¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
পরাজয়ের গ্লানি বিএনপিতে

জিয়াউল গনি সেলিম, রাজশাহী ব্যুরো | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

রাজশাহী অঞ্চলের পৌর নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বিভাগের ৫০টি পৌরসভা নির্বাচনে বেশিরভাগই চলে গেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দখলে। কোনো কোনো জেলাতে জয়ের নাগালই পায়নি বিএনপি। একই চিত্র কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রেও। পরাজয়ের গ্লানি এড়াতে পারেনি বিএনপি। এতে বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্রই ধরা পড়েছে। তবে বিএনপি নেতাদের দাবি, এ ভোটে প্রকৃতপক্ষে জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেনি। এক সময় বিএনপি সমর্থিত এলাকা হিসেবেই ধরা হতো রাজশাহী অঞ্চলকে। কিন্তু সে অবস্থা যে এখন আর নেই তা সবে শেষ হওয়া পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল থেকেই অনুমান করা হচ্ছে। এ বিভাগের ৫০টি পৌরসভা নির্বাচনে ৩৪টিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের ১৩টি পৌরসভার সব ক’টিতেই হেরেছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা। তবে মাত্র ১০টি পৌরসভায় জয়ের দেখা পেয়েছে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি।
এদিকে, রাজশাহী বিভাগের ৫০টি পৌরসভায় কাউন্সিলর পদেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের জয়জয়কার অবস্থা বিরাজ করছে। এখানে সাধারণ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২৬১ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। আর বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জয় পেয়েছেন ১৪৬টি ওয়ার্ডে। এছাড়াও জামায়াত ১১টিতে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে ৪১টিতে। নারী সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ৩০, বিএনপি ১৯ এবং স্বতন্ত্র ৮৯টিতে জয়ী হয়েছেন। এছাড়াও নারী কাউন্সিলর পদে ৩৯ জনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ১১ এবং বিএনপির ৯ ও ২ জন ওয়াকার্স পার্টির সমর্থিত। আর বাকিরা সবাই স্বতন্ত্র। এদিকে, পৌর নির্বাচনে এমন ভরাডুবি হলেও তা মানতে নারাজ বিএনপি। প্রার্থীদের অভিযোগ, সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি ও বাধার কারণেই এ পরাজয়। তাহেরপুর পৌরসভায় বিএনপিদলীয় মেয়র প্রার্থী আনম সামসুর রহমান মিন্টু জানান, এখানে হামলা করে ও হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের ভোটারদের ভোট দিতে দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভোটারদের বাধা দিয়েছে। এ কারণে এই পরাজয়। কাটাখালী থেকে বিএনপি পরাজিত মেয়র প্রার্থী মাসুদ রানা বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আমাদের হারানো হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরাই বিপুল ভোটে জিততেন। এদিকে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) আঞ্চলিক সমন্বয়ক সুব্রত কুমার পাল যুগান্তরকে বলেছেন, কোনো কোনো পৌরসভাতে সহিংস ও ভোট কারচুপির মতো ঘটনা থাকলেও আশংকার চেয়েও শান্তিপূর্ণ হয়েছে নির্বাচন। তবে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই বিএনপির এই ভরাডুবি। তবে শাসক দলের নেতাকর্মীদের হুমকি ও মামলার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভোটের প্রচারণা চালাতে পারেননি। এটিও একটি কারণ পরাজয়ের। তবে স্বৈরাচারী কায়দায় বিএনপির বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু। মিনু যুগান্তরকে বলেন, পৌর নির্বাচনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। মানুষ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে ভোট দিতে চেয়েছিল। তারা তা করতে পারেনি। বাকশালী কায়দায় ফের আওয়ামী লীগ ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে ছিল পৌর ভোট অগ্নি পরীক্ষার মতো। কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের মতোই কাজ করেছে। তাই মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে শিগগিরই কঠোর আন্দোলনে নামবে বিএনপি। এজন্য শিগগিরই বিএনপির তৃণমূলকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে।
গেল ৩০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৫০টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভোটার ছিল ১৬ লাখ ২২ হাজার ২২২ জন। আর মেয়র প্রার্থী ছিলেন ২০৪ জন।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close