jugantor
বেড়ানো
যাদুকাটায় ১ দিন

  সালেহ ফুয়াদ  

১২ মে ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

পাহাড়ি বাতাসে একেবারে জবুথবু অবস্থা। বেঘোরে ঘুমাচ্ছি। আচমকা ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে তো অবাক! সাতসকালে পুলিশ! নাহ, এ পুলিশ আসামি ধরতে আসেনি। তাই আমি ভয়ও পাইনি। একসঙ্গে খেলেছি। মারামারি-কিলগুতো, ঝগড়াঝাটি বাধিয়েছি কত। করেছি গলাগলিও। ইনি তরুণ পুলিশ সদস্য- শামীম নুর। আমার চাচাতো ভাই। বয়সে আমার চেয়ে দু’বছরের বড়। সম্প্রতি পুলিশে যোগ দিয়েছেন। এরপর আমি চলে এলাম কুষ্টিয়ায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই থেকে ছাড়াছাড়ি। দু’জনের একসঙ্গে বাড়িতে আসা হয়ে ওঠে না। দেখাও হয় না।

বললাম : কোন বেলা আইছইন (কখন এলেন)?

: রাতে। ওঠো, তৈরি হও। যাদুকাটায় যাব। যেতে যেতে কথা হবে।

জলদি তৈরি হওয়ার তাগাদা দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। জানা হল না, হঠাৎ করে যাদুকাটা কেন। সঙ্গেই বা আর কে কে যাচ্ছে।

আর কেউ যাচ্ছে না। সিংবাড়ির ডাক্তার কাকুর ছেলে জসিম উদ্দিন গেলেও যেতে পারে। জইসসাদের বাড়ির দিকেই দু’জনে হাঁটা দিলাম। জসিমকে নিয়ে শুরু হল আমাদের যাদুকাটা ভ্রমণ।

সোনারোদে গা ভাসিয়ে চললাম তিনজন। ওপারে মেঘালয় রাজ্য। এপারে যাদুকাটা। মাঝখানে খাসিয়া পাহাড়। মেঠোপথে ঘণ্টাখানেক হাঁটলেই দীঘল বাঁক। ধানক্ষেত-গমক্ষেতের আল ধরে হাঁটা দিলাম। শুরু হল আমাদের যাদুকাটা যাত্রা। সরষে আর মশলার গন্ধে রোমান্টিকতায় ভরে যাচ্ছে মন। হলদে-লাল বাদামফুল দেখে চোখ জুড়ায়। বাউনগাঁও, পুরানঘাট, শান্তিপুর একটার পর একটা ‘গেরাম’ পেছনে ফেলে চলছি। মাঝে মাঝে মরাগাঙ পেরুচ্ছি। বালুচরে হাঁটছি। পিছিয়ে যেতে যেতে এগুচ্ছি। পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকে যাচ্ছে বালুকণা।

ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর যাদুকাটার দক্ষিণপাড়ে পৌঁছলাম। বিশাল শিমুলবাগ। লালে লাল। মাঝে মাঝে নেবুর সারি বাঁধা গাছ। ক্লিক ক্লিক। শুরু হল ছবি তোলা। বাগের লাল গালিচায় বসে, গাছে হেলান দিয়ে। নানা ভঙ্গিমায়। নদীর পশ্চিমে বারেকের টিলা। মাঝখানে বালুচর।

বাগান থেকে নদীতে নামলাম। পানি নাই। ধু-ধু বালুচর। জুতো খুলে বালির ওপরে হাঁটার মজাই আলাদা। আমরা পশ্চিমপাড়ের দিকে এগোতে লাগলাম। ওপাড়ে একটা বিশাল শিমুলগাছ। উপরে-নিচে লাল। পেছনেই কয়েকটি সদ্য তৈরি দু’চালা ছনের ঘর। পেছনে খাসিয়া পাহাড়। দৃশ্যটা বেশ! শামীম ভাই দৌড়ে গিয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর ক্লিক ক্লিক।

কাঁচাপথ ধরে এগোচ্ছি। কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা বাজার পাওয়া গেল। যাদুকাটার তীর ঘেঁষে এ বাজার। বাজারের মুখে গোল হয়ে বসে আছে কয়েকজন কয়লা কামলা। সবার হাতেই বেলচা, কোদাল আর টুকরি। জলসার মাঝখানে মাইক্রোফোন হাতে বসা মধ্য বয়সী এক পুরুষ। কায়দা করে বকে যাচ্ছে, ‘কাঁহা, এক ফাইল ওষুধ লইয়া যাইন। শইলডাত বল ফাইবাইন কাঁহা। শইলডা গরম অইয়্যা যাইব কাঁহা। আহেন কাঁহা, আহেন। মা-বোনগো লাইগ্যা লইয়া যাইন।’

