¦
স্বার্থান্ধ সমাজে বেবী মওদুদ ব্যতিক্রমী মানুষ ছিলেন

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০১৫

আজ সাংবাদিক, লেখক, রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। বেশ কিছুদিন ক্যান্সারে ভুগে গত বছরের এদিন মারা যান দেশবরেণ্য এ সাংবাদিক। আজ বাদ আসর মরহুমার ধানমণ্ডির বাসায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সমাজের উদ্যোগে স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, বেবী মওদুদ ছিলেন নির্লোভ, প্রচারবিমুখ, সাদাসিধে জীবনযাপনকারী একজন মানুষ। স্বার্থান্ধ এ সমাজে কিভাবে সততা, নিষ্ঠার পথে চলতে হয় তা তিনি শিখিয়ে গেছেন। বেবী মওদুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সমাজ আয়োজিত স্মরণ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বেবী মওদুদ ছিলেন প্রচারবিমুখ, নির্লোভ ও নিরহংকারী মানুষ। স্বামী সাংবাদিক হাছান আলীর অকাল মৃত্যু তার জীবনকে উলট-পালট করে দিলেও সংগ্রাম করে মাথা উঁচু করে বাঁচার চেষ্টা করেছেন তিনি। এক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন। নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও ছিলেন দৃঢ়চেতা। তিনি বলেন, খ্যাতিমান এ সাংবাদিকের পরিবারের সঙ্গে আমার আত্মীয়তা থাকলেও সব কিছুর উপরে ছিল ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক।
দৈনিক সমকালের সম্পাদক গোলাম সারওয়ার বলেন, বেবী মওদুদ এমন এক মহিয়সী নারী ছিলেন যার ব্যাপারে সারা দিন আলোচনা করেও শেষ করা যাবে না। তিনি শিখিয়ে গেছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আমরা সবাই স্বার্থান্ধ হয়ে গেছি কিন্তু এ সময়েও বেবী মওদুদ ছিলেন ব্যতিক্রমী মানুষ। সাংবাদিকদের কল্যাণ ফান্ড গঠনের ক্ষেত্রে বেবী মওদুদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন গোলাম সারওয়ার। বেবী মওদুদের বড় ছেলে অভি বলেন, মা যখন মারা যান, তখন আমার হাত ধরে ছিলেন। সে দিনটি আমার কাছে বড়ই কষ্টের। মা হারানোর কষ্ট আমি একুটও ভুলতে পারছি না। প্রতিক্ষণেই আমার মায়ের কথা স্মরণ হয়।
তিনি বলেন, আমার মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি হিসেবে প্রতিবছর ২৫ হাজার করে টাকা দিতেন। মায়ের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই আমিও, এ টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া মায়ের নামে সাংবাদিকতায় একটি পুরস্কার ঘোষণা করতে চাই। প্রতিবছর একজন সাংবাদিককে পুরস্কারের সম্মানী হিসাবে এক লাখ টাকা করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি। এ পুরস্কারটি নারী সাংবাদিকদের দেয়ার কথা চিন্তা করছেন বলে জানান বেবী মওদুদের ছেলে অভি। বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বেবী মওদুদ ছিলেন প্রেস ক্লাবের একজন বাসিন্দা। এটা ছিল তার দ্বিতীয় বাসা। বিভিন্ন জায়গায় ঠিকানা হিসেবে তিনি প্রেস ক্লাবের ঠিকানা লিখতেন। কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, রাজনীতির অনেক পরিবর্তনেও তার সেই ভালোবাসা কখনও কমেনি। বেবী মওদুদের স্মরণ সভায় বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আআমস আরেফিন সিদ্দিক, কবি কাজী রোজী এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। এছাড়া আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি, বেবী মওদুদের ছোট ভাই আবু রায়হান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, বেবী মওদুদের ছোট ছেলে শফিউল হাসান দীপ্তসহ সাংবাদিক নেতারা স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র সাংবাদিক ফরিদ হোসেন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close