¦
এক রাতেই বুড়ি

| প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

থি ফুয়ংয়ের বয়স মাত্র ২৬ বছর। বাড়ি ভিয়েতনামের বেন ত্রি প্রদেশের গিয়োংট্রম জেলায়। মেয়েটি দিব্যি সুখের সংসার করে চলছিলেন। কিন্তু সাজানো জীবনটা বদলে গেল তিন বছর আগে। খুব আগ্রহ নিয়েই থি রান্না করেছিলেন সামুদ্রিক খাবার। খাবার খেয়ে পরিবারের অন্যদের তেমন কিছু ঘটল না। কেবল থির শরীরেই উঠল অ্যালার্জি। গা ভর্তি অ্যালার্জির চুলকানিতে রাতে ঘুমাতে পারতেন না তিনি। একদিন আর না পেরে সকালে ঘুম থেকে উঠেই গেলেন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার অ্যালার্জির ওষুধ দিলেন। ওষুধ খাওয়ার পরদিনই নিজেকে আর চিনতে পারলেন না থি। স্বামী থানহ তুইয়েনও বউকে চিনতে পারলেন না। থানহ ভাবলেন, এত সকালে বাড়িতে এ বুড়ি এলেন কোত্থেকে? তাও আবার তার বিছানায় শুয়ে আছেন! চমকে উঠলেন থানহ, যখন ওই বুড়ি কথা বলে উঠলেন। গলা যে ঠিক তার বউয়ের মতোই! প্রথমদিকে ভৌতিক কাণ্ডই মনে হচ্ছিল থানহের কাছে। কোনো ডাইনি বুড়ি কি তার স্ত্রীর ওপর ভর করেছে- একবার এমনও ভাবলেন তিনি। কিন্তু না, কয়েকদিন পর নিজের ভুল বুঝতে পারলেন এবং আবিষ্কার করলেন, তার স্ত্রী আগের মতোই আছেন। কেবল তার শরীরের চামড়া হয়ে গেছে বুড়িদের মতো। স্ত্রীর এ অবস্থা দেখে তাকে নিয়ে অনেক চিকিৎসকের কাছে ঘুরলেন স্বামী। চিকিৎসকের পরামর্শে অনেক ওষুধও ব্যবহার করলেন, কিন্তু কাজ হল না কিছুতেই। আরোগ্য লাভের আশায় গেলেন চীনা বিশেষজ্ঞদের কাছে। তারা জানালেন, মাছে বিষ ছিল এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেই এ অবস্থা হয়েছে সুন্দরী মেয়েটির। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা যে ওষুধ দিলেন, তার দাম অনেক। স্বল্প আয়ে সংসার চালানোই কঠিন, সেখানে এত দামি ওষুধ খাবেন কী করে? তারপরও সহায়-সম্বল সব বিক্রি করে স্বামী থানহ সেই সুন্দরী স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশায় দামি ওষুধই কিনে খাওয়ালেন। কয়েক মাস পার হলেও থির আগের অবস্থা ফিরে এল না। বাধ্য হয়ে স্বামী তার বর্তমান অবস্থাকেই মেনে নিলেন। এ দুঃখের মধ্যেও থির একটাই সান্ত্বনা- স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যাননি। বরং এখন আরও বেশি সময় দেন। স্ত্রীর চিকিৎসা ও সহযোগিতার জন্য ২০০৯ সালে চাকরিও ছেড়েছেন তিনি।
ভিয়েতনামের এক সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, স্ত্রীর বর্তমান এমন রূপ নিয়ে তার মধ্যে এখন আর কোনো আফসোস নেই। স্ত্রী জীবিত আছেন এবং তারই তো আছেন- সেটাই বড় কথা।
যমজদের আজব গ্রাম
হয়তো আমাদের কিংবা আশপাশের কোনো পরিবারে যমজ শিশু আছে। কিন্তু যদি আমাদেরসহ আশপাশের প্রায় সব পরিবারেই যমজ শিশু থাকে তাহলে কেমন হয়! অবাক হবার মতোই ব্যাপার। অনেকটা এমন কাণ্ডই ঘটেছে ভারতে। কেরালা রাজ্যের কোদিনহি এখন সবার কাছে ‘টুইন গ্রাম’ হিসেবেই পরিচিত। কালিকট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে বসবাস করছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। এসব পরিবারে ২২০ জোড়ারও বেশি যমজ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন এর কারণ খুঁজে বের করতে। প্রতিবছরই যমজ শিশু জন্মের হার বেড়ে চলেছে এখানে। স্থানীয় একজন চিকিৎসক ও যমজ শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কৃষ্ণ শ্রীবিজু বলেন, ‘সাধারণত প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে এক জোড়া যমজ শিশু পাওয়া যায়। কিন্তু কোদিনহিতে প্রতি এক হাজারে যমজ শিশুর সংখ্যা ৪৫ জোড়া।’ তিনি যমজ শিশুর জন্মের ব্যাপারে কিছু কারণ ব্যাখ্যা করেছেন- বেশি বয়সে মা হওয়া, মায়েদের সাধারণ উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চির বেশি হওয়া ইত্যাদি। কিন্তু কোদিনহিতে বেশির ভাগ নারীর বিয়ে হয় ১৮-২০ বছরের মধ্যে। তাদের গড় উচ্চতাও কম- মাত্র ৫ ফুট। এরপরও কেন এখানে এত বেশি যমজ শিশু জন্ম নিচ্ছে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কারণ হাজির করতে না পারলেও ডা. কৃষ্ণ বলেন, ‘আমার ধারণা, এখানকার আবহাওয়ায় এমন কিছু আছে, যে কারণে এমনটা ঘটছে। এখানকার লোকজন যেসব খাবার খায় এবং পানীয় পান করে, সেগুলোর কারণেও এমনটা ঘটতে পারে।’
কোদিনহিতে টুইন অ্যান্ড কিন অ্যাসোসিয়েশন নামে যমজদের একটি সংগঠন আছে। এর সভাপতি পুলান্নি ভাসকারান নিজেও যমজ ছেলের বাবা। সংগঠনটি চালু হয় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে। এ অ্যাসোসিয়েশন থেকে সব যমজের পড়াশোনা ও চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করা হয়।
এ রিয়াজ
 

একদিন প্রতিদিন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close