jugantor
দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে জেএমবির কিলিং মিশন
মামলার প্রধান আসামি রানার তথ্য

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

বিদেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের খুন করে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে কিলিং মিশনে নেমেছে জেএমবি। সারা দেশে এখনও এ জঙ্গিগোষ্ঠীটির সামরিক ও দাওয়াতি শাখা সক্রিয় রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া জেএমবির সামরিক শাখার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা পুলিশের কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কিলিং মিশনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের তালিকাও পুলিশের হাতে এসেছে। তাদের ধরতে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে জেএমবির আরেক সদস্য খয়বর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পীরগাছা উপজেলার হাতীবান্ধা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার মাসুদ রানাকে পীরগাছা থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী হত্যাকাণ্ড এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার মোটিভও এখন পুলিশের কাছে স্পষ্ট। রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি হুমায়ুন কবির বুধবার যুগান্তরকে বলেন, মাসুদ রানার কাছ থেকে পুলিশ অনেক তথ্য পাচ্ছে। তবে অনেক কিছু সে এড়িয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, মাসুদ রানা পুলিশকে জানিয়েছে, এখনও দেশজুড়ে জেএমবির কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে তাদের দাওয়াতি ও সামরিক শাখা এখন সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এ দুই শাখার সদস্যরা হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশী নাগরিকসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের হত্যার মিশনে নেমেছে। কারণ হিসেবে রানা জানায়, এভাবে তারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি করে চলমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে দিতে চায়। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের পতন ঘটাতে চায় তারা। রংপুর বিভাগে জেএমবির যেসব সদস্য সক্রিয় তাদের কয়েকজনের নাম-ঠিকানাও পেয়েছে পুলিশ।

মাসুদ রানা পুলিশকে আরও জানায়, তারা অপারেশন করার আগে এলাকা রেকি করে- ওই এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া নেয়, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, অপারেশন বা কিলিং মিশন শেষে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পথঘাটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেয়। কিলিং মিশনের সদস্যদের জন্য যানবাহনও সরবরাহ করে। জেএমবির সামরিক শাখার কাজ সম্পর্কে রানা পুলিশকে জানায়, এ ইউনিট জেএমবির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ, অস্ত্র চালনা ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার কাজ করে থাকে। এ রকম ভয়াবহ তথ্য পাওয়ার পর রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে হত্যার ঘটনায় নতুনভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, রংপুর অঞ্চলে জেএমবির এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরে পুলিশ এখন কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। জঙ্গিতৎপরতা সম্পর্কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

মাসুদ রানা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে প্রথমে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে জেএমবির মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেখানে সামরিক শাখায় কাজ করছেন। জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে বুধবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিক তাকে পীরগাছা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহাম্মেদ ওই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেএমবির সামরিক শাখার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার গ্রামের বাড়ি পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া গ্রামে। বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, তার বাড়ির পাশে যে মসজিদ, সেখানে বসেই জেএমবির কার্যক্রম চলত। ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেএমবি নেতা বাংলা ভাই। তার জঙ্গি তৎপরতা ও খুনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ওই মসজিদের দেয়ালে লেখা তার নামফলকের শ্বেতপাথরটি তুলে ফেলা হয়। মসজিদটি রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি অব কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। এর নামফলকটি এখনও আছে।

এলাকার অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই মসজিদে বসেই জেএমবি’র কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা অনেক দিন ধরে গোপন আস্তানায় ছিল। সম্প্রতি এলাকায় আসার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গত ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারী গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১০ নভেম্বর কাউনিয়া উপজেলার বাজেমজকুর গ্রামের একটি মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে হত্যা করা হয়।



সাবমিট

দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে জেএমবির কিলিং মিশন

মামলার প্রধান আসামি রানার তথ্য
 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
বিদেশীসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের খুন করে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে কিলিং মিশনে নেমেছে জেএমবি। সারা দেশে এখনও এ জঙ্গিগোষ্ঠীটির সামরিক ও দাওয়াতি শাখা সক্রিয় রয়েছে। গ্রেফতার হওয়া জেএমবির সামরিক শাখার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা পুলিশের কাছে এমন তথ্য দিয়েছে।

