¦
ভিডিও ফুটেজ দেখে ৬ যুবক শনাক্ত

যুগান্তর রিপোর্ট | প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৫

পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনায় ছয়জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ থেকে ওই ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ওই ছয় বখাটের নাম জানা গেলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। শাহবাগ থানা পুলিশ বলেছে, ওই ছয়-চারজনের বাড়ি মিরপুর ও দুজন পুরান ঢাকার বলে জানা গেছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হতে পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। এদিকে পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারী লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত বখাটেদের শনাক্তে সহায়তা চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। নারী লাঞ্ছনার ঘটনাকে কথিত অপ্রীতিকর ঘটনা উল্লেখ করে শুক্রবার ডিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বখাটেদের ব্যাপারে তথ্য আহ্বান করা হয়। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ইব্রাহীম ফাতেমিকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিক) ওয়াই এম বেলালুর রহমান, ডিবি ডিসি (পূর্ব) শেখ নাজমুল আলম। অন্যদিকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিক ঘটনা ঘটতে পারে আগে থেকেই এমন আশংকা করেছিল সরকারের বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বিশেষ ওই সংস্থার রিপোর্টে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের বিশেষ শাখার ওই প্রতিবেদন তেমন একটা আমলে নেয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশের অবহেলা ছিল কিনা জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া যুগান্তরকে বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে। দায়িত্ব পালনে যদি কারও গাফেলতির প্রমাণ পাওয়া যায় তবে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নববর্ষকে বরণ করতে আসা নারীদের ওপর বখাটেদের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের অপসারণ দাবি করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
শাহবাগ থানা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৮টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি ক্যামেরার ফুটেজে নারী উত্ত্যক্তের দৃশ্য ধরা পড়ে। রমনা জোনের উপপুলিশ কমিশনার আবদুল বাতেন যুগান্তরকে বলেছেন, এসব ভিডিও ফুটেজে ২৫ থেকে ৩০ বখাটেকে সংঘবদ্ধ হয়ে কিছু তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতে দেখা গেছে। তাদের সবার মাথায় ছিল লাল গামছা বাঁধা আর হাতে ছিল ভুভুজেলা নামে এক ধরনের বিশেষ বাঁশি।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, দু-একটি স্থানে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি এবং একটি স্থানে এক তরুণীর হাত ধরে টানাটানি করতে দেখা যায়। পরবর্তী সময় ওই তরুণীর ওড়না ধরেও টান দেয় এক বখাটে। তবে মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে ছয় তরুণীকে বিবস্ত্র করার মতো কোনো দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পাওয়া যায়নি। এগুলো উত্ত্যক্তের পর্যায়ে পড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই বখাটেদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শাহবাগ থানা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, শনাক্ত করা ছয় বখাটের মধ্যে রাজু, কামাল ও সিরাজ নামে তিনজনের নাম জানা গেছে। এদের প্রথম দুজন পুরান ঢাকার এবং বাকি একজন মিরপুরের বাসিন্দা। এ তিনজনকে গ্রেফতারে ইতিমধ্যেই অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া বাকি তিনজনের ব্যাপারে বিস্তারিত পরিচয় জানতে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।
এদিকে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের উপপুলিশ কমিশনার (রমনা) ০১৭১৩-৩৭৩১২০, উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ০১৭১১৬০৫১৪৯, অতি. উপপুলিশ কমিশনার (রমনা) ০১৭১৩-৩৭৩১২১, সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ০১৭১১৬০৫১৪৫ এবং শাহবাগ থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে পহেলা বৈশাখের ওই ঘটনার চারদিন পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা চানিয়েছেন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। শুক্রবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীর পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের অপসারণ দাবি করা হয়। ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী তার বক্তব্যে বলেন, যে প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে পারে না, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে পারে না তার ওই পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে অবিলম্বে প্রক্টরের অপসারণ ছাড়াও যৌন নিপীড়নকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, কর্তব্যরত পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার বিচার, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত. উচ্চ আদালত নির্দেশিত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এসব দাবি আদায়ের জন্য ১৮ এপ্রিল দুপুর ১২টায় মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন, ১৯ এপ্রিল সারা দেশে বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ, ২০ এপ্রিল সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলা থেকে কার্জন হল পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ২১ এপ্রিল সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ করার কর্মসূচি দেয়া হয়। এছাড়া ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। বেলা ১১টার দিকে রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করে ইউনাইটেড ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যান্ড স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠন। সকাল সাড়ে ১১টায় রাজু ভাস্কর্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ ব্যানারে বৈশাখ উৎসবে বখাটেপনার বিরুদ্ধে কার্টুন মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়।
এদিকে বস্ত্রহরণের ঘটনায় ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদ জানান, ভিডিও ফুটেজে যাদের ছবি চিহ্নিত করা হয়েছে তাদের ছবি আজকালের মধ্যে আমার হাতে আসবে। ফুটেজগুলো এলে টিভি কিংবা পোস্টারিংয়ের মাধ্যমে বখাটেদের চিহ্নিত করতে প্রচার চালানো হবে এবং তাদের ধরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হবে। এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি যুগান্তরকে জানান।
গত মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কয়েকজন তরুণীকে শ্লীলতাহানির ছবি প্রকাশ করায় দেশজুড়ে তোলাপাড় শুরু হয়। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনও তৎপর হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে স্থাপন করা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বখাটেদের শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা যুবকদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-২৫।
দ্বিতীয় সংস্করণ পাতার আরো খবর
৭ দিনের প্রধান শিরোনাম

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

Developed by
close
close