¦
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এবারই অনার্সে ভর্তি

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৫

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এবার প্রথমবারের মতো মাদ্রাসার অনার্সের শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রোববার এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করে দিতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য সরকার এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। ধানমণ্ডিতে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয় স্থাপন করা হয়। রোববার ওই ক্যাম্পাসের উদ্বোধন উপলক্ষে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের নিয়ে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষামন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে মূলত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হল।
সরকার ২০১০ সালে দেশের নামকরা ৩১টি মাদ্রাসায় অনার্স প্রোগ্রাম চালু করে। শুরু থেকে ৫টি বিষয়ে এই প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। বিষয়গুলো হচ্ছে- আল হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আদ-দাওয়া অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ, আল আদাবুল আরবি (আরবি সাহিত্য) এবং ইসলামের ইতিহাস। বর্তমানে এই অনার্স প্রোগ্রাম কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু শুরু থেকে এসব শিক্ষার্থী সেশনজটে পড়ে আছে। বর্তমানে প্রায় ১ বছরের সেশনজট চলছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুরুতে উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী মাদ্রাসাগুলোর অধিভুক্তির জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইসলামী শিক্ষার জন্য বিশেষায়িত পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করব। কেন এর কার্যক্রম সীমিত করব। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল মাদ্রাসা তদারকিই করবে না, নিজেরাও শিক্ষার্থী পড়াবে। ইসলাম ও ইসলামী শিক্ষা নিয়ে এখানে গবেষণা হবে। প্রধানমন্ত্রী এরপর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের থেকে এফিলিয়েটিং (অধিভুক্তি) নাম মুছে দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছায়ই দেশ একটি পূর্ণাঙ্গ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় পেল।
প্রসঙ্গত, মাদ্রাসায় ফাজিল (পাস), ফাজিল (অনার্স) এবং কামিল (স্নাতকোত্তর) পর্যায়ের শিক্ষার জন্য ২০১৩ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন সংসদে পাস হয়। বিপরীত দিকে এসব মাদ্রাসার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ২০০৬ সাল থেকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে মোট কামিল মাদ্রাসা ২০৫টি, ফাজিল (সম্মান) ৩১টি, ফাজিল (অনার্স ও পাস) মাদ্রাসা ১ হাজার ৪৯টি রয়েছে। এর বাইরে সরকারি মাদ্রাসা আছে ৩টি। এসব মাদ্রাসায় মোট শিক্ষক আছেন ২২ হাজার ৯২১ জন। মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৩১ জন। এদের মধ্যে ছাত্রী ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৮৫ জন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক ও জমিয়াতুল মোদাররেসিনের সভাপতি এএএম বাহাউদ্দিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএস মাহমুদ, মো. হেলাল উদ্দিন, মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছায়েফউল্লাহ, জমিয়াতুল মোদাররেসিনের মহাসচিব মাওলানা সাব্বির আহমদ মোমতাজী প্রমুখ।
শিক্ষাবন্ধু শিক্ষামন্ত্রী
অনুষ্ঠানে জমিয়াতুল মোদাররেসিন শিক্ষামন্ত্রীকে শিক্ষাবন্ধু উপাধি প্রদান করে। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে বলেন, আমি আপনাদের একজন কর্মী মাত্র। আমি এই উপাধির যোগ্য নই। আপনারা আমাকে এত স্নেহ করেন, আমার ভয় হয় এই স্নেহের মর্যাদা রাখতে পারব কিনা।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close