jugantor
শিশুর ভুবন
গরমে শিশুর রোগবালাই
সব বয়সের মানুষের জন্যই গরমকাল একটু সমস্যা তৈরি করে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বাচ্চাদের। এ সময়টায় নানা ধরনের রোগ-বালাই দেখা দেয় তাদের। সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা না করা হলে সেই রোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। গরমের সময় শিশুর নানা রোগ-বালাই নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বি। লিখেছেন-

  সাইফ বিন আইয়ুব  

১২ মে ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ের গরম পড়লে সাধারণত শিশুদের তেমন একটা রোগ হয় না। এ ক্ষেত্রে মায়েরা সচেতন হলেই চলে। প্রতিদিন সময় মতো গোসল, ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ঠিক রাখলেই বাচ্চার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। তবে এর হেরফের হলেই বাচ্চা রোগের শিকার হয়। এ সময় শিশুদের সাধারণত পেট খারাপ, জলবসন্ত, ঠাণ্ডা, জ্বর, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি ইত্যাদি হয়ে থাকে।

ডায়রিয়া বা পেট খারাপ

গরমে বাচ্চাদের যে রোগটি সবচেয়ে বেশি হয় সেটি হচ্ছে এই ডায়রিয়া বা পেট খারাপ। এ রোগে শিশুকে একটু পরপর স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে সাধারণ পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাবুর পায়খানা স্বাভাবিক হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত যে কোনো তরল খাবার তাকে খাওয়ানো উচিত। বাচ্চার শরীরে কোনোভাবেই যেন পানিশূন্যতা তৈরি না হয়। খেয়াল রাখুন যাতে তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের ন্যায় থাকে। বাচ্চা খুবই ছোট হলে তরল খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধও চালিয়ে যেতে হবে। কোনোভাবেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। ডায়রিয়া খুবই খারাপ অবস্থা ধারণ করলে বাচ্চার পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। এমতাবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

গরমে বাচ্চাদের আরেকটি কমন রোগ হল জলবসন্ত বা চিকেন পক্স। যে সব শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তারা এ রোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ছোট থাকতেই চিকেন পক্সের টিকা নিয়ে নিলে রোগটি হওয়ার আশংকা কমে যায়। এই রোগটি হলে শিশুর আলাদা যত্ন নেয়া উচিত। বাচ্চাকে নরম সুতি কাপড় পরানোর পাশাপাশি শরীর যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। এ রোগের ক্ষেত্রেও শিশুকে বেশি বেশি তরল খাবার খেতে দিন। বেশি বেশি পানি খাওয়ান। আর কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না।

ঠাণ্ডার সমস্যা

প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অনেক সময় ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। এর মূলে রয়েছে শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম। গরমকালে শিশুরা অতিরিক্ত ঘামে। তাই নিয়মিত গোসল করানোর পাশাপাশি সব সময় তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘেমে গেলে ভেজা পরিষ্কার কোনো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন। ঠাণ্ডা থেকে অনেক সময় শিশুর মামস হতে পারে। এটা নিয়ে খুব বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। মামস এমনিতেই সেরে যায়। তবে অবস্থা খুব বেশি খারাপ মনে হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি

অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রেই এটা একটা কমন সমস্যা। ফুসকুড়ি হলে শরীর খুব চুলকায়। এই চুলকানি থেকে পরবর্তীকালে ঘা হয়ে যেতে পারে। ফুসকুড়ি থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। শরীরে ঘাম বা ময়লা হলে এই চুলকানি বেড়ে যেতে পারে। গোসল করানোর পর শরীরে পাউডার লাগিয়ে দিলে চুলকানি অনেকখানি কম হবে। চেষ্টা করুন, সারা দিনে বেশ কয়েকবার ভেজা কাপড় দিয়ে বাবুর শরীর মুছে দিতে। আর প্রত্যেকবার মুছে দেয়ার পর পাউডার লাগান। শিশুকে ডায়াপার পরানো হলে খেয়াল রাখুন এক ডায়াপার যেন খুব বেশিক্ষণ তার শরীরে না থাকে। ডায়াপারের কারণেও কোমরে ফুসকুড়ি হতে পারে। ভেজা ডায়াপার তৎক্ষণাৎ পাল্টে দিন। আর চেষ্টা করুন দিনের খানিকটা সময় ডায়াপার ছাড়া রাখতে।

গরমে শিশুকে ভালো রাখতে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই। নিয়মিত গোসল, খাওয়া-দাওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে শিশু এমনিতেই সুস্থ থাকবে।




 

