jugantor
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারি সংলাপ শুরু আজ
ঢাকা সফরে রাজনৈতিক ইস্যু তুলবেন ওয়েন্ডি
ভোট কারচুপি ও সহিংসতা সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করেছে : ইইউ

  মাসুদ করিম  

৩০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ঢাকা সফরে ওয়েন্ডি শারম্যান সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ অংশীদারি সংলাপে যোগ দিতে আজ ঢাকায় আসছেন। তার অন্যান্য সফরসঙ্গীর মধ্যে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।

জানা গেছে দু’দিনব্যাপী অংশীদারি সংলাপে অংশ নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য আলোচনায় বসতে পারেন মার্কিন এ দুই কর্মকর্তা। দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেয়ার পর এ সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার মাধ্যমে সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করেছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘ওয়েন্ডি শারম্যান বাংলাদেশ সরকার ও অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত ইস্যু উত্থাপন করবেন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শারম্যান ২৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসবেন’। রাষ্ট্রদূত শারম্যান ভারত সফরকালে নেপালে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আঞ্চলিক প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, শারম্যান ও নিশার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে চলতি বছরের মধ্যেই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে। একই সঙ্গে তিন সিটি নির্বাচনে কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল সংঘর্ষের বিষয়গুলোও উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, মার্কিন দুই কর্মকর্তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিএনপির বর্জন এবং কারচুপির বিষয় তুলতে পারেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনের পর ভবিষ্যতে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনার টেবিলে টেনে আনতে পারেন।

ভোটের দিনই ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন সিটি নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতায় হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচন বর্জনেও হতাশ দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে সহিংসতার না করারও আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন পৃথকভাবে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করার দাবি করেছেন। এ প্রতিক্রিয়াগুলো দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের কিছুটা এগিয়ে দেবে।

ওয়েন্ডি শারম্যানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ছাড়াও নিকট প্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান পিটারসন এবং আফ্রিকা সংক্রান্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড। ওয়েন্ডি শারম্যান গত বছরের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে তৃতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারি সংলাপে তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশে দু’দিনব্যাপী নিয়মিত অংশীদারি সংলাপ আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সংলাপ সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ৩০ এপ্রিল ও ১ মে তারিখে যে চতুর্থ অংশীদারি সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্ডার সেক্রেটারি শারম্যান সেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। অংশীদারি সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। অংশীদারি সংলাপে জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাতে পারে বাংলাদেশ। মার্কিন দূতাবাস জানায়, উন্নয়ন ও সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য অংশীদারি সংলাপটি সর্বোচ্চ ফোরাম।

তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরকালে নিয়মিত অংশীদারি সংলাপ করার বিষয়ে চুক্তি সই করেন। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের বিষয়ে অংশীদারি সংলাপে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা হয়ে থাকে। এবারের সংলাপে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাতে পারে। এছাড়াও এবারের আলোচনাতেও বরাবরের মতোই উন্নয়ন ও শাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে প্রথম তিনটি কর্ম অধিবেশনে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এবারের অংশীদারি সংলাপে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক সমন্বয়, নীল অর্থনীতি, জ্বালানি সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, সন্ত্রাস দমন, সাইবার ক্রাইম দমনে সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়ে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে সমুদ্রসীমায় পাহারা জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়টি আসতে পারে। নিরাপত্তা সহযোগিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেয়া ‘সমুদ্র জয়’ নামের জাহাজের পর চলতি ২০১৫ সালে ‘রাশ’ নামের আরেকটি জাহাজ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘স্পেশাল ওয়ারফ্যায়র অ্যান্ড ডিভাইয়িং সালভেজ’ (সোয়াদ) ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর ‘প্যারা কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন’ (পিসিবি)সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইইউ’র বিবৃতি : ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২৮ এপ্রিল ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা ঘটিয়ে সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে’।

বিবৃতিতে ইইউ আরও বলেছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন বর্জন করার জন্য বিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভোটারদেও তাদের পরিপূর্ণ পছন্দ প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয়নি’।

ইইউ বিবৃতিতে অনিয়ম ও সহিংসতা নিবিড়ভাবে তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইইউ আশা করে সব রাজনৈতিক পক্ষ সহিংসতা থেকে বিরত থাকবে, উত্তেজনা নিরসন করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে’।



সাবমিট
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারি সংলাপ শুরু আজ

ঢাকা সফরে রাজনৈতিক ইস্যু তুলবেন ওয়েন্ডি

ভোট কারচুপি ও সহিংসতা সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করেছে : ইইউ
 মাসুদ করিম 
৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ঢাকা সফরে ওয়েন্ডি শারম্যান সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শারম্যান বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চতুর্থ অংশীদারি সংলাপে যোগ দিতে আজ ঢাকায় আসছেন। তার অন্যান্য সফরসঙ্গীর মধ্যে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল।

