¦
মির্জা আব্বাসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতির প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে করা এক মামলায় এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম তসরুজ্জামানের কোর্টে দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তৎকালীন যুগ্ম সচিব বিজন কান্তি সরকার, গৃহায়নের ট্রেজারার মুনছুর আলম এবং হিসাব সহকারী মতিয়ার রহমান। দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে- আসামিরা পরস্পরে যোগসাজশে সরকারি সম্পত্তি কম মূল্যে বরাদ্দ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন। মামলায় মোট ২১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত বছরের ৬ মার্চ শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। প্রতিবেদনে এজাহারভুক্ত আসামি সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসান, তৎকালীন উপ-পরিচালক (এস্টেট) বর্তমান সদস্য (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আজহারুল হককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকার ঢাকা সাংবাদিক বহুমুখী সমবায় সমিতিকে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে ৭ একর জমি বরাদ্দ দেয়। তখন জমির বাজার মূল্য ছিল ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা। এতে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পূর্বতন তদন্ত কর্মকর্তা যতন কুমার রায় তার প্রতিবেদনে মির্জা আব্বাস, আলমগীর কবিরসহ সংশ্লিষ্ট ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করেন। কিন্তু কমিশন মামলাটি পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত দেয়। মামলাটি পুনঃতদন্ত করেন দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসান। তদন্ত প্রক্রিয়ায় গত বছরের ১২ অক্টোবর নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। এর আগে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক তিন চেয়ারম্যান, সদস্য, পরিচালকসহ অন্তত ৩০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ২০০২ সালের ১৬ জুন থেকে ২০০৬ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির কোনো আবেদন ছাড়াই ঢাকায় বসবাসরত সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মী ও শিল্পীদের জন্য আবাসিক এলাকা স্থাপনের লক্ষ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে ডিও লেটার দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিবের কাছে পাঠান। পরে মির্জা আব্বাস ও আলমগীর কবির সরাসরি ভূমি বরাদ্দের নির্দেশ দেন। ওই প্লট ইতিপূর্বে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ঝিলমিল বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে। মির্জা আব্বাস ও আলমগীর কবির নোটশিটে ঝিলমিলের বরাদ্দ এবং নকশা বাতিল করেন। পরে ঢাকা সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের অনুকূলে ইজারা কিংবা লিজ বরাদ্দ দেন। অথচ জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা অনুযায়ী সরকারের কোনো মন্ত্রী সরাসরি কোনো নির্দেশ দিতে পারেন না, যা ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎসহ দণ্ডবিধিতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দ্বিতীয় সংস্করণ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close