¦
পৃথিবীর যমজ ভাই

| প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

প্রাণের উপস্থিতি নীলগ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে আছে কিনা এ নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। মানুষের মতো বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী বাস করছে এমন গ্রহ খুঁজতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা এজন্যে তৈরি করেছেন হাবল ও কেপলারের মতো শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র। মহাশূন্য ভ্রমণে পাঠাচ্ছেন বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ, মহাশূন্যযান, সঙ্গে রোবটও। কিন্তু আজ পর্যন্ত বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী তো দূরের কথা, দেখা মেলেনি কোনো অনুজীবেরও। আমেরিকার মহাশূন্য গবেষণা কেন্দ্র নাসার তৈরি কেপলার স্পেসক্রাফট তাই উঁকি মারছে দূরের গ্যালাক্সিগুলোতে। বিজ্ঞানীরা এখনও এ ব্যাপারে সফল না হলেও মানুষ কল্পনায় এগিয়েছে অনেক দূর। তাদের কল্পনায় ভেসে এসেছে মানুষের মতো বা তারচেয়েও বেশি বুদ্ধির ভিনগ্রহী প্রাণী এলিয়েন ও তাদের বাহন উড়ন্ত সসারের কথা। এসব নিয়ে তৈরি হয়েছে অনেক চলচ্চিত্র। এলিয়েনদের গ্রহ ও গ্রহের পরিবেশ নিয়ে তৈরি হচ্ছে সাইন্স ফিকশন। আর এ কল্পনাকে উপজীব্য করে বিজ্ঞানীরা এখন খুঁজছেন পৃথিবীর মতো কোনো পরিবেশ- যেখানে প্রাণী থাক বা না থাক মানুষ তার বাসযোগ্য পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহ পাবে এ আশায়। এতে ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা কিছুটা সাফল্যের মুখ দেখেছেন। বছরের শুরুতেই জ্যোতির্বিজ্ঞানে উন্মোচিত হয়েছে এক নতুন দিগন্ত। আমাদের সৌরজগৎ থেকে ৪৭৫ আলোকবর্ষ দূরে দেখতে প্রায় পৃথিবীর মতো গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন নাসার জ্যোতির্বিদরা। তাও একটি নয়, আটটি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন তারা। এগুলো একটি বামন সূর্যকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণরত। নাসার কেপলার মহাকাশ টেলিস্কোপের মাধ্যমে এদের শনাক্ত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে স্থাপিত নাসার কেপলার টেলিস্কোপ এ পর্যন্ত ১০০০টির বেশি গ্রহ আবিষ্কার করেছে। গত বছর কেপলার ১৮৬ এফ নামে নতুন একটি গ্রহের সন্ধান পায় নাসা। বলা হয়েছিল কেপলার ১৮৬ এফ পৃথিবীর মতো দেখতে একটি গ্রহ। এখন নাসার এ্যামি রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, পৃথিবীর সঙ্গে কেপলার ১৮৬ এফের চেয়ে বেশি মিল আছে এ নতুন গ্রহের। তবে সবগুলো দেখতে একেবারে পৃথিবীর মতো নয়। উৎসুক নাসার বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে এ গ্রহকে পৃথিবীর যমজ ভাই বলে ডাকছেন। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন গ্রহটিতে পাহাড় ও উষ্ণ আবহাওয়া রয়েছে। পৃথিবীর এ যমজ ভাইকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন কেপলার ৪৩৮ বি। এটি পৃথিবীর চাইতে ১২ গুণ বড়। এটি সৌর নক্ষত্র অর্থাৎ তার সূর্য থেকে ৪০ শতাংশ তাপ গ্রহণ করে থাকে, যা পৃথিবীর চেয়ে একটু বেশি। তবে নতুন গ্রহটিতে তাপমাত্রা পৃথিবীর মতো হলেও এর বুকে সমুদ্র, মাছ এবং গাছপালা আছে কিনা সেটি বিজ্ঞানীদের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সার্চ ফর এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. ডোগ ক্যাল্ডওয়েল বিবিসিকে বলেন, ‘নুতন এ গ্রহটিতে অবস্থান করলে এর তাপমাত্রা পৃথিবীর চাইতে বেশি অনুভূত হবে। এর অবস্থান একটি লাল তারকার পাশে। তাই এর আকাশ আমাদের আকাশের তুলনায় অনেক লাল মনে হবে।’ তবে কেপলারের বিজ্ঞানী ফারগাল মুলালি বলেন, ‘আরও পর্যবেক্ষণ করার পর হয়ত দেখা যাবে এই গ্রহগুলো আদৌ কোনো গ্রহ নয়।’ অন্যদিকে ড. ক্যাল্ডওয়েল বলেন, ‘কেপলার টেলিস্কোপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্য আরও কিছু পর্যালোচনার পর এখনও বলা যাচ্ছে না কেপলার ৪৩৮ বিতে সমুদ্র, মাছ বা গাছপালা আছে কিনা। মহাকাশের গোল্ডিলক্স জোনে অবস্থিত এ গ্রহটি তার সূর্য হতে এমন একটি দূরত্বে অবস্থান করছে যা গ্রহটিকে তপ্ত বা বরফ কোনোটিতে পরিণত করছে না। তাই এ গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজা যৌক্তিক। তবে এ গ্রহের প্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা দেয়া এখনও অসম্ভব। কেননা এটি আমাদের গ্রহের চেয়ে ৪৭৫ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত।’
নাসার বিচক্ষণ বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত ২৬টি দল এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে। কেপলার ৪৩৮ বি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক আশাবাদী। হয়ত এ গ্রহই হয়ে যেতে পারে এলিয়েনদের গ্রহ। ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপিকা ডেবরা ফিশ্চারের মতে কেপলার টেলিস্কোপের আবিষ্কৃত কেপলার ৪৩৮ বি অবশ্যই মহাকাশ বিদ্যার দুর্দান্ত একটি আবিষ্কার। হয়ত হলিউড সাইন্স ফিকশন ‘স্টার ট্রেক’ চলচ্চিত্রটি সত্যে পরিণত হতে চলেছে।
সাঈদ আল হাসান শিমুল
 

একদিন প্রতিদিন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close