jugantor
চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সরাতে আ’লীগ বিএনপির দৌড়ঝাঁপ
রাজি না হলে ব্যবস্থা

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

চট্টগ্রামে ১০ পৌরসভায় মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৫০৫ জন প্রার্থী এখনও পর্যন্ত মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৪৬, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮২ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৭ জন। মেয়র পদে ৪৬ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০, বিএনপির ৯, জাতীয় পার্টির ৫, ইসলামী ফ্রন্টের ৩, এলডিপির ১, ইসলামী আন্দোলনের ১ এবং স্বতন্ত্রের ১৭ জন। চারটি পৌরসভায় ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টেনশনে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। একইভাবে একটি পৌরসভায় বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী নিয়ে খানিকটা টেনশনে রয়েছেন বিএনপির নেতারা। মেয়র ছাড়াও ১০ পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র হিসেবে গড়ে তিন থেকে চারজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ করতে সব পৌরসভাতেই বিদ্রোহী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চলছে চাপাচাপি। ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা যাতে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সেজন্য জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতা এবং সমাজপতিরা নানা ভাবে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চার পৌরসভায় আ’লীগে বিদ্রোহী ৯ জন : চট্টগ্রামে ১০ পৌরসভার মধ্যে চারটিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে টেনশনে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এ চার পৌরসভায় রয়েছে ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে রাউজানে ৪, সীতাকুন্ডে ২, রাঙ্গুনিয়া ও বারৈয়ারহাটে ২ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। কয়েকটি পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহীদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় এসব পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন। উপজেলার কোনো কোনো আওয়ামী লীগ নেতারও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী। রাউজান পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। এরা হচ্ছেন- সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবীর ছেলে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, মীর মোহাম্মদ মনছুর আলম ও স্বপন কুমার দাশ। বারৈয়ারহাটে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বারৈয়ারহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন। এ পৌরসভায় সাবেক আওয়ামীগ নেতা ফজলুল করিমও প্রার্থী হয়েছেন। সীতাকুন্ডে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা অবসরপ্রাপ্ত নায়েক শফিউল আলম এবং পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজ উদ দৌলা ছুট্টু।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর। এর আগেই যাতে বিদ্রোহীরা নিজ উদ্যোগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতারা। সমঝোতায় না এলে এবং মনোনয়নপত্র স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার না করলে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কড়া নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য জেলা নেতারা কেন্দ্রকে চিঠি দেবে বলেও জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যেসব দলীয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদেরকে ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রকে চিঠি দেয়া হবে। কেন্দ্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিএনপির ১টিতে দুই বিদোহী প্রার্থী : এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপি। ১০ পৌরসভার মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন কেবল রাঙ্গুনিয়ায়। এ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন খানকে দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল আমীন এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মফিজুল ইসলাম। দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিতে জোর চেষ্টা করছেন জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতারা। এ প্রসঙ্গে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আমীন তালুকদারকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলেও জানিয়েছেন। যদি প্রত্যাহার না করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি কেন্দ্রকে জানানো হবে। কেন্দ্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



সাবমিট

চট্টগ্রামে বিদ্রোহী সরাতে আ’লীগ বিএনপির দৌড়ঝাঁপ

রাজি না হলে ব্যবস্থা
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
চট্টগ্রামে ১০ পৌরসভায় মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৫০৫ জন প্রার্থী এখনও পর্যন্ত মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ৪৬, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮২ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৭ জন। মেয়র পদে ৪৬ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০, বিএনপির ৯, জাতীয় পার্টির ৫, ইসলামী ফ্রন্টের ৩, এলডিপির ১, ইসলামী আন্দোলনের ১ এবং স্বতন্ত্রের ১৭ জন। চারটি পৌরসভায় ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে টেনশনে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। একইভাবে একটি পৌরসভায় বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী নিয়ে খানিকটা টেনশনে রয়েছেন বিএনপির নেতারা। মেয়র ছাড়াও ১০ পৌরসভার প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র হিসেবে গড়ে তিন থেকে চারজন করে প্রার্থী রয়েছেন। এ অবস্থায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সহজ করতে সব পৌরসভাতেই বিদ্রোহী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চলছে চাপাচাপি। ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা যাতে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সেজন্য জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতা এবং সমাজপতিরা নানা ভাবে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চার পৌরসভায় আ’লীগে বিদ্রোহী ৯ জন : চট্টগ্রামে ১০ পৌরসভার মধ্যে চারটিতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে নিয়ে টেনশনে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এ চার পৌরসভায় রয়েছে ৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থী। এর মধ্যে রাউজানে ৪, সীতাকুন্ডে ২, রাঙ্গুনিয়া ও বারৈয়ারহাটে ২ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। কয়েকটি পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীর চেয়ে বিদ্রোহীদের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় এসব পৌরসভায় দলীয় প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন। উপজেলার কোনো কোনো আওয়ামী লীগ নেতারও বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী। রাউজান পৌরসভায় আওয়ামী লীগ থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। এরা হচ্ছেন- সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবীর ছেলে সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, মীর মোহাম্মদ মনছুর আলম ও স্বপন কুমার দাশ। বারৈয়ারহাটে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বারৈয়ারহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন। এ পৌরসভায় সাবেক আওয়ামীগ নেতা ফজলুল করিমও প্রার্থী হয়েছেন। সীতাকুন্ডে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা অবসরপ্রাপ্ত নায়েক শফিউল আলম এবং পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিরাজ উদ দৌলা ছুট্টু।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর। এর আগেই যাতে বিদ্রোহীরা নিজ উদ্যোগে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের নেতারা। সমঝোতায় না এলে এবং মনোনয়নপত্র স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার না করলে বিদ্রোহীদের দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কড়া নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য জেলা নেতারা কেন্দ্রকে চিঠি দেবে বলেও জানিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যেসব দলীয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদেরকে ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে তারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রকে চিঠি দেয়া হবে। কেন্দ্র তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিএনপির ১টিতে দুই বিদোহী প্রার্থী : এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপি। ১০ পৌরসভার মধ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন কেবল রাঙ্গুনিয়ায়। এ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন খানকে দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল আমীন এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর মফিজুল ইসলাম। দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নিতে জোর চেষ্টা করছেন জেলা ও থানা পর্যায়ের নেতারা। এ প্রসঙ্গে উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসান যুগান্তরকে বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়া থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল আমীন তালুকদারকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন বলেও জানিয়েছেন। যদি প্রত্যাহার না করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টি কেন্দ্রকে জানানো হবে। কেন্দ্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র