¦
প্রাচীন বিক্রমপুরের সমৃদ্ধ সভ্যতা

শেখ সাইদুর রহমান টুটুল | প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৫

বিক্রমপুর একটি সমৃদ্ধ প্রাচীন জনপদ। সুদূর অতীতে বিক্রমপুর ছিল বঙ্গ ও সমতটের রাজধানী। প্রাচীন তাম্রলিপিতে একে শ্রীবিক্রমপুর- সমাবাসিত- শ্রীমজ্জায় স্কন্ধাবারাৎ অর্থাৎ ভিক্টরি ক্যাম্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাচীনকালে ভিক্টরি ক্যাম্প আর রাজধানী সমার্থক ছিল। প্রাচীন বিক্রমপুর বৃহত্তর ঢাকা ও ফরিদপুর জেলার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়ে থাকলেও বর্তমান মুন্সীগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলাই কেবল বিক্রমপুর পরিচয় বহন করে। সদ্য আবিষ্কৃত প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন প্রাচীন জনপদ বিক্রমপুরকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
প্রাক-মধ্যযুগের চন্দ্র, বর্মণ এবং সেন রাজবংশ এবং মধ্যযুগে সুলতানি আমল, বারো ভুইয়াদের সময়কালের এবং মোগল আমলের প্রত্ননিদর্শন সাক্ষ্য দেয় যে, এখানে সমৃদ্ধ এক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনগুলো নিচে চাপা পড়ায় আমাদের কাছে দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সুলতানি আমলে বাবা আদম শহীদের মসজিদ, মোগল আমলের ইদ্রাকপুর দুর্গ, মীরকাদিমের পুল এবং ব্রিটিশ আমলের দৃষ্টিনন্দন বেশ কিছু মন্দির এবং নগর কসবার প্রাসাদগুলো এখনও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ ও বিস্মিত করে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ২০১০ সালে এ অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. নূহ-উল-আলম লেনিনের উদ্যোগে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সীমিত আর্থিক সহায়তায় ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। সার্বিক গবেষণা পরিচালনায় রয়েছেন ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এতিহ্য অন্বেষণের গবেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেছেন গবেষণা ও খনন কাজে।
২০১৫ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয় চীনের সাংস্কৃতিক স্মারক ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ইউনান প্রাদেশিক ইন্সটিটিউট। প্রায় দুই মাস পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক খননে নাটেশ্বর দেউলে আবিষ্কৃত হয় অষ্টকোণাকৃতি স্তূপের অবশিষ্ট অসাধারণ বাহু, কোণ এবং অভ্যন্তরীণ অষ্টকোণাকৃতি স্তূপ, চেম্বার, মণ্ডপ প্রভৃতি। সদ্য আবিষ্কৃত প্রায় ৪ মিটার প্রশস্ত সীমানা প্রাচীরবিশিষ্ট ২ জোড়া চতুর্স্তূপ বাংলাদেশের স্তূপের ইতিহাসে একটি অভিনব সংযোজন। আর্দ্রতা রোধক হিসেবে ঝামা ইটের ব্যবহার, চারটি স্তূপের স্থানিক পরিমিতি, বর্গাকৃতি ভারসাম্য, দেয়ালের অপ্রচলিত নজিরবিহীন কাঠামো (নিচের তুলনায় ওপরে অধিক প্রশস্ত) প্রভৃতি বাংলাদেশের প্রাচীন উন্নত স্থাপত্যের ইতিহাসের একটি নতুন সংযোজন।
প্রায় ১০০০ বছরের প্রাচীন ইট নির্মিত দুটি পাকা রাস্তার আবিষ্কার তৎকালীন সড়ক নির্মাণ কৌশল, বসতি পরিকল্পনা ও বিন্যাসের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দেউলের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে আবিষ্কৃত হচ্ছে ইট নির্মিত ২.৭৫ মিটার প্রশস্ত আঁকাবাঁকা একটি বিশেষ দেয়াল এই মুহূর্তে যা একটি বিস্ময়কর স্থাপত্যের আভাস দিচ্ছে। নাটেশ্বরের প্রত্নস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে প্রায় ৭ মিটার গভীরতায় প্রাপ্ত ৫টি নির্মাণযুগের প্রত্ননিদর্শন যা বিক্রমপুর অঞ্চলে দীর্ঘ সময়ব্যাপী এক সমৃদ্ধ সভ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। ধারাবাহিক গবেষণা এবং সম্ভাবনাপূর্ণ আবিষ্কার এই নির্মাণযুগগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
কিভাবে যাবেন
ঢাকার নয়াবাজার থেকে বাসে করে বেতকা চৌরাস্তা নেমে রিকশা দিয়ে নাটেশ্বর যেতে পারবেন। ভাড়া ২০ থেকে ২৫ টাকা। ডানকিন পরিবহনের লৌহজং হয়ে খলাপাড়া বাস স্টেশন নেমে সিএনজি অথবা অটোরিক্সায় যেতে পারবেন। ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ঢাকা থেকে টঙ্গীবাড়ি হয়েও যেতে পারেন
 

ঘরে বাইরে পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close