¦

এইমাত্র পাওয়া

  • হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ; নতুন ভোটার ৪৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৭ জন
চুয়িংগাম দিয়ে অভিনব শিল্প

| প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০১৬

আমাদের মধ্যে প্রায় সবাই কোনো না কোনো সময়ে চুয়িংগাম চিবিয়েছি। কিন্তু চুয়িংগাম দিয়ে শিল্পসৃষ্টির পরিকল্পনা বোধহয় কারাও মনে আসেনি। ইতালির এক শিল্পী চুয়িংগাম দিয়ে বড় আকারের অভিনব ভাস্কর্য তৈরি করে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন।
কিংবদন্তি অনুযায়ী রোম শহরের দুই প্রতিষ্ঠাতা শিশুকে বুকের দুধ খাইয়ে বাঁচিয়েছিল ‘লা লুপা’ নামের এক নেকড়ে মা। ইতালির এ শহরের বিভিন্ন জায়গায় পাথরের তৈরি সেই নেকড়ের মূর্তি শোভা পাচ্ছে। ১৪ কিলোগ্রাম চুয়িংগাম দিয়েও এমন মূর্তি তৈরি হয়েছে। দাম ২৮,০০০ ইউরো।
ইতালির শিল্পী মাউরিৎসিও সাভানি চুয়িংগাম দিয়ে যে সব ভাস্কর্য তৈরি করেন সেগুলির খুঁটিনাটি বিষয় চোখে পড়ার মতো- তবে সবার জন্য হয়তো রুচিসম্মত নয়।
মাউরিৎসিও বলেন, ‘সবার আগে মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে, তুমি কি এসব চুয়িংগাম নিজেই চিবাও? এর মধ্যে কত লাখ বার যে এ প্রশ্ন শুনতে হয়েছে! আমার প্রায়ই বিরক্ত লাগলেও মানুষের মনে সত্যি এ প্রশ্ন জাগে। না, আমি কখনও চুয়িংগাম খাইনি।’
বছর দশেকেরও বেশি সময় ধরে মাউরিৎসিও চুয়িংগাম নিয়ে কাজ করছেন। তবে সেগুলো মোটেই কেউ চিবায় না। বরং গরম করে প্লাস্টারের কাঠামোর উপর ইচ্ছামতো বসানো হয়। এ কাঠামো ছাড়া ভাস্কর্য স্থিতিশীল হতো না। এ শিল্পীর কাছে চুয়িংগাম শুধু মালমশলা। তবে এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও রয়েছে। মাউরিৎসিও সাভানি বলেন, ‘আমি আসলে এমন কিছু খোঁজ করছিলাম, ভারি শিল্পের সঙ্গে যার যোগসূত্র রয়েছে। তাছাড়া শিল্প ও সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গেও সম্পর্ক চাইছিলাম। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পর চুয়িংগাম ইউরোপে এসেছিল। আমি অবশ্য একে কখনও খাদ্য হিসেবে মনে করিনি। ১৯৫০ সালের মধ্যেই কোকা কোলা ও নায়লন মোজার মতো চুয়িংগাম ইউরোপীয় সংস্কৃতির উপর গভীর ছাপ ফেলেছিল, যার রেশ আজও কাটেনি।’
নিজের শিল্পকর্মের জন্য মাউরিৎসিও একটি বিশেষ কোম্পানির চুয়িংগাম ব্যবহার করেন। তার নাম তিনি উল্লেখ করেননি। কারণ সেই কোম্পানি এ শিল্পসৃষ্টিকে স্বীকৃতি দিলেও উপকরণ জোগান দিয়ে সাহায্য করে না। অথচ মাউরিৎসিও সরাসরি কারখানা থেকেই কাঁচামাল কিনতে আগ্রহী। কিন্তু তার বদলে এখন প্রত্যেকটি চুয়িংগামের জন্য আলাদা করে প্যাকিং খুলতে হয়। তারপর সেগুলো গরম করে তরল করতে হয়। দুই সহকারী তাকে সাহায্য করেন।
এ কাজে অনেক সময় লাগে। একটি ভাস্কর্যের জন্য কখনও তিন হাজারের বেশি চুয়িংগাম কাজে লাগে। মাউরিৎসিও সাভিনির শিল্পকর্মের মধ্যে প্রায়ই রাজনীতি ও সমাজের বিতর্কিত বিষয় উঠে আসে। সেই বার্তা আরও জোরদার করতে তিনি বিশেষ কোনো রং বেছে নেন।
মাউরিৎসিও বলেন, ‘আমি এ বিশেষ গোলাপি রং ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। অতীতে চুয়িংগাম ছাড়াই এ রং দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করেছি। আমার মতে, গোলাপি রং কৃত্রিমতার প্রতীক। দেখলেই মনে হবে, চাপিয়ে দেয়া এক জগত।’
মাউরিৎসিও সাভিনির জন্ম রোম শহরেই। বড় হয়ে সেখানেই তিনি স্থাপত্য নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তারপর শিল্পী হিসেবে কয়েক বছরের জন্য বিদেশে চলে যান। আজ তিনি আবার জন্মের শহরে ফিরে এসে কাজ করছেন। গোটা বিশ্বে তার ভাস্কর্যের প্রদর্শনী ও বিক্রি হয়। কখনও ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত দামও উঠে আসে। উপকরণ চুয়িংগাম হওয়া সত্ত্বেও শুরু থেকেই তার শিল্পকর্মের কদর রয়েছে। শুধু প্রথম প্রদর্শনীর সময় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
মাউরিৎসিও সাভানি বলেন, ‘প্রথম প্রদর্শনী ভালোই চলেছিল। তবে একটা মজার সমস্যা হয়েছিল। বিক্রির মাস তিনেকের মধ্যেই ভাস্কর্য পুরো নষ্ট হয়ে যেত। সেগুলো ফেরত পাঠানো হতো। আমাকেও অর্থমূল্য ফেরত দিতে হতো। কিন্তু ততদিনে তো আমি সেই টাকা খরচ করে ফেলেছি!’
আসল সমস্যা ছিল, চুয়িংগামের মধ্যে চিনির অধিক মাত্রা মূল কাঠামোকে নষ্ট করে দিচ্ছিল। তারপর থেকে মাউরিৎসিও তার ভাস্কর্য সংরক্ষণ করতে ফর্মালডিহাইড ও অ্যান্টিবায়োটিকের এক মিশ্রণ ব্যবহার করছেন। ফলে রোমের এ প্রজন্মের শিল্পও ভবিষ্যতে অমর হয়ে থাকতে পারবে।
এ রিয়াজ
 

একদিন প্রতিদিন পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close