চা-পান পর্ব শেষ করে নদীতে নামলাম। কাক্সিক্ষত যাদুকাটা। আদিনাম রেণুকা। স্বয়ং শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর বা তার মায়ের ইচ্ছানুসারে, এ নদীতে পৃথিবীর সপ্তবারির জল একত্রিত হওয়ার পর থেকে এর নাম হয় পুণ্যতীর্থ। সনাতনধর্মের বিশ্বাস, এখানে দোলপূর্ণিমার রাতে সপ্তবারির জল একত্রিত হয়। সে বিশ্বাসেই, প্রতিবছর চৈত্র মাসের অষ্টম তিথিতে পুণ্যতীর্থে বা যাদুকাটায় হাজার হাজার পুণ্যার্থী মিলিত হন। পুণ্যøান করেন। এ মিলনকে কেন্দ্র করে নদীতীরে বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে বড় মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বারুণী মেলা। আমরা বলি, বান্নি।

মনে পড়ে, ছোট কাকুর হাত ধরে বান্নি থেকে মাটির তৈরি কালো ষাঁড় আর লাল ঘোড়া কেনার রঙিন দিনের কথা।

শান্ত নদী যাদুকাটা। ঢেউ নেই। গর্জন নেই। শুধুই অথৈ নীল। নীল আকাশের নিচে নীলনদ। স্বচ্ছ আর ভীষণ শান্ত। অগভীর। স্বচ্ছ জলের নিচে বালুকণা পর্যন্ত চিলিক দিয়ে ওঠে। দেখা যায় নুড়ি-পাথর। নদীর বুকে বারকি নৌকো নিয়ে পাথর তোলায় ব্যস্ত হাজার হাজার শ্রমিক। বালু খুঁড়ে নারী শ্রমিকরা তুলে আনছেন কয়লা। ধুয়ে সাজিয়ে রাখছেন। চলছে দরদামও। এলাহি কাণ্ড। আনমনে গেয়ে ওঠলাম,- বাংলার মাটি বাংলার জল পুণ্য হোক, পুণ্য হোক, পুণ্য হোক হে ভগবান!

যাদুকাটার পূর্বতীরে লাউড়েরগড়। প্রাচীন লাউড়রাজ্যের রাজধানী। আজ সে রাজ্য নেই, নেই রাজধানীও। কাছেই শাহ আরেফিনের (রহ.) আস্তানা বা মাজার। নদীর পশ্চিম তীরে বারেকের টিলা। মাটিয়ান পাহাড়। নদী ঘেঁষে খাড়া ও ঢালুপথ বেয়ে উঠতে হয় মনোরম এ টিলায়। টিলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারোদের বসবাস। কাছেই কড়ইগড় রাজা উইক্লিবসিমের বিশাল বাড়ি। রাজার জন্য নাকি ‘সাতখুন মাফ’ ছিল। আক্ষরিক অর্থেই মাফ। রাজা বেঁচে নেই। কবরের ওপর ক্রুশের প্রতীক দেখে বুঝা যায়, রাজা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। গারোদের বসতির আশপাশে অন্তত দুটি চার্চ আমাদের চোখে পড়ে। কারিতাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাতব্য সেবা সংস্থার দুয়েকটি সাইনবোর্ডও দেখি। টিলা ও পাশের সমতল ভূমিতে বিশাল আকারের কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সবগুলোর সদর দরজায় খ্রিস্টধর্মের প্রতীক ক্রুশচিহ্ন সটান দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারি সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই।

বারেকের টিলায় উঠে নিচে তাকিয়ে মুগ্ধ হই। টিলার গা ঘেঁষে প্রবাহিত যাদুকাটার আরেক নৈসর্গিক রূপ দেখি। টিলায় নানা বুনোফুল আমাদের স্বাগত জানায়। অগত্যা গেয়ে ওঠি-

তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,

পথ ভুলে যাই দূরপারে সেই চুপকথার

পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা

মনে মনে॥

মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে॥

ছবি : হাসান মোর্শেদ

যাতায়াত

বাংলাদেশের যে কোনো স্থান থেকে বাসে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার আর তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে যাদুকাটা ও বারেকের টিলা। সুনামগঞ্জের সুরমা নদী পার হয়ে মোটরসাইকেল অথবা সুরমা নদী পার হয়ে মনিপুরী ঘাট থেকে টেম্পো বা মোটরসাইকেলে আসতে পারেন যাদুকাটায়। মোটরসাইকেল ভাড়া দু’জনের ১৫০-২০০ এবং অন্য যানবাহনে জনপ্রতি ৬০-৭০ টাকা ।


 

