¦
রাজশাহীতে তোপের মুখে ব্যারিস্টার আমিনুল

আনু মোস্তফা, রাজশাহী থেকে | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

নেতাকর্মীদের প্রবল বাধায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর কাকনহাটে এ ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীরা বিএনপির এ কেন্দ্রীয় নেতাকে কাকনহাট পৌর এলাকার সীমানা এলাকাতেও ঢুকতে দেননি। কাকনহাট পৌর এলাকার প্রবেশমুখ শেরাপাড়ায় সড়কের ওপর একঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তাকে। শেষে ফিরে যান গোাদাগাড়ীতে। ব্যারিস্টার আমিনুল হক নেতাকর্মীদের তোপের মুখে রাজশাহীর কোনো পৌরসভাতেই প্রচারণায় নামতে পারছেন না।
কাকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাসমত আলী যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক মেয়র প্রার্থী হাফিজুর রহমানের পক্ষে গণসংযোগের জন্য মঙ্গলবার সকালে কাকনহাটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমিনুল হকের আগমন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কয়েক দফা কাকনহাট পৌর এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পৌর এলাকায় প্রবেশপথে শেরাপাড়ায় অবস্থান নেয়। নেতাকর্মীরা মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের শাস্তি দাবি করে স্লোগান দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে আমিনুল হকসহ তার সঙ্গীয় নেতাদের মুক্ত করেন। তবে আমিনুল হক পৌর এলাকায় প্রবেশ করলে আইনশৃংখলার অবনতির আশংকায় পুলিশ তাকে সেখান থেকেই ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। শেষ পর্যন্ত আমিনুল হক কাকনহাটে না গিয়ে গোদাগাড়িতে ফিরে যান। এ সময় গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসাহাক আলী, তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিনসহ জেলার নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন।
ব্যারিস্টার আমিনুল হককে কাকনহাটে প্রবেশে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে পৌর বিএনপির একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, পৌর নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কারও মতামতের তোয়াক্কা না করে টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এজন্যই আমিনুল হককে প্রতিরোধ করা হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা সাজেদুর রহমান মার্কনী যুগান্তরকে বলেন, ব্যারিস্টার আমিনুল হক আসলে আওয়ামী লীগের এজেন্ট। সে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সুবিধা করে দিতেই রাজশাহীর বিভিন্ন পৌরসভায় বিএনপির দুর্বল প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছেন। অন্যদিকে সোমবার সন্ধ্যার পর মুণ্ডুমালা পৌরসভায় দলীয় মেয়র প্রার্থী ফিরোজ কবীরের পক্ষে গণসংযোগে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক। বাধাইড় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সময় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থেকে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন আহত হয়। ব্যাপক হৈ-হট্টগোলের মধ্যে নেতাকর্মীরা ব্যারিস্টার আমিনুল হক শেষ পর্যন্ত গণসংযোগ না করে এলাকা ত্যাগ করেন। ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তানোর পৌর এলাকায় দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যাবেন কি-না তা বিকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানা গেছে, তানোরেও ব্যারিস্টার আমিনুল হককে প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close