¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
শীতজনিত রোগে মৃত ২৩

রাশেদ রাব্বি | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

দেশে চলতি মৌসুমে শীতজনিত রোগে এ পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে এআরআই বা ঠাণ্ডাজনিত শ্বাসকষ্টে ১৪ জন, ডায়রিয়ায় ৪ জন এবং অন্যান্য রোগে ৫ জন। তবে এবারের শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট ১০টি জেলার ৫৩টি উপজেলায় শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় এ সময়ে এআরআই বা ঠাণ্ডাজনিত শ্বাসকষ্টে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৮১৪ জন, ডায়রিয়ায় ২৫ হাজার ৭৯৩ জন এবং অন্যান্য রোগে ৫ হাজার ৯৯৮ জন। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে এ মৌসুমে মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। উল্লিখিত এলাকাগুলোয় মোট এক হাজার ১৯২টি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, আবহাওয়ার এ পরিবর্তনের সময় মানব শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন ধরনের জটিল ও কঠিন রোগব্যাধি। এর মধ্যে ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ, সর্দি-কাশি, জ্বর, ব্রংকাইটিস, হাঁপানি ও নিউমোনিয়া অন্যতম।
সরেজমিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আইসিডিডিআরবি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চেম্বারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে রোগীদের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমী এসব রোগের সঙ্গে বাড়ছে এলার্জির প্রকোপসহ বিভিন্ন চর্মরোগ। অন্যদিকে এ সময়টাতে রোটা ভাইরাসের কারণে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ভাইরাল ডায়রিয়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় বাতাসে অতিমাত্রায় ধুলোবালি বাড়তে থাকে, সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তবে এসব ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করলে এ ধরনের ঠাণ্ডাজনিত রোগ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. খোরশেদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে প্রচুর শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেকে নিউমোনিয়া মনে করলেও বেশির ভাগ শিশুই একিউট ব্রংকাইটসে আক্রান্ত। এ রোগের ক্ষেত্রে শিশুদের ভুল চিকিৎসা হলে মৃত্যুও হতে পারে। তিনি বলেন, এ রোগে শিশুদের মূলত অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। তাই দু-একদিন হাসপাতালে রেখে অক্সিজেন দিলে শিশু সুস্থ হয়ে উঠবে।
শীতজনিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবদুল জলিল। তিনি যুগান্তরকে বলেন, শীতে সাধারণত ঠাণ্ডাজনিত, খাদ্যবাহিত এবং বায়ুবাহিত রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের অবশ্যই ধুলাবালি, ফুলের রেণু এবং কুয়াশা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এসব থেকেই শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা শুরু হয়। এছাড়া এ সময় কিছু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সেগুলো থেকেও রোগব্যাধি ছড়ায়। শীতকালে জলাধারে পানি কমে আসে। এ সময় পানি অনেক বেশি দূষিত হয়ে পড়ে। ফলে যারা জলাধার থেকে পানি পান করেন তাদের সচেতন হতে হবে। অধ্যাপক জলিল বলেন, সচেতনতা অবলম্বন করলেই শীতজনিত রোগ থেকে অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব।
এদিকে শীতকালীন আরেকটি রোগ নিপাহর কোনো প্রাদুর্ভাব এখনও দেখা যায়নি বলে জানা গেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, নিপাহর সময় শুরু হলেও এখনও দেশের কোথাও এ রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে নিপাহে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ ভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। আক্রান্তের হাঁচি-কাশি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সংস্পর্শে আসা যে কারও দেহে দ্রুত সংক্রমণ ঘটতে পারে। তবে আগে থেকে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় এবার এখনও কোনো আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, আগের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৫টি জেলা ফরিদপুর, রাজশাহী, রংপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ীতে একটিভ সার্ভিলেন্স টিম কাজ করছে। মূলত জীবাণুবাহী বাদুড় খেজুর রসের হাঁড়িতে মুখ দিলে লালার সঙ্গে জীবাণু মিশে যায়। সেই কাঁচা খেজুর রস পান করার সাত থেকে আট দিনের মধ্যে এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এ রোগ হলে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. একেএম শামসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, শীতজনিত রোগ থেকে নিরাপদ থাকতে প্রথমত, শীত আসতেই সবাইকে সচেতন হতে হবে। দ্বিতীয়ত, রোগ দেখা দিলেই দ্রুত নিবন্ধিত চিকিৎসক অথবা হাসপাতালে যেতে হবে।
 

খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close