jugantor
আলোচনা সভায় বক্তারা
অনেক দুর্নীতিবাজ দুদক থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

দুর্নীতির রাজা-মহারাজা খ্যাত অনেক দুর্নীতিবাজ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। সর্বজনস্বীকৃত দুর্নীতিবাজরা ছাড়া পেলে মানুষের মধ্যে দুদক সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য করেছেন প্রেস ইন্সটিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। বুধবার আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ। দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালও এতে বক্তব্য রাখেন।

‘দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদে স্বাক্ষরের পর থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর দিবসটি উদযাপন করছে। দিবসটি উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভাগ ও জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর অংশ হিসেবে সেগুন বাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়, বিজয়নগর, পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়। র‌্যালি ও মানববন্ধনে দুদক চেয়ারম্যান, দুই কমিশনার, সচিব, মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বেলা ১১টায় দুদকের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সন্ধ্যা ৬টায় দুদকের উদ্যোগে রমনা শিশুপার্কে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র ইউনিট দুর্নীতিবিরোধী চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। আজ রাজধানীর ওসমানী অডিটরিয়ামে আয়োজন করেছে ‘গণ-শুনানি’র। এতে ঢাকার এসিল্যান্ড, মেট্রোপলিটন এলাকার ভূমি কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিআইবি’র চেয়ারম্যান ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে সেবা দিতে চাইলে দুদকের জনবল বাড়াতে হবে। সত্য কঠিন, সেই কঠিনকে ভালোবাসলাম। দুদককে সত্যকে ভালোবাসতে হবে।

তিনি বলেন, দুদকের সার্বিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করলে দেখতে পাই দুদকের অব্যাহতির তালিকায় বিরোধী দলের সংখ্যা খুব কম। বর্তমান কমিশন মন্ত্রী ও আমলা এবং অনেক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিকে দুদক কার্যালয়ে হাজির করতে পেরেছে। কিন্তু শুধু হাজির করাটাই যথেষ্ট নয়। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত কী ব্যবস্থা নেয়া হল সেটিই হল বিবেচ্য বিষয়। জনগণের আস্থা বাড়ার মতো কাজ করার জন্য দুদককে পরামর্শ দেন তিনি। দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু মুক্তির স্বাদ পাইনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল দুর্নীতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যেহেতু সমালোচনা হচ্ছে তাতেই প্রমাণিত যে আমরা কাজ করছি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে দুর্নীতিবিরোধী এ যুদ্ধ আরও বেগবান হবে বলে আশা রাখি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চলে যাচ্ছে। তৃণমূল মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনতে এবং তাদের সেবা নিশ্চিত করতে ‘গণশুনানি’ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘অনেক ক্ষমতাধরের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দুদকের বারান্দায় এনে হাজির করেছি, যা অতীতের কোনো কমিশন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, আমরা নাকি সরকারি দলকে অব্যাহতি দিই, আমরাতো বিএনপি চেয়ারপারসনকেও (খালেদা জিয়া) ভৈরব সেতুর দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।

টিআইবি’র মানববন্ধন : এদিকে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ প্রতিবছর সরকারিভাবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক আলমগীর হোসেন, টিআইবির সদস্য ডা. নুরুল ইসলাম, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্য, টিআইবি কর্মী, সমমনা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে। তবে, এখনও দুর্নীতিবিরোধী নানা আইনি কাঠামো ও নীতিমালার বাস্তবায়নে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। টিআইবি’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি সরকারিভাবে উদযাপন এখন সময়ের দাবি।



সাবমিট
আলোচনা সভায় বক্তারা

অনেক দুর্নীতিবাজ দুদক থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
দুর্নীতির রাজা-মহারাজা খ্যাত অনেক দুর্নীতিবাজ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। সর্বজনস্বীকৃত দুর্নীতিবাজরা ছাড়া পেলে মানুষের মধ্যে দুদক সম্পর্কে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়। এ মন্তব্য করেছেন প্রেস ইন্সটিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক গোলাম সারওয়ার। বুধবার আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু ও কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ। দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব আবু মো. মোস্তফা কামালও এতে বক্তব্য রাখেন।

‘দেশপ্রেমের শপথ নিন, দুর্নীতিকে বিদায় দিন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদে স্বাক্ষরের পর থেকে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর দিবসটি উদযাপন করছে। দিবসটি উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং বিভাগ ও জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এর অংশ হিসেবে সেগুন বাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কাকরাইল মোড়, বিজয়নগর, পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে মানববন্ধনের মাধ্যমে শেষ হয়। র‌্যালি ও মানববন্ধনে দুদক চেয়ারম্যান, দুই কমিশনার, সচিব, মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। বেলা ১১টায় দুদকের কনফারেন্স লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সন্ধ্যা ৬টায় দুদকের উদ্যোগে রমনা শিশুপার্কে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র ইউনিট দুর্নীতিবিরোধী চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে। আজ রাজধানীর ওসমানী অডিটরিয়ামে আয়োজন করেছে ‘গণ-শুনানি’র। এতে ঢাকার এসিল্যান্ড, মেট্রোপলিটন এলাকার ভূমি কর্মকর্তারা ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিআইবি’র চেয়ারম্যান ও দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আরও বলেন, সাধারণ জনগণকে সেবা দিতে চাইলে দুদকের জনবল বাড়াতে হবে। সত্য কঠিন, সেই কঠিনকে ভালোবাসলাম। দুদককে সত্যকে ভালোবাসতে হবে।

তিনি বলেন, দুদকের সার্বিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করলে দেখতে পাই দুদকের অব্যাহতির তালিকায় বিরোধী দলের সংখ্যা খুব কম। বর্তমান কমিশন মন্ত্রী ও আমলা এবং অনেক হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিকে দুদক কার্যালয়ে হাজির করতে পেরেছে। কিন্তু শুধু হাজির করাটাই যথেষ্ট নয়। তাদের বিরুদ্ধে কার্যত কী ব্যবস্থা নেয়া হল সেটিই হল বিবেচ্য বিষয়। জনগণের আস্থা বাড়ার মতো কাজ করার জন্য দুদককে পরামর্শ দেন তিনি। দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু মুক্তির স্বাদ পাইনি। এর অন্যতম প্রধান কারণ হল দুর্নীতি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, যেহেতু সমালোচনা হচ্ছে তাতেই প্রমাণিত যে আমরা কাজ করছি। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে দুর্নীতিবিরোধী এ যুদ্ধ আরও বেগবান হবে বলে আশা রাখি। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদক এখন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় চলে যাচ্ছে। তৃণমূল মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনতে এবং তাদের সেবা নিশ্চিত করতে ‘গণশুনানি’ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘অনেক ক্ষমতাধরের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে পেরেছি। অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দুদকের বারান্দায় এনে হাজির করেছি, যা অতীতের কোনো কমিশন করতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, আমরা নাকি সরকারি দলকে অব্যাহতি দিই, আমরাতো বিএনপি চেয়ারপারসনকেও (খালেদা জিয়া) ভৈরব সেতুর দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছি।

টিআইবি’র মানববন্ধন : এদিকে ৯ ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস’ প্রতিবছর সরকারিভাবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। মানববন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক আলমগীর হোসেন, টিআইবির সদস্য ডা. নুরুল ইসলাম, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপের সদস্য, টিআইবি কর্মী, সমমনা সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়েছে। তবে, এখনও দুর্নীতিবিরোধী নানা আইনি কাঠামো ও নীতিমালার বাস্তবায়নে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। টিআইবি’র প্রধান নির্বাহী বলেন, ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসটি সরকারিভাবে উদযাপন এখন সময়ের দাবি।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র