¦
বান্দরবানে অপ্রতিরোধ্য পপি চাষ

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

জসীম চৌধুরী সবুজ, বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ফিরে
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বিশাল এলাকাজুড়ে সীমান্ত অরক্ষিত থাকায় এসব সন্ত্রাসী বান্দরবানের গহিন অরণ্যে ঢুকে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের বাধ্য করছে পপি চাষ করতে। চাপে পড়ে বা অতি মুনাফার প্রলোভনে পড়ে স্থানীয়রা সর্বনাশা মাদকের মূল উপাদান পপি চাষ চালিয়ে যাচ্ছে। ৬ বছর ধরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে একরের পর একর পপি চাষ ধ্বংস করলেও মাফিয়া চক্র স্থান পরিবর্তন করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পপির চাষাবাদ অব্যাহত রেখেছে। প্রতি বছরই সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে পপিক্ষেত চিহ্নিত করে ধ্বংস করছে। কিন্তু পপি চাষের নেপথ্য হোতা মিয়ানমারের সিন রাজ্যের উপজাতি সন্ত্রাসীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করে এমন সব দুর্গম অরণ্যে পপি চাষ করাচ্ছে যা খুঁজে বের করাও দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এসব বিদ্রোহী সন্ত্রাসীরা তাদের দল-উপদল চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ এলাকাকে চাষাবাদের জন্য বেছে নিয়েছে। সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এসব উৎপাদিত মাদক মিয়ানমারের সন্ত্রাসীরা থাইল্যান্ড লাওসজুড়ে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল বেল্টের মাদক মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে। এ পর্যন্ত বহু পপিক্ষেত ধ্বংস করা হলেও এর আসল হোতারা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। থানছি উপজেলায় রেমাক্রি ইউনিয়নের বুলুপাড়া, পানঝিড়ি, লিক্রি, সেপুপাড়া থেকে মোদক পর্যন্ত প্রায় ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মিয়ানমারের পেটের ভেতরে। তিনদিকেই মিয়ানমারের সীমান্ত। এর মধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ অরক্ষিত। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে প্রতি বছরের মতো এবারও বান্দরবান সীমান্তের গহিন অরণ্যে মাদকবিরোধী অপারেশন শুরু হয়েছে ৮ ফেব্র“য়ারি থেকে। চলবে আগামী ২১ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত। এবারে মোট ১৩ দশমিক ৭৯ একর জমিতে ৫৯টি পপিক্ষেত চিহ্নিত করা হয়েছে। ধ্বংস করার অপারেশন কাজ চলছে। এর মধ্যে সোমবার সাংবাদিকদের নিয়ে সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সীমান্তের দুর্গম অঞ্চলে পপিক্ষেত ধ্বংসের অপারেশন সরেজমিন পরিদর্শনকালে আরও ৬টি বড় পপিক্ষেত ধ্বংস করা হয়। সেনাবাহিনীর বান্দরবান ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী, আলীকদম জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার দেবদাস ভট্টাচার্য, বিজিবির বলিপাড়া জোন কমান্ডার লে. কর্নেল কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উঁচু-নিচু পাহাড় পর্বত খাল ঝিরি পার হয়ে একটি ক্ষেত থেকে আরেকটি ক্ষেতে যেতেও লেগে যায় দীর্ঘ সময়। যেসব দুর্গম এলাকায় এসব পপি চাষ হচ্ছে সেসব অঞ্চলে হেঁটে যাওয়ারও কোনো পথ নেই। ব্রি. জেনারেল নকিব আহমেদ চৌধুরী জানান, পপি চাষ এমন দুর্গম স্থানে করা হচ্ছে যার চারপাশ নলখাগড়া ও ঝোপজঙ্গলে পরিবেষ্টিত। সাঙ্গু নদীর অববাহিকা এলাকাকে পপি চাষের জন্য এরা বেছে নেয়। সেসব স্থান যৌথ বাহিনী চিহ্নিত করে ধ্বংস করার পর এবার তারা স্থান পরিবর্তন করে খাল ছড়া ঝিরি তীরবর্তী এলাকাগুলোকে বেছে নিয়েছে। অভিযান শুরুর পর সেনাসদস্যদের হেলিকপ্টার পাঠিয়ে দুর্গম এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প বসিয়ে খুঁজে বের করা হচ্ছে পপিক্ষেত। তারপর তা উপড়ে ফেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
দ্বিতীয় সংস্করণ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close