¦
নরসিংদীতে যুগান্তর পোড়াল মেয়র প্রার্থী কামরুলের কর্মীরা

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

নরসিংদীর পৌর নির্বাচনের সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে যুগান্তর পত্রিকা পুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের কর্মী-সমর্থকরা। পত্রিকা বিলি ও নির্বাচনী প্রচারের সময়ও হামলা চালায় তারা। এতে একজন পত্রিকার হকারসহ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম কাইয়ূমের চার কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন : রাঙ্গামাটি এলাকার আবু সিদ্দিক মিয়ার ছেলে পত্রিকার হকার মো. কাউসার মিয়া, একই এলাকার মৃত হানিস খাঁর ছেলে খলিল, বিলাসদী এলাকার আবু তাহেরের ছেলে আলমগীর, ইউএমসি এলাকার শিশু মোল্লা। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন আলমগীর ও খলিল। মঙ্গলবার যুগান্তরের প্রথম পাতায় ‘কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে মেয়র প্রার্থী কামরুল, ঘাতকের সঙ্গে বুবলীর ফোনালাপে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। খবরটি পড়তে যুগান্তর নিয়ে কাড়াকাড়ি দেখা যায় পাঠকদের মধ্যে। এদিন নরসিংদীতে রীতিমতো হটকেকে পরিণত হয় যুগান্তর।
সংবাদটি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি কাড়ায় জেলাজুড়ে আলোচনার ঝড় ওঠে। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়াত জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাৎ বুবলীর সঙ্গে লোকমান হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মোবারক হোসেন মোবা ওরফে ফকির ভাইয়ের নিবিড় ফোনালাপের সংবাদ পাঠকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। পত্রিকা স্টল ও হকারদের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পৌর এলাকার পাঠকরা। পরে একটি পক্ষ স্টল ও হকারদের কাছ থেকে সব পত্রিকা কিনে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিক্রি হয়ে যায় সব যুগান্তর। সকাল ৯টার পর থেকে শুরু হয় যুগান্তর পত্রিকা খোঁজাখুঁজির পালা। পরে অনেককে ফটোকপি করতেও দেখা যায়। ফটোকপির দোকানেও চলে খবরদারি। সেখানেও বাধা দেয় ওই পক্ষটি।
হকার কাউসার মিয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সরকারি কলেজ এলাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী এসএম কাইয়ূমের ‘মোবাইল’ প্রতীকের নির্বাচনী লিফলেট নিয়ে প্রচারণা চালানোর সময় মেয়র প্রার্থী কামরুলের ছোট ভাই শামীম নেওয়াজসহ ১৫-২০ জন লোক তার গতিরোধ করে।
কাউসার মিয়া বলেন, ‘এ সময় তারা আমাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আমার হাতে থাকা নির্বাচনী লিফলেট ও যুগান্তর পত্রিকা ছিনিয়ে নেয়। পরে যুগান্তর পত্রিকা পুড়িয়ে ফেলে। তারা আমাকে একশ’বার কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে মোবাইলে ছবি তুলে রাখে।’
অন্যদিকে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে মুখে মুখে রটে যায় প্রয়াত মেয়র পরিবারের নানা স্ক্যান্ডাল। বেরিয়ে আসে আধুনিক নরসিংদীর রূপকার জনবন্ধু লোকমান হোসেনের সহধর্মিণী বুবলীর পারিবারিক অশান্তির কথাও।
আহত খলিল বলেন, নাগরীয়াকান্দি মোল্লাবাড়ির সামনে নৌকা মার্কার সমর্থকরা আমাকে মারধর করে। পরে আমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চয়ে যায়। অপর দু’জনের ওপরও একইভাবে হামলা হয়।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে যুগান্তর থেকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম আবুল কাশেম বলেন, ‘নির্বাচনসংক্রান্ত কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনায় থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে।’
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close