¦
স্বাধীন বাংলা বেতারের সংগঠক রাশিদুল হোসেন আর নেই

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের সংগঠক, শব্দসৈনিক রাশিদুল হোসেন (৮০) আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। একাত্তরে বাঙালির স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনায় যাদের হাতে গড়ে তোলা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে নয় মাস প্রেরণা যুগিয়েছে, তিনি তাদেরই একজন।
মুক্তিযুদ্ধের এই সাহসী সৈনিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট হিসেবে পরিচিত স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের যে ১০ জন প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন রাশিদুল হোসেন।
শেখ হাসিনা বলেন, এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার অবদান আজীবন দেশ ও দেশের জনগণ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ও শোকসন্তোপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাশিদুল হোসেনকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সকালে রাশিদুল হোসেনের কফিন নিয়ে আসা হয় তার ৩৪ বছরের কর্মস্থল আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার কার্যালয়ে। এখানে তার জানাজায় অংশ নেন সাবেক সহকর্মী থেকে শুরু করে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই। উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও রাশিদুল হোসেনের একমাত্র ছেলে মনির হোসেনসহ তার অসংখ্য শুভাকাক্সক্ষী। জানাজা শেষে বেলা ১১টার দিকে এই শব্দ সৈনিকের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রওনা হয়। বাদ আসর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তর মৌড়াইল জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় উত্তর মৌড়াইল কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় রাশিদুল হোসেনকে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে দশ সাহসী সৈনিকের উদ্যোগে বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়। ওই বেতার কেন্দ্র থেকেই ২৬ মার্চ আওয়ামী লীগ নেতা এমএ হান্নান বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। যা পরদিন পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। ৩০ মার্চ সেখান থেকেই প্রথম বারের মতো শোনা যায় ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’। ওই দিন দুপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় এ বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময়কার সহকর্মী রেজাউল করিম বলেন, বম্বিং হওয়ার পরে আমরা দশজন এক কিলোওয়াটের একটা ট্রান্সমিটার নিয়ে ত্রিপুরার বগাফায় চলে গেলাম। তিনি বলেন, ‘রাশিদ ভাই একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।’
অবশ্য যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের এ সংগঠক হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো সরকার, সেটা আওয়ামী লীগ হোক- কি বিএনপি, একটা সার্টিফিকেট ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। সেটাও আমরা অনেক সংগ্রাম করে পেয়েছি।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close