুভূত। দুপুর ১টা ৩৬ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে নেপালের রমেসহাপ থেকে ৩৩ কিলোমিটার উত্তর, উত্তর-পূর্বে ৬ দশমিক ৩ তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। দুপুর ২টা ৬ মিনিট ৭ সেকেন্ডে নেপালের কোদারি থেকে ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণে ৫ তীব্রতার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুপুর ২টা ১৩ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে কোদারি থেকে ১৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৫ দশমিক ১ তীব্রতার ভূমিকম্প হয়। দুপুর ২টা ২১ মিনিট ১০ সেকেন্ডে কোদারি থেকে ২৮ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্বে ৫ দশমিক ২ তীব্রতার শেষ ভূমিকম্পটি হয়।
এর আগে ২৫ এপ্রিল নেপালে শতাব্দীর ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই নতুন করে ভূমিকম্পে মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। নেপালের কোনো কোনো স্থানে দেখা দিয়েছে ভূমিধস। বেশ কয়েকটি ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগের ভূমিকম্পে যেসব বিল্ডিং কোনোরকমে টিকে ছিল সেগুলো এবার ধসে পড়েছে।
নেপালের দোলাখা এবং সিন্ধুপাল চক এলাকায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম। বিশেষ করে সিন্ধুপাল চকে তিনটি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন- খুব শিগগিরই এ ভূমিকম্পের আফটারশক বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
উত্তর ভারতেও ভূমিকম্প অনুভূত : জোরালো কম্পন অনুভূত হয় গোটা উত্তর ভারতেও। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ডসহ বিভিন্ন রাজ্যে কম্পন অনুভূত হয়। ভারতে ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বিহারে ১৬ জন ও উত্তরপ্রদেশে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এলসি গোয়েল ও নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ভূমিকম্প। কলকাতায় দিনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ?? বড় মাপের কম্পন অনুভূত হওয়ায়, আতংকে বহুতল ভবন থেকে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষজন। বন্ধ করে দেয়া হয় মেট্রো পরিসেবা। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ট্রেন চলাচল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নবান্নে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের জেলাগুলোতে বড় মাপের কম্পন অনুভূত হয়েছে। শিলিগুড়িতে বহু বাড়িতে ফাটল ধরেছে। অপরদিকে, দিঘার সমুদ্র উপকূল থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় পর্যটকদের। চলে মাইকিং।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিট এবং দুপুর ১টা ৯ মিনিটে দুটি কম্পন অনুভূত হয়। যার প্রভাব পড়ে রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে।
এর আগে ২৫ এপ্রিল নেপালে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে বিহারে ৩০ জনের বেশি লোক মারা যান। এছাড়া ওই ভূমিকম্পে চীনের তিব্বত ও বাংলাদেশেও বেশ কয়েকজন মারা যান।
বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা : বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কাঠমান্ডুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির যাবতীয় কার্যক্রম। কাঠমান্ডুতে অবতরণের বদলে নির্ধারিত বিমানগুলো এখন ভারতের লক্ষ্ণৌ বিমানবন্দরে নামবে বলে জানানো হয়েছে ।
২৫ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে নেপালে নিহতের সংখ্যা আট হাজার ছাড়িয়েছে, আহতের সংখ্যা ১৭ হাজারেরও বেশি। ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পটির পর গত ১৭ দিনে ধারাবাহিক দেড় শতাদিক আফটারশক বা মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে দেশটিতে। তবে সেগুলো আজকের ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী ছিল না। ২৫ এপ্রিলের ভূমিকম্পে ওই এলাকায় সৃষ্ট বরফ ধসে ১৮ জন পর্বতারোহীর মৃত্যু ও ধারাবাহিক আফটারশকে এভারেস্টে পর্বতারোহণের চলতি মৌসুম শেষ বলে ঘোষণা করেছিল নেপাল সরকার।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close