¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
জমকালো আয়োজনে শিল্পকলায় সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

সাংস্কৃতিক রিপোর্টার | প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

শীতের চাদরে ঢেকে আছে পুরো শহর। লাল সূর্যটা পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে, একটু পরেই সন্ধ্যা নামবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নন্দন মঞ্চের পুরো গ্যালারিতে তখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। গ্যালারির চার পাশে সবার হাতে হাতে রঙিন সব বেলুন। অতিথিরাও দাঁড়িয়ে আছেন বেলুন হাতে। একটু পরেই খোলা আকাশে উড়িয়ে দেয়া হল সব বেলুন। আর সঙ্গে সঙ্গে আতশবাজির ঝলমলে আলোয় রঙিন হল পুরো আকাশ। নন্দন মঞ্চের পানির ফোয়ারাগুলো থেকে জলের শব্দ সৃষ্টি করল অন্যরকম এক দ্যোতনা। ৬৪ জেলার প্রতীকী আলোক প্রজ্বলন করা হল। উদ্বোধন করা হল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব ২০১৬-এর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দেশের ৬৪ জেলার শিল্পকলা একাডেমির অংশগ্রহণে প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে এ উৎসবের।
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার শুরু হওয়া এ উৎসবে প্রধান অতিথি থেকে এর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন।
১৬ দিনের এ উৎসবে থাকছে সব জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিশু ও বড়দের পরিবেশনায় সমবেত সঙ্গীত, সমবেত নৃত্য, একক সঙ্গীত, আবৃত্তি, অভিনয় ও জেলার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমরা সংস্কৃতি চর্চাকে তৃণমূলে নিয়ে যেতে চাই। আবার তৃণমূলের প্রতিভাকে কেন্দ্রে এনে সেটা সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই। কাজটি অনেক কঠিন। আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতাও আছে। কিন্তু বাংলাদেশের সংস্কৃতিবান্ধব মানুষ পাশে থাকলে এটা অবশ্যই সম্ভব।’
উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতেই ছিল শতশিল্পীর অংশর গ্রহণে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন। অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি লিয়াকত আলী লাকী। দ্বিতীয় পর্বে দীপা খন্দকার, এমআর ওয়াসেক ও আইরীন পারভীনের পরিচালনায় এবং চারুকলার শিল্পীদের পরিচালনায় সমবেত নৃত্য পরিবেশিত হয়। নৃত্যের তালে তালে তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের ষড়ঋতুকে। আজ একই মঞ্চে হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, ফরিদপুর ও রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনা থাকছে।
নাচে-গানে মান্না উৎসব : বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক মান্না না থাকলেও আছে তার কর্ম। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হল মান্না উৎসব। সন্ধ্যায় শিশু একাডেমির মাঠে মান্না ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নাচ, গান, ফ্যাশন শোসহ নানা আয়েজনে মুখর ছিল উৎসবটি। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোসাদ্দেক আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন মান্না ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেলী মান্না। বক্তব্য দেন চিত্রনায়কা মৌসুমী, নায়ক অমিত হাসান ও অভিনেতা মিশা সওদাগর।
অনুষ্ঠানে মান্না পদক ২০১৬-এর বিশেষ সম্মাননা (মরণোত্তর) পেয়েছেন চাষী নজরুল ইসলাম। আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়েছে নায়ক রাজ রাজ্জাককে। এছাড়া মান্না পদক ২০১৬ পেয়েছেন কাজী হায়াৎ, শবনম, আনোয়ারা এবং সুচন্দা। মান্না ফাউন্ডেশন পর্বে ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন তারকা দম্পতি ওমর সানি ও মৌসুমী।
অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন সায়মন, শিরিন শিলা, ইমন ও আলিশা প্রধান। এ ছাড়াও গান গেয়ে শোনান মনির খান, রিজিয়া পারভীন, সালমা, পুলক প্রমুখ। উৎসবের শেষ পর্বে কলকাতার শিল্পী অভিরুপ, দেবলীনাও অংশ নেন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন নওশীন, চিত্রনায়ক ফেরদৌস ও রিয়াজ।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মাণ কাজে অনুদান গ্রহণ : নির্মিতব্য মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সবাইকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন নির্মাণ তহবিলের অনুদান প্রদানকারীরা। বিকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আয়োজনে অনুদান গ্রহণ অনুষ্ঠানে ৫ লাখ টাকা দিয়ে উদ্যোক্তা সদস্যের পদ নেন পাবর্ত্য চট্টগ্রামবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা রআম উবায়দুল মোকতাদিও চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধপ্রিয় সব মানুষের দেশের প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থাকা দরকার। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর করার জন্য যে মহৎ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এ কাজে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এক লাখ টাকা দিয়ে আজীবন সদস্য পদ নিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন। অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি মফিদুল হক, স্থপতি রবিউল হোসাইন বক্তব্য দিয়েছেন। অনুদান দিয়েছেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মিলন কান্তি নাথ, মোস্তফা কামাল পাশা, নারগিস আক্তার, জিনায়দা ইরফাত, আমিনুল ইসলাম বেদু, আবদুল ওয়াহাব ও মাইনুর মোর্শিদ।
তরুপল্লবের আয়োজনে প্রকৃতি পাঠ : নগরীর যান্ত্রিকতা ভুলে একটু সবুজ-শ্যামলের ছোঁয়া পেতে তরুপল্লবের আয়োজনে বসেছিল প্রকৃতি পাঠের আসর। শুক্রবার পৌষের সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসংলগ্ন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বোটানিক্যাল গার্ডেনে হয়ে গেল সংগঠনের ২১তম ‘গাছ দেখা গাছ চেনা’ অনুষ্ঠান। ঢাবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে উপস্থিত অর্ধশতাধিক প্রকৃতিপ্রেমীকে বিভিন্ন গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কথাশিল্পী বিপ্রদাশ বড়–য়া, উদ্ভিদবিদ শামসুল হক, সাংবাদিক প্রণব সাহা, বিটিভির পরিচালক গোলাম শফিক, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন প্রমুখ।
খবর পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close