জানা গেছে দু’দিনব্যাপী অংশীদারি সংলাপে অংশ নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য আলোচনায় বসতে পারেন মার্কিন এ দুই কর্মকর্তা। দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রাধান্য পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেয়ার পর এ সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সহিংসতার মাধ্যমে সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করেছে।

বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘ওয়েন্ডি শারম্যান বাংলাদেশ সরকার ও অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত ইস্যু উত্থাপন করবেন’। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘শারম্যান ২৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসবেন’। রাষ্ট্রদূত শারম্যান ভারত সফরকালে নেপালে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে আঞ্চলিক প্রচেষ্টাসহ অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, শারম্যান ও নিশার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে চলতি বছরের মধ্যেই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানকে সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে। একই সঙ্গে তিন সিটি নির্বাচনে কারচুপি, ব্যালট ছিনতাই, কেন্দ্র দখল সংঘর্ষের বিষয়গুলোও উপস্থাপন করা হবে। জানা গেছে, মার্কিন দুই কর্মকর্তাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিএনপির বর্জন এবং কারচুপির বিষয় তুলতে পারেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্নবিদ্ধ সিটি নির্বাচনের পর ভবিষ্যতে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনার টেবিলে টেনে আনতে পারেন।

ভোটের দিনই ঢাকা ও চট্টগ্রামে তিন সিটি নির্বাচনে ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতায় হতাশা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচন বর্জনেও হতাশ দেশটি। যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে সহিংসতার না করারও আহ্বান জানিয়েছে। প্রায় একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাজ্য। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন পৃথকভাবে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করার দাবি করেছেন। এ প্রতিক্রিয়াগুলো দুই নেত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন কর্মকর্তাদের কিছুটা এগিয়ে দেবে।

ওয়েন্ডি শারম্যানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ছাড়াও নিকট প্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান পিটারসন এবং আফ্রিকা সংক্রান্ত মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন্ডা টমাস-গ্রিনফিল্ড। ওয়েন্ডি শারম্যান গত বছরের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে তৃতীয় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারি সংলাপে তার দেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশে দু’দিনব্যাপী নিয়মিত অংশীদারি সংলাপ আজ ঢাকায় শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ সংলাপ সকাল ১০টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ৩০ এপ্রিল ও ১ মে তারিখে যে চতুর্থ অংশীদারি সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্ডার সেক্রেটারি শারম্যান সেখানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। অংশীদারি সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। অংশীদারি সংলাপে জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাতে পারে বাংলাদেশ। মার্কিন দূতাবাস জানায়, উন্নয়ন ও সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য অংশীদারি সংলাপটি সর্বোচ্চ ফোরাম।

তদানীন্তন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ২০১২ সালে বাংলাদেশ সফরকালে নিয়মিত অংশীদারি সংলাপ করার বিষয়ে চুক্তি সই করেন। বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের বিষয়ে অংশীদারি সংলাপে নিয়মিত খোলামেলা আলোচনা হয়ে থাকে। এবারের সংলাপে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানাতে পারে। এছাড়াও এবারের আলোচনাতেও বরাবরের মতোই উন্নয়ন ও শাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে প্রথম তিনটি কর্ম অধিবেশনে আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এবারের অংশীদারি সংলাপে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, আঞ্চলিক সমন্বয়, নীল অর্থনীতি, জ্বালানি সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, সন্ত্রাস দমন, সাইবার ক্রাইম দমনে সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়ে গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে সমুদ্রসীমায় পাহারা জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার বিষয়টি আসতে পারে। নিরাপত্তা সহযোগিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেয়া ‘সমুদ্র জয়’ নামের জাহাজের পর চলতি ২০১৫ সালে ‘রাশ’ নামের আরেকটি জাহাজ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ‘স্পেশাল ওয়ারফ্যায়র অ্যান্ড ডিভাইয়িং সালভেজ’ (সোয়াদ) ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর ‘প্যারা কমান্ডো ব্যাটেলিয়ন’ (পিসিবি)সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইইউ’র বিবৃতি : ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুখপাত্র বাংলাদেশ সময় বুধবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান সত্ত্বেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২৮ এপ্রিল ভোট কারচুপি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতা ঘটিয়ে সিটি নির্বাচনকে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্ট রয়েছে’।

বিবৃতিতে ইইউ আরও বলেছে, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচন বর্জন করার জন্য বিলম্বে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভোটারদেও তাদের পরিপূর্ণ পছন্দ প্রকাশের সুযোগ দেয়া হয়নি’।

ইইউ বিবৃতিতে অনিয়ম ও সহিংসতা নিবিড়ভাবে তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইইউ আশা করে সব রাজনৈতিক পক্ষ সহিংসতা থেকে বিরত থাকবে, উত্তেজনা নিরসন করবে এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকবে’।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র