¦
পাঠ্যবই মানসম্মত না হলে জরিমানা : শিক্ষামন্ত্রী

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরকারি পাঠ্যপুস্তক মানসম্মত না হলে সরবরাহকারীদের জরিমানার অর্থ গুনতে হবে বলে হুশিয়ার করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের দেয়া অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের উদ্যোগে এক সংলাপে অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সংলাপে সভাপতি শ্যামল সরকারও উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বছরের প্রথম দিনে প্রথম-নবম শ্রেণী পর্যন্ত বাংলাদেশের চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে। এবার প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। এত বই আলাদা করে দেখা সম্ভব নয়। এ কারণে কিছু সমস্যা থেকেই যায়। প্রাথমিকের বই ছাপায় বিশ্বব্যাংকের ‘সামান্য’ অর্থায়ন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। তাই ছাপাটা দেরিতে শুরু হয়েছে। আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, ছাপা হয়ে যথাসময়ে বই পৌঁছে যাবে। মঙ্গলবার নাগাদ ৮০ ভাগ বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছে গেছে বলে জানান তিনি। অনেক বই পড়ার অযোগ্য এমন অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘শতভাগ মান অর্জন একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এটা প্রায় অসম্ভব। ৮০ ভাগ হলেও আমরা সন্তুষ্ট। যারা এর জন্য দায়ী হবেন, তাদের জরিমানা গুনতে হবে।’ জানুয়ারি মাসের প্রথম দিন বই উৎসব হলেও এবার ওইদিন শুক্রবার হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইছে ২ জানুয়ারি করতে। আর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বছরের প্রথম দিনই বই উৎসব করার ঘোষণা দিয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় সরকারি কোষাগারে দিতে হবে কি না- এর জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আইনের আওতায় আসছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব। সরকারের দেয়া অর্থের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ওই টাকা সরকারি কাজে চলে আসবে কি না, সেটা আইনে বলা হবে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দের টাকা যাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় হয় তা নিশ্চিত করতেই আইনের বিধি-বিধানে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি করা হবে। এছাড়া অষ্টম পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) শিক্ষক-কর্মচারীরাও বেতন পাবেন বলেও আশ্বাস দেন শিক্ষামন্ত্রী।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ শিক্ষকরা যে সুযোগ-সুবিধা এতদিন পেয়েছেন, তা বহাল থাকবে, এজন্য কাজ চলছে। তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করা। গুণগত মান বাড়ছে কিন্তু যা হওয়ার তা হয়নি।
দেশের মাদ্রাসাগুলোতে যাতে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি না হতে পারে সেজন্য মাদ্রাসাপ্রধানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সব মাদ্রাসা জঙ্গি তৈরি করে, তা ঢালাওভাবে বলা ঠিক নয়। কিছু লোক ধর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গি কার্যক্রম চালায়। তা বন্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে মাদ্রাসাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রচলিত ও গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষা উপহার দেয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close