সাবমিট
শিশুর ভুবন

গরমে শিশুর রোগবালাই

সব বয়সের মানুষের জন্যই গরমকাল একটু সমস্যা তৈরি করে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় বাচ্চাদের। এ সময়টায় নানা ধরনের রোগ-বালাই দেখা দেয় তাদের। সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা না করা হলে সেই রোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। গরমের সময় শিশুর নানা রোগ-বালাই নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুব মোতানাব্বি। লিখেছেন-
 সাইফ বিন আইয়ুব 
১২ মে ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 

মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ের গরম পড়লে সাধারণত শিশুদের তেমন একটা রোগ হয় না। এ ক্ষেত্রে মায়েরা সচেতন হলেই চলে। প্রতিদিন সময় মতো গোসল, ঘুম, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদি ঠিক রাখলেই বাচ্চার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। তবে এর হেরফের হলেই বাচ্চা রোগের শিকার হয়। এ সময় শিশুদের সাধারণত পেট খারাপ, জলবসন্ত, ঠাণ্ডা, জ্বর, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি ইত্যাদি হয়ে থাকে।

ডায়রিয়া বা পেট খারাপ

গরমে বাচ্চাদের যে রোগটি সবচেয়ে বেশি হয় সেটি হচ্ছে এই ডায়রিয়া বা পেট খারাপ। এ রোগে শিশুকে একটু পরপর স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এর সঙ্গে সাধারণ পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাবুর পায়খানা স্বাভাবিক হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত যে কোনো তরল খাবার তাকে খাওয়ানো উচিত। বাচ্চার শরীরে কোনোভাবেই যেন পানিশূন্যতা তৈরি না হয়। খেয়াল রাখুন যাতে তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিকের ন্যায় থাকে। বাচ্চা খুবই ছোট হলে তরল খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধও চালিয়ে যেতে হবে। কোনোভাবেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না। ডায়রিয়া খুবই খারাপ অবস্থা ধারণ করলে বাচ্চার পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে। এমতাবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

গরমে বাচ্চাদের আরেকটি কমন রোগ হল জলবসন্ত বা চিকেন পক্স। যে সব শিশুর বয়স এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে তারা এ রোগের ঝুঁকির মধ্যে থাকে। ছোট থাকতেই চিকেন পক্সের টিকা নিয়ে নিলে রোগটি হওয়ার আশংকা কমে যায়। এই রোগটি হলে শিশুর আলাদা যত্ন নেয়া উচিত। বাচ্চাকে নরম সুতি কাপড় পরানোর পাশাপাশি শরীর যথাসম্ভব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। এ রোগের ক্ষেত্রেও শিশুকে বেশি বেশি তরল খাবার খেতে দিন। বেশি বেশি পানি খাওয়ান। আর কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা যাবে না।

ঠাণ্ডার সমস্যা

প্রচণ্ড গরমে শিশুদের অনেক সময় ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। এর মূলে রয়েছে শিশুদের অতিরিক্ত ঘাম। গরমকালে শিশুরা অতিরিক্ত ঘামে। তাই নিয়মিত গোসল করানোর পাশাপাশি সব সময় তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। ঘেমে গেলে ভেজা পরিষ্কার কোনো কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন। ঠাণ্ডা থেকে অনেক সময় শিশুর মামস হতে পারে। এটা নিয়ে খুব বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। মামস এমনিতেই সেরে যায়। তবে অবস্থা খুব বেশি খারাপ মনে হলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি

অধিকাংশ শিশুর ক্ষেত্রেই এটা একটা কমন সমস্যা। ফুসকুড়ি হলে শরীর খুব চুলকায়। এই চুলকানি থেকে পরবর্তীকালে ঘা হয়ে যেতে পারে। ফুসকুড়ি থেকে রেহাই পেতে নিয়মিত গোসলের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। শরীরে ঘাম বা ময়লা হলে এই চুলকানি বেড়ে যেতে পারে। গোসল করানোর পর শরীরে পাউডার লাগিয়ে দিলে চুলকানি অনেকখানি কম হবে। চেষ্টা করুন, সারা দিনে বেশ কয়েকবার ভেজা কাপড় দিয়ে বাবুর শরীর মুছে দিতে। আর প্রত্যেকবার মুছে দেয়ার পর পাউডার লাগান। শিশুকে ডায়াপার পরানো হলে খেয়াল রাখুন এক ডায়াপার যেন খুব বেশিক্ষণ তার শরীরে না থাকে। ডায়াপারের কারণেও কোমরে ফুসকুড়ি হতে পারে। ভেজা ডায়াপার তৎক্ষণাৎ পাল্টে দিন। আর চেষ্টা করুন দিনের খানিকটা সময় ডায়াপার ছাড়া রাখতে।

গরমে শিশুকে ভালো রাখতে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই। নিয়মিত গোসল, খাওয়া-দাওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে শিশু এমনিতেই সুস্থ থাকবে।




 

 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র