সাবমিট
বেড়ানো

যাদুকাটায় ১ দিন

 সালেহ ফুয়াদ 
১২ মে ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

পাহাড়ি বাতাসে একেবারে জবুথবু অবস্থা। বেঘোরে ঘুমাচ্ছি। আচমকা ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে তো অবাক! সাতসকালে পুলিশ! নাহ, এ পুলিশ আসামি ধরতে আসেনি। তাই আমি ভয়ও পাইনি। একসঙ্গে খেলেছি। মারামারি-কিলগুতো, ঝগড়াঝাটি বাধিয়েছি কত। করেছি গলাগলিও। ইনি তরুণ পুলিশ সদস্য- শামীম নুর। আমার চাচাতো ভাই। বয়সে আমার চেয়ে দু’বছরের বড়। সম্প্রতি পুলিশে যোগ দিয়েছেন। এরপর আমি চলে এলাম কুষ্টিয়ায়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই থেকে ছাড়াছাড়ি। দু’জনের একসঙ্গে বাড়িতে আসা হয়ে ওঠে না। দেখাও হয় না।

বললাম : কোন বেলা আইছইন (কখন এলেন)?

: রাতে। ওঠো, তৈরি হও। যাদুকাটায় যাব। যেতে যেতে কথা হবে।

জলদি তৈরি হওয়ার তাগাদা দিয়ে হাওয়া হয়ে গেলেন। জানা হল না, হঠাৎ করে যাদুকাটা কেন। সঙ্গেই বা আর কে কে যাচ্ছে।

আর কেউ যাচ্ছে না। সিংবাড়ির ডাক্তার কাকুর ছেলে জসিম উদ্দিন গেলেও যেতে পারে। জইসসাদের বাড়ির দিকেই দু’জনে হাঁটা দিলাম। জসিমকে নিয়ে শুরু হল আমাদের যাদুকাটা ভ্রমণ।

সোনারোদে গা ভাসিয়ে চললাম তিনজন। ওপারে মেঘালয় রাজ্য। এপারে যাদুকাটা। মাঝখানে খাসিয়া পাহাড়। মেঠোপথে ঘণ্টাখানেক হাঁটলেই দীঘল বাঁক। ধানক্ষেত-গমক্ষেতের আল ধরে হাঁটা দিলাম। শুরু হল আমাদের যাদুকাটা যাত্রা। সরষে আর মশলার গন্ধে রোমান্টিকতায় ভরে যাচ্ছে মন। হলদে-লাল বাদামফুল দেখে চোখ জুড়ায়। বাউনগাঁও, পুরানঘাট, শান্তিপুর একটার পর একটা ‘গেরাম’ পেছনে ফেলে চলছি। মাঝে মাঝে মরাগাঙ পেরুচ্ছি। বালুচরে হাঁটছি। পিছিয়ে যেতে যেতে এগুচ্ছি। পাঞ্জাবির পকেটে ঢুকে যাচ্ছে বালুকণা।

ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর যাদুকাটার দক্ষিণপাড়ে পৌঁছলাম। বিশাল শিমুলবাগ। লালে লাল। মাঝে মাঝে নেবুর সারি বাঁধা গাছ। ক্লিক ক্লিক। শুরু হল ছবি তোলা। বাগের লাল গালিচায় বসে, গাছে হেলান দিয়ে। নানা ভঙ্গিমায়। নদীর পশ্চিমে বারেকের টিলা। মাঝখানে বালুচর।

বাগান থেকে নদীতে নামলাম। পানি নাই। ধু-ধু বালুচর। জুতো খুলে বালির ওপরে হাঁটার মজাই আলাদা। আমরা পশ্চিমপাড়ের দিকে এগোতে লাগলাম। ওপাড়ে একটা বিশাল শিমুলগাছ। উপরে-নিচে লাল। পেছনেই কয়েকটি সদ্য তৈরি দু’চালা ছনের ঘর। পেছনে খাসিয়া পাহাড়। দৃশ্যটা বেশ! শামীম ভাই দৌড়ে গিয়ে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর ক্লিক ক্লিক।

কাঁচাপথ ধরে এগোচ্ছি। কিছুক্ষণ হাঁটার পর একটা বাজার পাওয়া গেল। যাদুকাটার তীর ঘেঁষে এ বাজার। বাজারের মুখে গোল হয়ে বসে আছে কয়েকজন কয়লা কামলা। সবার হাতেই বেলচা, কোদাল আর টুকরি। জলসার মাঝখানে মাইক্রোফোন হাতে বসা মধ্য বয়সী এক পুরুষ। কায়দা করে বকে যাচ্ছে, ‘কাঁহা, এক ফাইল ওষুধ লইয়া যাইন। শইলডাত বল ফাইবাইন কাঁহা। শইলডা গরম অইয়্যা যাইব কাঁহা। আহেন কাঁহা, আহেন। মা-বোনগো লাইগ্যা লইয়া যাইন।’

