jugantor
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি রাজনৈতিক সহিংসতা : মুডিস

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

দেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি রাজনৈতিক সহিংসতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয় কমছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস এ তথ্য দিয়েছে। তবে সংস্থাটি এ বছরও বাংলাদেশকে ‘বিএ-৩’ রেটিং দিয়েছে। এ রেটিংয়ের অর্থ হল, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের আর্থিক ও লেনদেনের ভারসাম্যে জোরালো এবং যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার সংস্থাটি এ রেটিং প্রকাশ করেছে।

মুডিস বলেছে, ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের জিডিপি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এ বছর প্রবৃদ্ধির এ রকম হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বমন্দার মুখোমুখি হলে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। সংস্থাটির মতে, বাজেট ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ নয়। তবে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বল ভিত্তির কারণে অর্থায়নে সমস্যা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছে। এটি সম্ভব হলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

আন্তর্জাতিক এ সংস্থার মতে, বাংলাদেশের বড় সমস্যা ক্ষমতাশীল এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির রেটিং খারাপ হচ্ছে। এরপরও ষষ্ঠবারের মতো বিএ-৩ মান ধরে রেখেছে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ, রাজস্ব আয়ের দুর্বল ভিত্তি এবং মাথাপিছু আয় খুব কম হওয়ায় রেটিংয়ের মান কমিয়ে দিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারিতে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, চলমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাÍক প্রভাব ফেলছে। এর আগেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

তবে অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব ছিল স্বল্পমেয়াদি। কিন্তু এবার বিক্ষোভের সঙ্গে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে খুব একটা পড়তে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটি দুর্বল হতে শুরু করেছে। আর রাজনৈতিক সহিংসতায় আইএমএফের ঋণের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার বিষয়টিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সভরেন ক্রেডিট রেটিং বা সার্বভৌম ঋণমান হল একটি বিশেষ ধরনের সূচক। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঋণ সহায়তা পেতে মুডিসের রেটিং মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে কারণে সরকার রেটিং মূল্যায়নের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। আগের বছর সংস্থাটি বাংলাদেশকে ‘বিএ-৩’ রেটিং দিয়েছিল।

এর অর্থ হল এ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা আগামীতে বজায় থাকবে। ফলে ঋণ ফেরত দেয়ার সক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি নেই। ফলে বাংলাদেশ বন্ড ছেড়ে বিশ্ববাজার থেকে ঋণ নিলে নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে তা ফেরত দিতে সক্ষম।



সাবমিট

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি রাজনৈতিক সহিংসতা : মুডিস

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
দেশের অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকি রাজনৈতিক সহিংসতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয় কমছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস এ তথ্য দিয়েছে। তবে সংস্থাটি এ বছরও বাংলাদেশকে ‘বিএ-৩’ রেটিং দিয়েছে। এ রেটিংয়ের অর্থ হল, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের আর্থিক ও লেনদেনের ভারসাম্যে জোরালো এবং যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রয়েছে। বুধবার সংস্থাটি এ রেটিং প্রকাশ করেছে।

মুডিস বলেছে, ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের জিডিপি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। এ বছর প্রবৃদ্ধির এ রকম হবে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বমন্দার মুখোমুখি হলে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। সংস্থাটির মতে, বাজেট ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ নয়। তবে রাজস্ব সংগ্রহের দুর্বল ভিত্তির কারণে অর্থায়নে সমস্যা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের রাজস্ব কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসছে। এটি সম্ভব হলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

আন্তর্জাতিক এ সংস্থার মতে, বাংলাদেশের বড় সমস্যা ক্ষমতাশীল এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ও সহিংসতা। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতির রেটিং খারাপ হচ্ছে। এরপরও ষষ্ঠবারের মতো বিএ-৩ মান ধরে রেখেছে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশ, রাজস্ব আয়ের দুর্বল ভিত্তি এবং মাথাপিছু আয় খুব কম হওয়ায় রেটিংয়ের মান কমিয়ে দিয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ফেব্র“য়ারিতে এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, চলমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাÍক প্রভাব ফেলছে। এর আগেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

তবে অর্থনীতির ওপর তার প্রভাব ছিল স্বল্পমেয়াদি। কিন্তু এবার বিক্ষোভের সঙ্গে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে খুব একটা পড়তে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার গুরুত্বপূর্ণ এ খাতটি দুর্বল হতে শুরু করেছে। আর রাজনৈতিক সহিংসতায় আইএমএফের ঋণের শর্ত অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার বিষয়টিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সভরেন ক্রেডিট রেটিং বা সার্বভৌম ঋণমান হল একটি বিশেষ ধরনের সূচক। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঋণ সহায়তা পেতে মুডিসের রেটিং মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যে কারণে সরকার রেটিং মূল্যায়নের ব্যাপারে বেশ আগ্রহী। আগের বছর সংস্থাটি বাংলাদেশকে ‘বিএ-৩’ রেটিং দিয়েছিল।

এর অর্থ হল এ দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা আগামীতে বজায় থাকবে। ফলে ঋণ ফেরত দেয়ার সক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি নেই। ফলে বাংলাদেশ বন্ড ছেড়ে বিশ্ববাজার থেকে ঋণ নিলে নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে তা ফেরত দিতে সক্ষম।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র