জেএমবির রংপুর অঞ্চলের কিলিং মিশনের দায়িত্বে থাকা সদস্যদের তালিকাও পুলিশের হাতে এসেছে। তাদের ধরতে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে জেএমবির আরেক সদস্য খয়বর আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পীরগাছা উপজেলার হাতীবান্ধা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার মাসুদ রানাকে পীরগাছা থানায় বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলী হত্যাকাণ্ড এবং বাহাই সম্প্রদায়ের নেতা রুহুল আমিনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার মোটিভও এখন পুলিশের কাছে স্পষ্ট। রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি হুমায়ুন কবির বুধবার যুগান্তরকে বলেন, মাসুদ রানার কাছ থেকে পুলিশ অনেক তথ্য পাচ্ছে। তবে অনেক কিছু সে এড়িয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, মাসুদ রানা পুলিশকে জানিয়েছে, এখনও দেশজুড়ে জেএমবির কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে। বিশেষ করে তাদের দাওয়াতি ও সামরিক শাখা এখন সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে। এ দুই শাখার সদস্যরা হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদেশী নাগরিকসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের হত্যার মিশনে নেমেছে। কারণ হিসেবে রানা জানায়, এভাবে তারা দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি করে চলমান অর্থনৈতিক অবস্থা ভেঙে দিতে চায়। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সরকারের পতন ঘটাতে চায় তারা। রংপুর বিভাগে জেএমবির যেসব সদস্য সক্রিয় তাদের কয়েকজনের নাম-ঠিকানাও পেয়েছে পুলিশ।

মাসুদ রানা পুলিশকে আরও জানায়, তারা অপারেশন করার আগে এলাকা রেকি করে- ওই এলাকায় বাসা বা মেস ভাড়া নেয়, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, অপারেশন বা কিলিং মিশন শেষে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পথঘাটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবস্থান সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেয়। কিলিং মিশনের সদস্যদের জন্য যানবাহনও সরবরাহ করে। জেএমবির সামরিক শাখার কাজ সম্পর্কে রানা পুলিশকে জানায়, এ ইউনিট জেএমবির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সরবরাহ, অস্ত্র চালনা ও কিলিং মিশনে অংশ নেয়ার কাজ করে থাকে। এ রকম ভয়াবহ তথ্য পাওয়ার পর রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে হত্যার ঘটনায় নতুনভাবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, রংপুর অঞ্চলে জেএমবির এসব কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পেরে পুলিশ এখন কিছুটা নড়েচড়ে বসেছে। জঙ্গিতৎপরতা সম্পর্কে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

মাসুদ রানা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে সে ছাত্রশিবিরের নেতা হিসেবে প্রথমে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে জেএমবির মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেখানে সামরিক শাখায় কাজ করছেন। জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাসুদ রানাকে বুধবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। অস্ত্র মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিক তাকে পীরগাছা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহাম্মেদ ওই আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেএমবির সামরিক শাখার আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানার গ্রামের বাড়ি পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়া গ্রামে। বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, তার বাড়ির পাশে যে মসজিদ, সেখানে বসেই জেএমবির কার্যক্রম চলত। ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেএমবি নেতা বাংলা ভাই। তার জঙ্গি তৎপরতা ও খুনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ওই মসজিদের দেয়ালে লেখা তার নামফলকের শ্বেতপাথরটি তুলে ফেলা হয়। মসজিদটি রিভাইভ্যাল অব ইসলামিক হেরিটেজ সোসাইটি অব কুয়েতের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল। এর নামফলকটি এখনও আছে।

এলাকার অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই মসজিদে বসেই জেএমবি’র কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা অনেক দিন ধরে গোপন আস্তানায় ছিল। সম্প্রতি এলাকায় আসার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

গত ৩ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারী গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১০ নভেম্বর কাউনিয়া উপজেলার বাজেমজকুর গ্রামের একটি মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে হত্যা করা হয়।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র