jugantor
প্যানেলভুক্তদের নিয়োগের নির্দেশ রেজিস্টার্ড প্রাথমিকে
১৩০টি রিটের রায়

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক (সদ্য জাতীয়করণকৃত) বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য তৈরিকৃত প্যানেলভুক্তদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে আরও একটি রায় হয়েছে। ১৩০টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে এসব রিটে কতজন প্যানেলভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন তা আইনজীবীরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬৭টি রিটের নিষ্পত্তি করে আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার প্যানেলভুক্তকে নিয়োগের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন। এসব রায়ের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রথম যে রায়টি হাইকোর্ট দেন তার বিরুদ্ধে সরকার লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করে।

৭ মে ওই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর নিয়োগপ্রত্যাশীদের নিয়োগ পাওয়ার ব্যাপারে আরও এক ধাপ আশা জাগে। পরে আপিল বিভাগের এ খারিজ আদেশ রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে সরকারপক্ষ আরও একটি আবেদন করে। ৩ ডিসেম্বর ওই আবেদনের শুনানির কথা থাকলেও কার্যতালিকায় না থাকায় তা শুনানি হয়নি।

রিটকারীদের একজন আইনজীবী ছিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি, রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তির পর নিয়োগের পথ সুগম হবে। সরকারের উচিত হাজার হাজার পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ নিয়োগের পদক্ষেপ নেয়া।’

২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপজেলাভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর শর্তে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর ভিত্তি করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে প্যানেলভুক্তদের মধ্য থেকে প্রায় ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ২০১৩ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলে নিয়োগ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি হাইকোর্টে রিট করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

হাজার হাজার রিটকারী ও তাদের পরিবার চাকরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়োগের সব শর্ত পালন করে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়ার পরও নিয়োগ না পেয়ে প্যানেলভুক্তরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে তারা হাইকোর্টে এসে আইনের আশ্রয় নেন। হাইকোর্ট রায়ের কপি হাতে পাওয়ার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩০ দিনের আবার কোনো ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

কিন্তু এ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও প্যানেলভুক্ত একজনও নিয়োগ পাননি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার শূন্যপদ রয়েছে।



সাবমিট

প্যানেলভুক্তদের নিয়োগের নির্দেশ রেজিস্টার্ড প্রাথমিকে

১৩০টি রিটের রায়
 যুগান্তর রিপোর্ট 
১০ ডিসেম্বর ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক (সদ্য জাতীয়করণকৃত) বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের জন্য তৈরিকৃত প্যানেলভুক্তদের নিয়োগের নির্দেশ দিয়ে আরও একটি রায় হয়েছে। ১৩০টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে এসব রিটে কতজন প্যানেলভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন তা আইনজীবীরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৬৭টি রিটের নিষ্পত্তি করে আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার প্যানেলভুক্তকে নিয়োগের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দিয়েছেন। এসব রায়ের মধ্যে ২০১৩ সালের ১৮ জুন প্রথম যে রায়টি হাইকোর্ট দেন তার বিরুদ্ধে সরকার লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) দায়ের করে।

৭ মে ওই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর নিয়োগপ্রত্যাশীদের নিয়োগ পাওয়ার ব্যাপারে আরও এক ধাপ আশা জাগে। পরে আপিল বিভাগের এ খারিজ আদেশ রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে সরকারপক্ষ আরও একটি আবেদন করে। ৩ ডিসেম্বর ওই আবেদনের শুনানির কথা থাকলেও কার্যতালিকায় না থাকায় তা শুনানি হয়নি।

রিটকারীদের একজন আইনজীবী ছিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া যুগান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি, রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তির পর নিয়োগের পথ সুগম হবে। সরকারের উচিত হাজার হাজার পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত এ নিয়োগের পদক্ষেপ নেয়া।’

২০১০ সালের ১১ এপ্রিল রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপজেলাভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তির ৩ নম্বর শর্তে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ওপর ভিত্তি করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ২০১২ সালের ৯ এপ্রিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪২ হাজার ৬১১ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে প্যানেলভুক্তদের মধ্য থেকে প্রায় ১০ হাজার জনকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ২০১৩ সালে রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হলে নিয়োগ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি হাইকোর্টে রিট করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

হাজার হাজার রিটকারী ও তাদের পরিবার চাকরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিয়োগের সব শর্ত পালন করে মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়ার পরও নিয়োগ না পেয়ে প্যানেলভুক্তরা আন্দোলনে নামেন। একপর্যায়ে তারা হাইকোর্টে এসে আইনের আশ্রয় নেন। হাইকোর্ট রায়ের কপি হাতে পাওয়ার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৩০ দিনের আবার কোনো ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে নিয়োগ দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

কিন্তু এ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হলেও প্যানেলভুক্ত একজনও নিয়োগ পাননি। সংশ্লিষ্টরা জানান, সদ্য জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার শূন্যপদ রয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র