¦
রঙ-বেরঙের চা

গাজী মুনছুর আজিজ | প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৪

অদ্ভুত এক চাখোর নামে গল্পটি অনেকে পড়েছেন। গল্পে চাখোর লোকটি কোথাও যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছেন। কিন্তু ট্রেনে চা নেই। লোকটি ভাবলেন পরের স্টেশনে ট্রেন থামলে স্টেশনের টি-স্টল থেকে চা খাবেন। কিন্তু পরপর কয়েকটি স্টেশনেও চা পেলেন না। এক স্টেশনে চায়ের স্টল না পেলেও ছোট্ট একটি দোকান পেয়েছেন। লোকটি সেই দোকান থেকে কিছু চা-পাতি আর চিনি কিনলেন। ভাবলেন ট্রেনে চা তৈরি করে খাবেন। ট্রেনে পাশের লোকের কাছ থেকে কিছুটা পানি ও দেয়াশালাইও সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু ট্রেনে চা তৈরির কোনো পরিবেশ পেলেন না। পরে চাখোর লোকটি চায়ের তেষ্টা মেটাতে এক গ্লাস পানি আর একমুঠো কাঁচা চা-পাতা মুখে দিয়ে গিলে ফেললেন। ট্রেনের লোকজন এটা দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছেন।
কেবল গল্পের লোকটি নয়, চা পান করতে পছন্দ করেন না, সারা বিশ্বে এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম। আর তাদের প্রতি ভালোবাসা জানাতেই চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে রমেশ রাম গৌড় প্রতিষ্ঠিত করেছেন নীলকণ্ঠ চা কেবিন। এই কেবিনের বৈশিষ্ট্য একই কাপে ১০ লেয়ার বা ১০ রঙের চা পাওয়া যায়। রমেশ রাম গৌড় এসব চায়ের উদ্ভাবক। তার আদি বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার আটানী বাজার।
এখানে সাধারণ থেকে ১০ লেয়ার চা, হাই স্পেশাল চা, স্পেশাল দুধ চা, গ্রিন চা, আদা চা, লাল চা, লেবু চা ও সাদা চাসহ মোট ১৬ রকম স্বাদের চা খাওয়া যাবে। এসব চায়ের দাম প্রতিকাপ ১০ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত।
রমেশ রাম শ্রীমঙ্গল শহরে ২০০০ সালে ছোট্ট একটি চায়ের স্টল দিয়ে শুরু করেন চায়ের ব্যবসা। তখন কেবল সাধারণ চা তৈরি করতেন তিনি। সেখান থেকে আজকের এই চা কেবিন। এখন নীলকণ্ঠ চা কেবিনে প্রতি দিনই অসংখ্য লোক আসেন তার এই ভিন্ন স্বাদের চা খেতে। রমেশ রাম গৌড় বলেন, চেষ্টা করছি আরও ভালো স্বাদের চায়ের রেসিপি উদ্ভাবন করতে।
বর্তমানে নীলকণ্ঠ চা কেবিনের শাখা দুটি। প্রথম ও পুরনোটি রয়েছে শ্রীমঙ্গলের রাম নগর মনিপুরী পাড়ায়। নতুনটি রয়েছে শ্রীমঙ্গলের ১৪ রাইফেল ব্যাটালিয়ন সেন্টারে। চা কেবিন খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে নীলকণ্ঠ চা কেবিন রিকশায় ভাড়া নেবে ১৫ থেকে ২০ টাকা। যেতে সময় লাগবে প্রায় ২০ মিনিট।
ঘরে বাইরে পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম