jugantor
কামরাঙ্গীরচরে দু’মেয়েসহ বাবার আত্মহত্যা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ঘরের মধ্যে একটি বেডে বাবা ও দুই মেয়ের লাশ পাশাপাশি। মাথা বালিশের ওপর। তাদের প্রত্যেকের হাতে ও পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো। বাবার দু’হাত নিজের বুকে রাখা। হাতের মুঠোয় বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড। হাতে-পায়ে এভাবে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে স্পৃষ্ট হয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা বাবুল। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ওই বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই মেয়ে জান্নাতি (১২) ও মিমকে (৯) নিয়ে বাবার আত্মহত্যার খবর শুনে শত শত মানুষ তাদের দেখতে ভিড় জমায় সেখানে। পুলিশ বলছে, স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে দুই মেয়েকে নিয়ে দরিদ্র বাবুল আত্মহত্যা করেছেন। বিহারি বাবুল পেশায় চা দোকানি ও ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, বাবুলের বাবা-মা থাকেন মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে। তারা বিহারি। কয়েক বছর আগে বাবুল স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের মধ্য রসুলপুর রনিমার্কেট এলাকায় একটি টিনশেডে ভাড়ায় ওঠেন। চা দোকান ও ইলেকট্রিক কাজ করে সংসার চালাতেন বাবুল।

অভাব-অনটনের সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে কয়েকদিন আগে স্ত্রী সখিনা বাবার বাড়ি চলে যান। দুই মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন বাবুল। প্রতিবেশীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইরে থেকে বাসায় আসেন বাবুল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। তারা প্রতিদিন খুব সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন। কিন্তু বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত তাদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা দরজা ধাক্কালে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে টিনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন বাবা ও দুই মেয়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো অবস্থায় বেডে পড়ে রয়েছে। তারা কামরাঙ্গীরচর থানায় খবর দেন। থানার এসআই শাহাজাহান বিকাল সাড়ে ৩টায় লাশ উদ্ধার করেন।

এসআই শাহজাহান জানান, একটা বেডের ওপর পূর্বদিকে মাথা পাশাপাশি করে বাবা ও দুই মেয়ে শোয়া অবস্থায় ছিল। প্রথমে ছিল বাবা, এরপর ছোট মেয়ে মিম ও বড় মেয়ে জান্নাতি। বাবুলের ডান হাতে, ডান পায়ে, মিমের বাম হাতে, ডান পায়ে এবং জান্নাতির ডান হাতে ও ডান পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো ছিল।

বাবুলের বুকে হাত রাখা অবস্থায় সুইচ বোর্ড ছিল। তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই মেয়ে ঘুমানোর পর বাবা বাবুল তাদের হাতে-পায়ে এবং নিজের হাতে-পায়ে এভাবে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আত্মহত্যা করে। পারিবারিক কলহের কারণে এই আত্মহননের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এর আগেও বাবুল কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। দুই মেয়েসহ বাবুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) মর্গে পাঠানো হয়েছে।



সাবমিট

কামরাঙ্গীরচরে দু’মেয়েসহ বাবার আত্মহত্যা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ঘরের মধ্যে একটি বেডে বাবা ও দুই মেয়ের লাশ পাশাপাশি। মাথা বালিশের ওপর। তাদের প্রত্যেকের হাতে ও পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো। বাবার দু’হাত নিজের বুকে রাখা। হাতের মুঠোয় বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড। হাতে-পায়ে এভাবে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে স্পৃষ্ট হয়ে দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বাবা বাবুল। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ওই বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই মেয়ে জান্নাতি (১২) ও মিমকে (৯) নিয়ে বাবার আত্মহত্যার খবর শুনে শত শত মানুষ তাদের দেখতে ভিড় জমায় সেখানে। পুলিশ বলছে, স্ত্রীর সঙ্গে কলহের জেরে দুই মেয়েকে নিয়ে দরিদ্র বাবুল আত্মহত্যা করেছেন। বিহারি বাবুল পেশায় চা দোকানি ও ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানিয়েছে, বাবুলের বাবা-মা থাকেন মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পে। তারা বিহারি। কয়েক বছর আগে বাবুল স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের মধ্য রসুলপুর রনিমার্কেট এলাকায় একটি টিনশেডে ভাড়ায় ওঠেন। চা দোকান ও ইলেকট্রিক কাজ করে সংসার চালাতেন বাবুল।

অভাব-অনটনের সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঝগড়ার একপর্যায়ে কয়েকদিন আগে স্ত্রী সখিনা বাবার বাড়ি চলে যান। দুই মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় থাকতেন বাবুল। প্রতিবেশীদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাইরে থেকে বাসায় আসেন বাবুল। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই মেয়েকে নিয়ে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়েন। তারা প্রতিদিন খুব সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন। কিন্তু বুধবার বেলা ১২টা পর্যন্ত তাদের ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপর তারা দরজা ধাক্কালে ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে টিনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন বাবা ও দুই মেয়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো অবস্থায় বেডে পড়ে রয়েছে। তারা কামরাঙ্গীরচর থানায় খবর দেন। থানার এসআই শাহাজাহান বিকাল সাড়ে ৩টায় লাশ উদ্ধার করেন।

এসআই শাহজাহান জানান, একটা বেডের ওপর পূর্বদিকে মাথা পাশাপাশি করে বাবা ও দুই মেয়ে শোয়া অবস্থায় ছিল। প্রথমে ছিল বাবা, এরপর ছোট মেয়ে মিম ও বড় মেয়ে জান্নাতি। বাবুলের ডান হাতে, ডান পায়ে, মিমের বাম হাতে, ডান পায়ে এবং জান্নাতির ডান হাতে ও ডান পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়ানো ছিল।

বাবুলের বুকে হাত রাখা অবস্থায় সুইচ বোর্ড ছিল। তিনি আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, দুই মেয়ে ঘুমানোর পর বাবা বাবুল তাদের হাতে-পায়ে এবং নিজের হাতে-পায়ে এভাবে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আত্মহত্যা করে। পারিবারিক কলহের কারণে এই আত্মহননের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা। এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। এর আগেও বাবুল কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গেছে। দুই মেয়েসহ বাবুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) মর্গে পাঠানো হয়েছে।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র