jugantor
দুর্যোগে বাংলাদেশ-নেপালের বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ এপ্রিল ২০১৫, ০০:০০:০০  | 

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এ দেশটির আয় কমবে। এতে তাদের বিলাসী পণ্যের ব্যবহার কমে যাবে। ফলে সাময়িকভাবে রফতানি কিছুটা কমবে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব বেশি নয়। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমলেও সামগ্রিকভাবে দেশের রফতানি তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে দেশের অর্থনীতিবিদ এবং রফতানিকারক সংগঠনগুলোর নেতারা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, সাময়িকভাবে কিছু পণ্যের রফতানি কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

ভূমিকম্পে ক্ষতি : সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে দেশটির ৮০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- যা প্রায় তাদের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। এরমধ্যে নিহত হয়েছে ৫ হাজার ও আহত ১০ হাজার। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না নিলে পর্যটননির্ভর এ দেশটি সাময়িক বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে- যা তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমিয়ে দেবে।

নেপালের আর্থিক অবস্থা : অর্থনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে দরিদ্র দেশ নেপাল। আয়তন ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার- যা প্রায় বাংলাদেশের কাছাকাছি। ধর্মীয় দিক থেকে শতভাগ হিন্দুর এ দেশটির মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লাখ। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৮ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাংলাদেশের জিডিপি ১৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। নেপালের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ১শ’ ডলার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ। আয়ের মূল খাত পর্যটনের পরে রয়েছে হস্তশিল্প, কৃষি এবং পানিসম্পদ।

বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র তথ্য অনুসারে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল ৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৮১ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে নেপালে রফতানি হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। বিপরীতে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পণ্য। আলোচ্য সময়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রফতানি হয় : এফবিসিসিআই’র তথ্য অনুসারে নেপালে বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রফতানি হয় এরমধ্যে রয়েছে- কাঁচা পাট, কৃষি পণ্য, রাসায়নিক পণ্য, নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্ট, ব্যাটারি, ওষুধ, কার্বন, ফেব্রিকস, সিমেন্ট, গ্লাসসিট, বাইসাইকেল, প্লাস্টিক হ্যাঙ্গার, ফার্নেস অয়েল, শুকনা খাবার, জামদানি শাড়ি, ব্লেড, লেদার ফুটওয়্যার, জুস, হিমায়িত মাছ, বিস্কুট এবং সিরামিকের ইট।

নেপাল থেকে যেসব পণ্য আমদানি হয় : অন্যদিকে যেসব পণ্য আমদানি হয়, এরমধ্যে রয়েছে- ভেজিটেবল পণ্য, বেভারেজ, স্পিরিট অ্যান্ড ভিনেগার, তামাক, জীবিত বিভিন্ন প্রাণী, চামড়াজাত পণ্য, এয়ারক্র্যাফট এবং বিভিন্ন পরিবহনের যন্ত্রাংশ।

রফতানিকারকদের বক্তব্য : এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, নেপালের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য খুব বেশি নয়। তবে কিছু কিছু পণ্য রফতানি হয়। তাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পণ্যে কিছুটা প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে রফতানি কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের পর্যটন। এতে দেশটির আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দ্রুত দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবে এটাই কামনা।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত : এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব বেশি নয়। ফলে সামগ্রিকভাবে রফতানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে এর প্রভাব পড়বে। আর চেষ্টা করলে দীর্ঘ মেয়াদে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।



সাবমিট

দুর্যোগে বাংলাদেশ-নেপালের বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ এপ্রিল ২০১৫, ১২:০০ এএম  | 
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এ দেশটির আয় কমবে। এতে তাদের বিলাসী পণ্যের ব্যবহার কমে যাবে। ফলে সাময়িকভাবে রফতানি কিছুটা কমবে। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব বেশি নয়। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কমলেও সামগ্রিকভাবে দেশের রফতানি তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে দেশের অর্থনীতিবিদ এবং রফতানিকারক সংগঠনগুলোর নেতারা এসব কথা বলেন। তাদের মতে, সাময়িকভাবে কিছু পণ্যের রফতানি কমলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে।

ভূমিকম্পে ক্ষতি : সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে দেশটির ৮০ লাখ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- যা প্রায় তাদের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। এরমধ্যে নিহত হয়েছে ৫ হাজার ও আহত ১০ হাজার। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে না নিলে পর্যটননির্ভর এ দেশটি সাময়িক বিকলাঙ্গ হয়ে যাবে- যা তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমিয়ে দেবে।

নেপালের আর্থিক অবস্থা : অর্থনৈতিক বিবেচনায় বাংলাদেশের চেয়ে দরিদ্র দেশ নেপাল। আয়তন ১ লাখ ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার- যা প্রায় বাংলাদেশের কাছাকাছি। ধর্মীয় দিক থেকে শতভাগ হিন্দুর এ দেশটির মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ৮৮ লাখ। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২৮ বিলিয়ন ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বাংলাদেশের জিডিপি ১৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। নেপালের মাথাপিছু জিডিপি ১ হাজার ১শ’ ডলার। আর জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ। আয়ের মূল খাত পর্যটনের পরে রয়েছে হস্তশিল্প, কৃষি এবং পানিসম্পদ।

বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য : ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র তথ্য অনুসারে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল ৩ কোটি ৫২ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৮১ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ থেকে নেপালে রফতানি হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। বিপরীতে নেপাল থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ডলারের পণ্য। আলোচ্য সময়ে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ৭৮ লাখ ৪০ হাজার ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রফতানি হয় : এফবিসিসিআই’র তথ্য অনুসারে নেপালে বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রফতানি হয় এরমধ্যে রয়েছে- কাঁচা পাট, কৃষি পণ্য, রাসায়নিক পণ্য, নিটওয়্যার, ওভেন গার্মেন্ট, ব্যাটারি, ওষুধ, কার্বন, ফেব্রিকস, সিমেন্ট, গ্লাসসিট, বাইসাইকেল, প্লাস্টিক হ্যাঙ্গার, ফার্নেস অয়েল, শুকনা খাবার, জামদানি শাড়ি, ব্লেড, লেদার ফুটওয়্যার, জুস, হিমায়িত মাছ, বিস্কুট এবং সিরামিকের ইট।

নেপাল থেকে যেসব পণ্য আমদানি হয় : অন্যদিকে যেসব পণ্য আমদানি হয়, এরমধ্যে রয়েছে- ভেজিটেবল পণ্য, বেভারেজ, স্পিরিট অ্যান্ড ভিনেগার, তামাক, জীবিত বিভিন্ন প্রাণী, চামড়াজাত পণ্য, এয়ারক্র্যাফট এবং বিভিন্ন পরিবহনের যন্ত্রাংশ।

রফতানিকারকদের বক্তব্য : এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী যুগান্তরকে বলেন, নেপালের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য খুব বেশি নয়। তবে কিছু কিছু পণ্য রফতানি হয়। তাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পণ্যে কিছুটা প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে রফতানি কিছুটা কমতে পারে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের পর্যটন। এতে দেশটির আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসছে। ফলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দ্রুত দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে পারবে এটাই কামনা।

অর্থনীতিবিদদের অভিমত : এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক খুব বেশি নয়। ফলে সামগ্রিকভাবে রফতানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে এর প্রভাব পড়বে। আর চেষ্টা করলে দীর্ঘ মেয়াদে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।



 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র