চা-পান পর্ব শেষ করে নদীতে নামলাম। কাক্সিক্ষত যাদুকাটা। আদিনাম রেণুকা। স্বয়ং শ্রী অদ্বৈত মহাপ্রভুর বা তার মায়ের ইচ্ছানুসারে, এ নদীতে পৃথিবীর সপ্তবারির জল একত্রিত হওয়ার পর থেকে এর নাম হয় পুণ্যতীর্থ। সনাতনধর্মের বিশ্বাস, এখানে দোলপূর্ণিমার রাতে সপ্তবারির জল একত্রিত হয়। সে বিশ্বাসেই, প্রতিবছর চৈত্র মাসের অষ্টম তিথিতে পুণ্যতীর্থে বা যাদুকাটায় হাজার হাজার পুণ্যার্থী মিলিত হন। পুণ্যøান করেন। এ মিলনকে কেন্দ্র করে নদীতীরে বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে বড় মেলা অনুষ্ঠিত হয়। বারুণী মেলা। আমরা বলি, বান্নি।

মনে পড়ে, ছোট কাকুর হাত ধরে বান্নি থেকে মাটির তৈরি কালো ষাঁড় আর লাল ঘোড়া কেনার রঙিন দিনের কথা।

শান্ত নদী যাদুকাটা। ঢেউ নেই। গর্জন নেই। শুধুই অথৈ নীল। নীল আকাশের নিচে নীলনদ। স্বচ্ছ আর ভীষণ শান্ত। অগভীর। স্বচ্ছ জলের নিচে বালুকণা পর্যন্ত চিলিক দিয়ে ওঠে। দেখা যায় নুড়ি-পাথর। নদীর বুকে বারকি নৌকো নিয়ে পাথর তোলায় ব্যস্ত হাজার হাজার শ্রমিক। বালু খুঁড়ে নারী শ্রমিকরা তুলে আনছেন কয়লা। ধুয়ে সাজিয়ে রাখছেন। চলছে দরদামও। এলাহি কাণ্ড। আনমনে গেয়ে ওঠলাম,- বাংলার মাটি বাংলার জল পুণ্য হোক, পুণ্য হোক, পুণ্য হোক হে ভগবান!

যাদুকাটার পূর্বতীরে লাউড়েরগড়। প্রাচীন লাউড়রাজ্যের রাজধানী। আজ সে রাজ্য নেই, নেই রাজধানীও। কাছেই শাহ আরেফিনের (রহ.) আস্তানা বা মাজার। নদীর পশ্চিম তীরে বারেকের টিলা। মাটিয়ান পাহাড়। নদী ঘেঁষে খাড়া ও ঢালুপথ বেয়ে উঠতে হয় মনোরম এ টিলায়। টিলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী গারোদের বসবাস। কাছেই কড়ইগড় রাজা উইক্লিবসিমের বিশাল বাড়ি। রাজার জন্য নাকি ‘সাতখুন মাফ’ ছিল। আক্ষরিক অর্থেই মাফ। রাজা বেঁচে নেই। কবরের ওপর ক্রুশের প্রতীক দেখে বুঝা যায়, রাজা ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। গারোদের বসতির আশপাশে অন্তত দুটি চার্চ আমাদের চোখে পড়ে। কারিতাস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাতব্য সেবা সংস্থার দুয়েকটি সাইনবোর্ডও দেখি। টিলা ও পাশের সমতল ভূমিতে বিশাল আকারের কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সবগুলোর সদর দরজায় খ্রিস্টধর্মের প্রতীক ক্রুশচিহ্ন সটান দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারি সেবার আড়ালে ধর্মান্তরের কাজ চলছে বেশ জোরেশোরেই।

বারেকের টিলায় উঠে নিচে তাকিয়ে মুগ্ধ হই। টিলার গা ঘেঁষে প্রবাহিত যাদুকাটার আরেক নৈসর্গিক রূপ দেখি। টিলায় নানা বুনোফুল আমাদের স্বাগত জানায়। অগত্যা গেয়ে ওঠি-

তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,

পথ ভুলে যাই দূরপারে সেই চুপকথার

পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা

মনে মনে॥

মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে॥

ছবি : হাসান মোর্শেদ

যাতায়াত

বাংলাদেশের যে কোনো স্থান থেকে বাসে সুনামগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার আর তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে যাদুকাটা ও বারেকের টিলা। সুনামগঞ্জের সুরমা নদী পার হয়ে মোটরসাইকেল অথবা সুরমা নদী পার হয়ে মনিপুরী ঘাট থেকে টেম্পো বা মোটরসাইকেলে আসতে পারেন যাদুকাটায়। মোটরসাইকেল ভাড়া দু’জনের ১৫০-২০০ এবং অন্য যানবাহনে জনপ্রতি ৬০-৭০ টাকা ।


 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র